পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার পবিত্রতা রক্ষায় নজর নেই কারো


পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নানা কর্মপরিকল্পনা থাকলেও পবিত্রতা রক্ষায় কোনো ব্যবস্থা নেই। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসেও আগের মতোই চলছে মদের বারগুলো। আবাসিক হোটেলকেন্দ্রিক অসামাজিক কর্মকাণ্ডও বন্ধ হয়নি। বন্ধ হয়নি বিভিন্ন কাবের জুয়া ও মদের আসর। এমনকি বাসাবাড়িতেও চলছে জুয়া ও মদের আসর। যার কারণে আবাসিক এলাকার মানুষও চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। রাস্তাঘাট, পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রে চলছে বেলেল্লাপনা। ফাইভস্টার হোটেলসহ বেশকিছু হোটেল-রেস্তোরাঁয় রাতে নানা নামে আয়োজন হচ্ছে পার্টির। কোথাও কোথাও দিনে-রাতে প্রকাশ্যে মাদক সেবন চলছে । ২০১২ সালের পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উপলক্ষে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এক সংবাদ সম্মেলনে সিনেমা হলের অশ্লীল পোস্টার অপসারণ এবং সাইবার ক্যাফেগুলোতে অশ্লীল ছবি ডাউনলোড না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সাইবার ক্যাফে মালিক সমিতিকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এ বছর তার কাছ থেকে এ ধরনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বছর পবিত্র রমাদ্বান শরীফে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও যানজট নিরসনে পুলিশকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিলেও পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার পবিত্রতা রক্ষায় পুলিশকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি বলে জানা গেছে। অপর দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পক্ষ থেকেও পবিত্রতা রক্ষায় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যার কারণে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস এলে সাধারণ নিয়মেই চলছে বার ও বিভিন্ন মাদকস্পটগুলো। পুলিশ ও র‌্যাবের বিভিন্ন সূত্র থেকে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার পবিত্রতা রক্ষার কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়নে বিশেষ কোনো আয়োজন নেই। এমনকি মদের বার ও আবাসিক হোটেলগুলোর ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। ফলে আগের মতোই চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ। সূত্র মতে, রাজধানীর বারিধারা-বনানী, গুলশান ও উত্তরা এলাকার দেড় শতাধিক গেস্ট হাউজে রাতে চলে মদ, জুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপ। অনেক হোটেল-রেস্তোরাঁয় চলে পার্টির নামে বেলেল্লাপনা। এসব পার্টিতে দেশী-বিদেশী অনেক তরুণীকে দেখা যায়। চার শতাধিক হোটেলের পাশাপাশি দুই সহস্রাধিক রেস্তোরাঁ, বিউটি পার্লার, ম্যাসেজ পার্লার, কাব, বার, রেস্ট হাউজ, ফ্যাট ও বাসাবাড়িতে চলছে মাদক ব্যবসায় ও অসামাজিক কার্যকলাপ। সূত্র জানায়, এসব স্থানে বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর কিছু মানুষ, এমনকি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অনেক ঊর্ধ্বতন কর্তাও নিয়মিত যাতায়াত করে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী মদের বারগুলো রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার কথা থাকলেও গভীর রাত পর্যন্ত তা খোলা থাকছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে না। বার, রেস্তোরাঁ ও কাবগুলোতে যে পরিমাণ মদ রাখা ও বিক্রির অনুমোদন রয়েছে তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি মদ তারা রাখছে ও বিক্রি করছে। লাইসেন্সধারী ছাড়া মদ বিক্রি নিষেধ থাকলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান তা মানছে না। আবাসিক হোটেলগুলো থেকে নিয়মিত টাকা দেয়া হচ্ছে পুলিশকে। ফলে ওগুলোর প্রতি কোনো নজর নেই পুলিশের। এসব ব্যাপারে ঢাকার পুলিশ কমিশনারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়াও রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, জিয়া উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেন, বলদা গার্ডেন, সংসদ ভবন এলাকা এবং আশুলিয়াসহ রাজধানী ও এর পাশের পার্ক, বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে প্রকাশ্যেই। এমনকি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের চোখের সামনে চলছে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ঢাকা অঞ্চলের এক কর্মকর্তা জানান, পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উপলক্ষে মদের বারগুলোর ব্যাপারে বিশেষ কোনো নির্দেশনা নেই। সাধারণ নিয়মেই ওগুলো চলছে। সরকারের উচিত এই পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উপলক্ষে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ ‍উনার পবিত্রতা রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+