পবিত্র রমাদ্বান শরীফ হচ্ছেন- পবিত্র যাকাত উনার মাস।


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা পরস্পর পরস্পরকে নেকী ও পরহেযগারীর মধ্যে সাহায্য-সহযোগীতা করো, পাপ ও নাফরমানীর মধ্যে সাহায্য-সহযোগীতা করো না।’ সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ হচ্ছেন- পবিত্র যাকাত উনার মাস। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে সংগৃহীত যাকাত-ফিতরা দ্বারা প্রায় সারা বছর মাদরাসাগুলো পরিচালিত হয়। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে লকডাউন বহাল থাকলে মাদরাসাগুলো যাকাত-ফিতরা থেকে বঞ্চিত হবে নিঃসন্দেহে। ফলে মাদরাসাগুলোই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে।
তাই সরকারের উচিৎ- পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস আসার আগেই লকডাউন তুলে নেয়া। নচেৎ জনগণ এটাকে মাদরাসা বন্ধের ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখবে।
– ক্বওল শরীফ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম
যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহাপবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার হক্ব ও ফযীলত সম্পর্কে বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র শা’বান শরীফ মাস উনার শেষ দিন আমাদের নিকট খুতবা মুবারক দিতেন বা ওয়াজ শরীফ করতেন। (উক্ত খুতবা মুবারক-এ) তিনি বলেন, “হে লোক সকল! নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট এক মহান মাস (মহাপবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস) উপস্থিত। যে মাসটি অত্যন্ত বরকতময় এ মাসে এমন একটি মুবারক রাত্র রয়েছে, যা হাজার মাস থেকেও উত্তম। মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাপবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার দিনের বেলায় রোযাকে ফরয করেছেন ও মহাপবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার রাত্রি বেলায় পবিত্র ক্বিয়ামুল লাইল অর্থাৎ পবিত্র তারাবীহ নামায উনাকে সুন্নত মুবারক করেছেন। অন্য মাসে একটি ফরয আদায় করলে যে পরিমাণ ফযীলত লাভ করবে মহাপবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে একটি নফল করলে সে পরিমাণ ফযীলত লাভ করবে। আর অন্য মাসে সত্তরটি ফরয আদায় করলে যে পরিমাণ ফযীলত লাভ করবে মহাপবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে একটি ফরয আদায় করলে সে পরিমাণ ফযীলত লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! মহাপবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস হলো ছবরের মাস, আর ছবর উনার বিনিময় হলো জান্নাত, এটা সহানুভূতির মাস। এটা এমন মাস, যে মাসে মু’মিনের রিযিক বৃদ্ধি করা হয়। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, এই (রমাদ্বান শরীফ) মাস হচ্ছে তোমাদের পবিত্র যাকাত আদায় উনার মাস। সুবহানাল্লাহ! তাছাড়া পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে, পবিত্র রমাদ্বান শরীফ একটি সুন্নত আমল করলে একটি ফরযের সমান ফযীলত পাওয়া যায়। আর একটি ফরয আদায় করলে সত্তরটি ফরযের ফযীলত পাওয়া যায়। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এ কারণেই মুসলমানদের মধ্যে যারা মালিকে নিছাব তারা পবিত্র রমাদ্বান শরীফে পবিত্র যাকাত আদায় করে থাকেন। আর এক্ষেত্রে গরীব তালিবুল ইলমরাই বেশী অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে। অর্থাৎ পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে অর্জিত যাকাতের টাকা দিয়েই ইয়াতীমখানা ও মাদরাসাগুলো প্রায় সারা বছর চলে থাকে। বলার অপেক্ষাই রাখেনা যে, পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসেও যদি লকডাউন বহাল থাকে তবে মাদরাসাগুলো চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। নাউযুবিল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূল কথা হলো- পবিত্র রমাদ্বান শরীফ হচ্ছে- পবিত্র যাকাত উনার মাস। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে সংগৃহীত যাকাত-ফিতরা দ্বারা প্রায় সারা বছর মাদরাসাগুলো পরিচালিত হয়ে থাকে। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে লকডাউন বহাল থাকলে মাদরাসাগুলো যাকাত-ফিতরা থেকে বঞ্চিত হবে নিঃসন্দেহে। ফলে মাদরাসাগুলোই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। তাই সরকারের উচিৎ- পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস আসার আগেই লকডাউন তুলে নেয়া। নচেৎ জনগণ এটাকে মাদরাসা বন্ধের ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখবে।
-০-

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে