পবিত্র শবে বরাত —


পবিত্র শবে বরাত —
********************
# ওহাবী, খারেজী, দেওবন্দী, জামাতী, তাবলীগী ও লা-মাযহাবীদের গোমরাহীমূলক বক্তব্যের খণ্ডনমূলক জবাবঃ
## শবে বরাত উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালত ছুটি ঘোষণা করা নাকি বিদয়াত চর্চার সুযোগ দেয়া? নাঊযুবিল্লাহ্!
গোমরাহ ও বাতিলপন্থীদের উক্ত বক্তব্য মনগড়া, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর যা মুসলমানদের চরম শক্রতাপূর্ণ বক্তব্য | মূলতঃ এর সঠিক জবাব হলো- শবে বরাত উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালত ছুটি ঘোষণা করা বিদয়াত চর্চার সুযোগ দেয়া নয় বরং নেক কাজের সুযোগ করে দেয়া বা সাহায্য করা | কেননা এ রাতেই বান্দার বিগত এক বছরের আমলনামা আল্লাহ্ পাক-এর নিকট পেশ করা হয় | আগামী এক বছরে কত জন সন্তান জন্মগ্রহণ করবে এবং কতজন লোক ইন্তিকাল করবে তাও ফায়ছালা করা হয় এ রাতেই | অর্থাৎ এ রাতেই প্রজ্ঞাসম্পন্ন যাবতীয় বিষয়ের ফায়ছালা করা হয় |
যেমন এ প্রসঙ্গে কালামুল্লাহ্ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
انا انزلناه فى ليلة مباركة انا كنا منذرين. فيها يفرق كل امر حكيم
অর্থ: “নিশ্চয়ই আমি উহা (সম্মানিত কুরআন শরীফ) এক বরকতপূর্ণ রাত্রিতে নাজিল করেছি | অর্থাৎ নাযিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি | নিশ্চয় আমি সতর্ককারী, ওই রাত্রিতে সমস্ত হিকমতপূর্ণ কাজসমূহের বন্টন করা হয় তথা বন্টনের ফায়সালা করা হয় |” (সূরা আদ দোখান/৩-৪)
প্রজ্ঞাসম্পন্ন কি কি বিষয়ের ফায়ছালা করা হয় সে সম্পর্কে হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে-
فيها ان يكتب كل مولود من بنى ادم فى هذه السنة وفيها ان يكتب كل هالك من مبنى ادم فى هذه السنة وفيها ترفع اعمالهم وفيها تترل ارزاقهم
অর্থ: “এ বরাতের রাতে আগামী এক বছরে কতজন সন্তান জন্মগ্রহণ করবে এবং কতজন লোক মৃত্যুবরণ করবে তা লিপিবন্ধ করা হয় | আর এ রাতে বান্দার আমলসমূহ আল্লাহ্ পাক-এর নিকট পেশ করা হয় এবং এ রাতে বান্দার রিযিকের ফায়সালা করা হয় |” (মিশকাত শরীফ)
তাই এ রাতে ইবাদত-বন্দিগী করা, দুয়া করা, আরজু পেশ করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং দিনের বেলা রোযা রাখার জন্য আদেশ-নির্দেশ করা হয়েছে |
শবে বরাত বা বরাতের রাতটি রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের খাছ রাত এবং দুয়া কবুলের খাছ রাত | বছরের যে পাঁচটি খাছ রাতে দুয়া কবুলের কথা হাদীছ শরীফে ঘোষণা করা হয়েছে তারমধ্যে একটি হচ্ছে বরাতের রাত |
যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে-
ان الدعاء يستجاب فى خمس ليال اول ليلة من رجب وليلة النصف من شعبان وليلة القدر المباركة وليلتى العيدين
অর্থ: “নিশ্চয়ই পাঁচ রাত্রিতে দোয়া নিশ্চিতভাবে কবুল হয়ে থাকে | (১) রজব মাসের প্রথম রাতে, (২) শবে বরাতের রাতে, (৩) ক্বদরের রাতে, (৪) ঈদুল ফিতরের রাতে, (৫) ঈদুল আযহার রাতে |”
(মা ছাবাতা বিসসুন্নাহ, আমালুল ইয়াত্তমি ওয়াল লাইলাতি)
অর্থাৎ শা’বানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত, ঈদুল ফিতরের রাত, ঈদুল আযহার রাত এবং বরকতপূর্ণ ক্বদরের রাত |”
সুতরাং বান্দারা এ মুবারক রাতে ইবাদত-বন্দিগী করে এবং দিনের বেলায় রোযা রেখে যাতে পুরোপুরি রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাত হাছিল করতে পারে সে উপলক্ষে উক্ত রাতে ও দিনে ইবাদতের প্রস্তুতির জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সঠিকভাবে কাজ করা বা দায়িত্ব পালন করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার | আর শবে বরাতে উক্ত ইবাদত-বন্দিগী করার জন্য প্রস্তুতিরও প্রয়োজন রয়েছে | এ উদ্দেশ্যেই মূলতঃ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান অফিস-আদালত ইত্যাদি ছুটি ঘোষণা করা হয় | এটা নেক কাজে সুযোগ বা সাহায্য করারই শামিল |
আল্লাহ্ পাক তিনি ইরশাদ করেন-
تعاونوا على البر والتقوى
অর্থ: “তোমরা নেকী ও পরহেযগারীর মধ্যে সাহায্য কর |”
(সূরা মায়িদা: আয়াত শরীফ/২) আর হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
الدال على الخير كفاعله
অর্থ: “নেক কাজে পথ প্রদর্শনকারী ব্যক্তি নেক কাজ সম্পাদনকারীর অনুরূপ ছওয়াব লাভ করবে |”
হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে যে, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের খাছ মাস হচ্ছে রমাদ্বান শরীফ | এ মাসে দিনের বেলায় রোযা রাখা আল্লাহ্ পাক তিনি ফরয করে দিয়েছেন | আর রাতের বেলায় তারাবীহর নামায আদায় করা আল্লাহ্ পাক-এর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সুন্নত করে দিয়েছেন | এই রোযা-নামায পালনসহ রমাদ্বান মাসের হক্ব উম্মত যাতে যথাযথবাবে আদায় করতে পারে এবং তার রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের পরিপূর্ণ হিসসা লাভ করতে পারে সে উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তি যদি তার অধীনস্ত কর্মচারীর ডিউটি কমিয়ে দেয় তার ফযীলত সম্পর্কে হাদীছ শরীফে স্বয়ং আল্লাহ্ পাক-এর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন-
من خفف عن مملوكه فيه غفر الله له واعتقه من النار.
অর্থ: “যে ব্যক্তি এ মাসে আপন গোলাম বা কর্মচারীর দায়িত্বের বোঝা হালকা করে দিবেন আল্লাহ্ পাক তিনি তাকে ক্ষমা করে দিবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন |” (মিশকাত শরীফ)
এ কারণে দেখা যায়, রমাদ্বান মাসে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয় অথবা ডিউটি কমিয়ে দেয়া হয় | ঠিক একই কারণে শবে বরাতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ইত্যাদি বন্ধ ঘোষণা করা হয়ে থাকে | সুতরাং এটাকে বিদয়াত চর্চার সুযোগ দেয়া বলে অভিহিত করা সম্পূর্ণরূপে কুফরীর অন্তর্ভূক্ত |
এ কুফরী প্রচারণা মূলতঃ দাজ্জালে কাযযাব ওহাবী, খারিজী, দেওবন্দী, জামাতী, তাবলীগী ও লা-মাযহাবীদের |
সুতরাং এ ক্ষেত্রে নিজেদের ঈমান-আমল হিফাযতের জন্য প্রত্যেককে সতর্ক সাবধান থাকতে হবে |
অথচ এ সামান্য নামধারী দুনিয়ালোভী পেশাদার ধর্মব্যবসায়ী মৌলভীরা নিজেদেরকে শাইখুল হাদীছ, শাইখুত তাফসীর, জাতীয় খতিব দাবি করে ইহুদীদের চর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে | তারা বেপরোয়াভাবে অহরহ হারাম ও কুফরী কাজের মূলহোতা হিসেবে দাঁড়িয়েছে | প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ, থার্টি ফার্স্ট নাইট, বসন্ত উৎসব, ভালোবাসা দিবস ইত্যাদি হারাম দিবস দেশে পালিত হচ্ছে কিন্তু এতে তাদের কোন ফতওয়া নেই | বরং আল্লাহ্ পাক এবং উনার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহান নিয়ামত যা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন তা থেকে বঞ্চিত করার কোশেশে ইহুদীদের চ্যালারা মরিয়া হয়ে উঠেছে | কারণ ইহুদী-নাছারারা তারা চায়না মুসলমানেরা ভাল থাকুক এবং জান্নাতী হোক |
কারণ আখিরী যামানার ফিৎনা সৃষ্টিকারী বাতিল ফিরকা ও তাদের গুমরাহীমূলক বক্তব্য সম্পর্কে আল্লাহ পাক-এর হাবীব রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
عن حضرت ابى هرىرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله علىه وسلم يكون فى اخر الزمان دجلون كذابون ياتو نكم من الا حاديث بما لم تسمعوا انتم ولا اباؤكم فاياكم واياهم لايضلو نكم ولا يفتنو نكم
অর্থঃ হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আখিরী যামানায় কিছু সংখ্যক মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বের হবে, তারা তোমাদের নিকট এমন সব (মিথ্যা-মনগড়া) কথা উপস্থাপন করবে, যা তোমরা কখনো শুননি এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও শুনেনি | সাবধান! তোমরা তাদের কাছ থেকে দূরে থাকবে, তবে তারা তোমাদেরকে গোমরাহ করতে পারবে না এবং ফিৎনায় ফেলতে পারবে না |
(মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
এ হাদীছ শরীফ-এ ক্বিয়ামতের পূর্বে অনেক মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বের হবে সেটাই বলা হয়েছে | হাদীছ শরীফ-এর বর্ণনা মতে মূল দাজ্জাল একজনই হবে | তবে তার অনুসারী অর্থাৎ দাজ্জালের চেলা হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ হবে |
প্রকৃত কথা হচ্ছে, মূল দাজ্জালের পূর্বে বহু সংখ্যক মিথ্যাবাদী দাজ্জালের প্রকাশ ঘটবে | মূল দাজ্জালের যে কাজ সে কাজের তারা আঞ্জাম দিবে | তাহলো মানুষের আক্বীদা-আমল নষ্ট করে কুফরীতে নিমজ্জিত করা |
কাজেই তাদেরকে চিনে তাদের বদ ও গোমরাহী আমল আক্বীদা থেকে নিজের আক্বীদা-আমল হিফাযত করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত | নচেৎ উক্ত দাজ্জালের খপ্পরে বা ওয়াসওয়াসায় যারা পড়বে তাদের হাশর-নশর সে দাজ্জালের সাথেই হবে | নাউযুবিল্লাহ।
আল্লাহ্ পাক তিনি আমাদের সকলকে সেই দাজ্জালদের পরিচয় লাভ করার এবং তাদের থেকে দূরে থেকে নিজেদের আক্বীদা-আমল হিফাযত করতঃ আল্লাহ্ পাক ও উনার হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি হাছিল করার তাওফীক দান করুন | আমিন।
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে