পবিত্র শা’বান শরীফ মাস হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার নিকটবর্তী হওয়ার মাস।


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘নিশ্চয়ই আমি লাইলাতুম মুবারকাহ বা বরকতময় রজনীতে (মশহুর পবিত্র লাইলাতুল বরাত শরীফ উনার মধ্যে) পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল করেছি অর্থাৎ নাযিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র শা’বান শরীফ মাস হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার নিকটবর্তী হওয়ার মাস। এ সম্মানিত মাস উনার মাঝে রয়েছে অনেক বরকতময় দিন ও রাত্রি মুবারক।
তাই প্রত্যেক দেশের সরকারসহ প্রতিটি মুসলমান পুরুষ-মহিলা, ছেলে-মেয়ে উনাদের সবার জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- পবিত্র শা’বান শরীফ মাস উনাকে তা’যীম-তাকরীম করে উনার যথাযথ হক্ব আদায় করা এবং আসন্ন পবিত্র লাইলাতুম মুবারকাহ বা লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান মশহুর পবিত্র লাইলাতুল বরাত শরীফ পালনে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

পবিত্র শা’বান শরীফ মাস অত্যন্ত ফযীলত, বরকত, নিয়ামত ও সাকীনাপূর্ণ মাস। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র রজবুল হারাম মাস উনার চাঁদ দেখলে দোয়া করতেন- ইয়া বারে ইলাহী! আমাদেরকে পবিত্র রজববুল হারাম ও পবিত্র শা’বান শরীফ উভয় মাস উনাদের মধ্যে বরকত দান করুন এবং পবিত্র রমাদ্বান শরীফ পর্যন্ত পৌঁছার তাওফীক দান করুন।” এ পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা স্পষ্টই প্রমাণিত হয় যে, পবিত্র শা’বান শরীফ মাস অত্যন্ত বরকত, রহমত ও সাকীনাপূর্ণ মাস।

এ সম্মানিত মাস উনার ৫ তারিখে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন এবং উনার লখতে জিগার, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবী’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও যমীনে তাশরীফ গ্রহণ করেন। এই সম্মানিত ও পবিত্র শা’বান মাস উনার ২৯ তারিখে সাইয়্যিদাতাল উমাম, ত্বহিরা, তাইয়্যিবা, ফাছিহা হযরত শাহনাওয়াসীদ্বয় ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনারা এ যমীনের বুকে তাশরীফ গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ!

কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, পবিত্র রজবুল হারাম হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার দরজায় পৌঁছার মাস, পবিত্র শা’বান শরীফ মাস হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকটবর্তী হওয়ার মাস। আর পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে মুলাক্বাত করার মাস। সুবহানাল্লাহ! আরো বর্ণিত রয়েছে যে, পবিত্র রজবুল হারাম মাস হচ্ছে বীজ বপন করার মাস। পবিত্র শা’বান শরীফ মাস হচ্ছে বীজে পানি দেয়ার মাস। আর পবিত্র রমাদ্বান মাস হচ্ছে ফসল কাটার মাস। অতএব, যে ব্যক্তি পবিত্র রজবুল হারাম মাসে ইবাদতের বীজ বপন করবে না এবং পবিত্র শা’বান শরীফ মাসে ইবাদত ও কান্নাকাটি করে সে বীজে পানি দিবে না সে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার মধ্যে কি করে ফসল কাটার আশা করতে পারে? অতএব, প্রমাণিত হলো যে, পবিত্র শা’বান মাস উনার আলাদা খুছুছিয়াত বা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাছাড়া পবিত্র শা’বান শরীফ মাস উনার ফযীলত, বরকত, রহমত ও নিয়ামতপূর্ণ হওয়ার আরেকটি বিশেষ কারণ হচ্ছে এ মাস উনার মধ্যেই রয়েছে বরকতময় ভাগ্য রজনী বা পবিত্র লাইলাতুল বরাত অর্থাৎ এই মাসেরই ১৫ তারিখ হচ্ছে লাইলাতুম মুবারাকাহ বা বরকতময়ময় রজনী যা পবিত্র শবে বরাত হিসেব মশহুর। সুবহানাল্লাহ!

সুতরাং এ সম্মানিত মাস উনার এই বিশেষ বিশেষ দিন ও রাতগুলোতে মহান আল্লাহ পাক তিনি উম্মতের জন্য অসীম রহমত, বরকত, সাকিনা নাযিল করে থাকেন। তাই প্রত্যেক দেশের সরকারসহ প্রতিটি মুসলমান পুরুষ-মহিলা, ছেলে-মেয়ে উনাদের সবার জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, পবিত্র শা’বান শরীফ মাস উনাকে তা’যীম-তাকরীম করে উনার যথাযথ হক্ব আদায় করা এবং আসন্ন পবিত্র লাইলাতুম মুবারকাহ বা লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান পবিত্র লাইলাতুল বরাত পালনে এখন থেকেই যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

Views All Time
1
Views Today
4
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে