পবিত্র শাহরুল্লাহিল হারাম রজবুল আছম্ম উনার ৬ তারিখ যে কারনে অতীব মর্যাদামণ্ডিত।


পবিত্র শাহরুল্লাহিল হারাম রজবুল আছম্ম উনার ৬ তারিখ যে কারনে অতীব মর্যাদামণ্ডিত।
***************************************************************************
পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ইতিহাসে যে সমস্ত মহান ওলীআল্লাহ ও বুযুর্গ উনাদের নাম মুবারক স¦র্ণাক্ষরে আবহমানকাল ধরে জ্বল জ্বল করে জ্বলছে এবং অনন্তকাল ধরে জ্বলবে, সাথে সাথে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের মধ্যে যে সমস্ত হক্কানী-রব্বানী ওলীআল্লাহ উনাদের ছানা-ছিফত, শান-মান, বুযুর্গী ফযীলতের নিখুঁত বর্ণনা রয়েছে উনাদের মধ্যে হযরত সুলত্বানুল হিন্দ, খাজা গরীবে নেওয়াজ, হাবীবুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হচ্ছেন অন্যতম। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র শাহরুল্লাহিল হারাম রজবুল আছম্ম উনার ৬ তারিখ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার) ছুবহি ছাদিকের সময় পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন ৭ম হিজরী শতকের মহান মুজাদ্দিদ, সুলত্বানুল হিন্দ হযরত খাজা সাইয়্যিদ মুঈনুদ্দীন হাসান চীশতী আজমিরী সানজিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি চার তরীক্বার অন্যতম চীশতিয়া তরীক্বার প্রতিষ্ঠাতা ও ইমাম। তিনি ছিলেন সুন্নত জিন্দাকারী। তিনি পূর্ণ তাহক্বীক্বের সাথে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে পবিত্র সুন্নত উনার ইত্তিবা করতেন। এ কারণে উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর উনার পবিত্র কপাল মুবারক-এ কুদরতীভাবে নূরানী অক্ষরে লিখিত হয়, ‘হাযা হাবীবুল্লাহ মা-তা ফী হুব্বিল্লাহ’ অর্থাৎ ইনিই মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, যিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতেই ইন্তিকাল করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
যে দিবসগুলো মুসলমান তথা জামাদাত শাজারাত সমস্ত কায়িনাত বাসীকে স্বরণ করিয়ে দেয়ার জন্য খলিক্ব মালিক্ব রব মহান আল্লাহ পাক উনি উনার সম্মানিত কালাম কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন।
وَذَكِّرْهُمْ بِأَيَّامِ اللّهِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَاتٍ لِّكُلِّ صَبَّارٍ شَكُورٍ
সম্মানিত সুরা ইব্রাহীম শরীফ (মক্কা শরীফ অবতীর্ণ), সম্মানিত আয়াত শরীফ ৫।
হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি, আপনি কায়িনাত বাসিকে জানিয়ে দিন বা স্মরন করিয়ে দিন বিশেষ বিশেষ দিনগুলোকে কারন এর মধ্যে তাদের জন্য অর্থাৎ প্রত্যেক শোকরগুজার বান্দাবান্দির জন্য ইবরত নসিহত রয়েগেছে। সুবহানাল্লাহ।
يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَال وَلَا بَنُونَ . إِلَّا مَنْ اتَى اللّـهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ
অর্থ: কিয়ামতের দিন ক্বলবে সালীম ব্যতিত মাল-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি দিযে কেউ মহান আল্লাহ পাক উনার কাছ থেকে ফায়দা লাভ করতে পারবেনা। (পবিত্র সূরা শুয়ারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮৮-৮৯)
মুসলিম শরীফ উনার হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে- انظروا عمن تأخذون دينكم
من له الـمولى فله الكل
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক যার হয়ে যান সবকিছুই তার হয়ে যায়।” সুবহানাল্লাহ। এমনিধরনের একজন মহান ওলী ছিলেন হযরত খাজা ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন
عليك بمجالس اهل الذكر
অর্থ: “আহলে যিকির তথা আল্লাহওয়ালাগণ উনাদের ছোহবত তোমার জন্য লাযিম (আবশ্যক)। (শুয়াবুল ঈমান লিল বাইহাক্বী। সুবহানাল্লাহ।
আখেরী রাসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো এরশাদ মোবারক করেন,
بعثت لكسر المزامير والاصنام.
অর্থঃ- “আমি “বাদ্য-যন্ত্র” ও “মুর্তি” ধ্বংস করার জন্যে প্রেরীত হয়েছি।” তাই করেছেন হযরত খাজা ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻛﻠﻬﻢ ﻫﻠﻜﻰ ﺍﻻ ﺍﻟـﻤﺆﻣﻨﻮﻥ ﻭﺍﻟـﻤﺆﻣﻨﻮﻥ ﻛﻠﻬﻢ
ﻫﻠﻜﻰ ﺍﻻ ﺍﻟﻌﺎﻟـﻤﻮﻥ ﻭﺍﻟﻌﺎﻟـﻤﻮﻥ ﻛﻠﻬﻢ ﻫﻠﻜﻰ ﺍﻻ ﺍﻟﻌﺎﻣﻠﻮﻥ
ﻭﺍﻟﻌﺎﻣﻠﻮﻥ ﻛﻠﻬﻢ ﻫﻠﻜﻰ ﺍﻻ ﺍﻟـﻤﺨﻠﺼﻮﻥ
অর্থ : সমস্ত মানুষ ধ্বংস মু’মিনগণ ব্যতীত এবং মু’মিনগণও ধ্বংস আলিমগণ ব্যতীত এবং আলিমগণও ধ্বংস আমলকারীগণ ব্যতীত এবং আমলকারীগণও ধ্বংস ইখলাছ অর্জনকারীগণ ব্যতীত। (মিরকাত শরীফ) এমনি একজন ইখলাছ দানকারী ছিলেন সুলতানুল হিন্দ হযরত খাজা ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি। সুবহানাল্লাহ।
মহান আল্লাহ পাক, যিনি আমাদের খালিক্ব মালিক এবং রব। তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ উনার ৬২, ৬৩ এবং ৬৪ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
أَلا إِنَّ أَوْلِيَاء اللّهِ لاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ
الَّذِينَ آمَنُواْ وَكَانُواْ يَتَّقُونَ
لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَياةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ لاَ تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ اللّهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
তাদের জন্য সুসংবাদ পার্থিব জীবনে ও পরকালীন জীবনে। আল্লাহর কথার কখনো হের-ফের হয় না। এটাই হল মহা সফলতা।
“হে আসমানবাসী, যমীনবাসী তোমরা সাবধান হয়ে যাও! এবং সাথে সাথে জেনে রাখ নিশ্চয়ই যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী হয়েছেন উনাদের কোনো ভয় নেই, চিন্তা নেই, পেরেশানী নেই। আর ওই সকল ওলীআল্লাহ উনাদের পরিচয় হচ্ছে, উনারা পবিত্র ঈমান এনেছেন এবং মুত্তাক্বী হয়েছেন। উনাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে, পার্থিব জীবনে এবং পরকালে। মহান আল্লাহ পাক উনার বাণীসমূহ পরিবর্তিত হতে পারে না। আর এটাই হচ্ছে মহাসাফল্য।” সুবহানাল্লাহ!
উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার পবিত্র তাফসীর শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়- মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী হচ্ছেন তিনিই, যিনি ফরয, ওয়াজিব, সুন্নত ও মুস্তাহাব ইত্যাদি ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নৈকট্য লাভ করে থাকেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক আদেশ-নিষেধ যথাযথ পালন করে থাকেন। অর্থাৎ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার হুজ্জত বা দলীল পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের হুবহু অনুসরণ-অনুকরণ করেন। তার ডানে, বামে, সামনে, পিছনে, উপরে, নিচে অতিক্রম করেন না। উনাদের অন্তর মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মা’রিফাত ও মুহব্বতের মধ্যে ২৪ ঘণ্টা মগ্ন থাকেন। উনারা যখন দেখেন মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতের প্রমাণাদিই দেখেন, যখন শুনেন মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র আয়াত শরীফগুলোই শুনেন। আর যখন বলেন, তখন মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রশংসা সহকারেই বলেন। আর যখন নড়াচড়া করেন মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আনুগত্যের মাঝেই নড়াচড়া করেন। যখন চেষ্টা করেন তখন এমন বিষয়ে চেষ্টা করেন যার দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নিকট থেকে আরও নিকটতম হওয়ার চেষ্টা করেন। উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণে ক্লান্ত হন না। আর অন্তর চক্ষু দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের ব্যতীত অন্য কাউকেও দেখেন না। সুবহানাল্লাহ!
 
প্রকৃতপক্ষে উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার পবিত্র তাফসীর শরীফ উনার হাক্বীক্বী মিছদাক্ব ছিলেন হযরত সুলত্বানুল হিন্দ, খাজা গরীবে নেওয়াজ, রহমতুল্লাহি আলাইহি।
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে