পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ বিরোধীরা কিতাব থেকে দলীল মুছে ফেলছে!!


হাফিজে হাদীছ হযরত আবু নুয়াইম আসবাহানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘দালায়েলুন নবুওওয়াত’ কিতাব থেকে “নিয়ামত” শব্দ বাদ দিয়ে ভয়ানক তাহরীফ করলো ওহাবীরা।
মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে বিষয়টা গোড়া থেকে আবার আলোচনা করা প্রয়োজন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারনে খুশি মুবারক প্রকাশ করাই হচ্ছে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ।
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন,
يَسْتَبْشِرُونَ بِنِعْمَةٍ مِّنَ اللَّـهِ وَفَضْلٍ وَأَنَّ اللَّـهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُؤْمِنِينَ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার নেয়ামত ও অনুগ্রহ মুবারক উনার জন্যে তারা আনন্দ প্রকাশ করে এবং তা এভাবে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ঈমানদারদের শ্রমফল বিনষ্ট করেন না।” (পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৭১)
উপরোক্ত এ অর্থ বিদয়াতীদের মুরুব্বী পাকিস্তানের মুফতী শফী ও বাংলাদেশের মাহিউদ্দীন খানের করা। এই পবিত্র আয়াত থেকে বোঝা যায় নিয়ামত পাওয়ার কারনে আনন্দ প্রকাশ করতে হবে।
অনেকে বলতে পারেন এ আয়াত শরীফ দ্বারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারনে খুশি হওয়ার কি দলীল আছে? উপরোক্ত আয়াত শরীফ উনাতে একটা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে “নিয়ামত”। এই নিয়ামত বিষয়ে একখানা হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে,
إنما بعثت نعمة
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি সম্মানিত নিয়ামত হিসাবে প্রেরিত হয়েছি। (দালায়েলুন নবুওওয়াত লি আবু নুয়াইম ১ম খন্ড ৪০ পৃষ্ঠা, হাদীছ নং ২)
উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ সমন্বয় করে এটা বলা যায় মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ামত অর্থাৎ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারনে আনন্দ প্রকাশ করতে হবে বা ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করতে হবে। ওহাবীরা পয়েন্টটা ধরতে পেরেছে আগেই, তাই তারা তাদের প্রকাশনা থেকে কৌশলে “নিয়ামত” শব্দ বাদ দিয়ে রহমত শব্দ ঢুকিয়ে দিয়েছে।
প্রমান স্বরূপ তিনটা প্রকাশনা থেকে বিখ্যাত কিতাব ‘দালায়েলুন নবুওওয়াত’ কিতাবের পৃষ্ঠার ছবি লিংক করে দেয়া হচ্ছে। উক্ত লিংক যেকোন ব্রাউজারে সার্চ করলেই কিতাবের পৃষ্ঠা দেখা যাবে।
(প্রমাণ ১) লেবাননের প্রকাশনা দারুন নাফিস থেকে প্রকাশিত ‘দালায়েলুন নবুওওয়াত’ কিতাবে ৪০ পৃষ্ঠায় إنما بعثت نعمة বা (নিশ্চয়ই আমি নিয়ামত হিসাবে প্রেরিত হয়েছি) এই পবিত্র হাদীছ শরীফ আছে। (https://bit.ly/2y05iTU)
(প্রমাণ ২) মাকতাবাতুল ফায়েজ (কোন দেশ সেটা উল্লেখ নাই) এখান থেকে প্রকাশিত ‘দালায়েলুন নবুওওয়াত’ কিতাবে ৪৬ পৃষ্ঠায় উক্ত হাদীছ শরীফে সনদ ঠিক রেখেই ইবারত থেকে ‘নিয়ামত’ বাদ দিয়ে রহমত ঢুকিয়ে দিয়েছে। (যঃঃঢ়ং://নরঃ.ষু/২ুণয়ঔ৭ই)
(প্রমাণ ৩) আজ থেকে ১২০ বছর আগে ছাপা পুরানো দালয়েলুন নবুওওয়াত কিতাবে সেখানে ৫ পৃষ্ঠায় إنما بعثت نعمة বা (নিশ্চয়ই আমি নিয়ামত হিসাবে প্রেরিত হয়েছি) এই পবিত্র হাদীছ শরীফ আছে। স্পষ্ট “নিয়ামত” শব্দটা ইবারতে রয়েছে। (https://bit.ly/2Anp7WQ)

স্পষ্টই প্রমাণ হলো ওহবীরা কত ভয়ানক কারচুপীকারী। মাকতাবাতুল ফায়েজ প্রকাশনি থেকে ‘নিয়ামত’ শব্দ তারা বাদ দিয়ে দিয়েছে। ওহাবীরা কিতাব নিয়ে কি ভয়ানক তাহরীফ করছে। পবিত্র সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ উনার কোন দলীল থাকলেই তা কৌশলে তারা বাদ দিয়ে দিচ্ছে। উদাহরন স্বরূপ আরো বলা যায়, মিশর দারু মিরাছুন নাববিয়্যাহ প্রকাশনি থেকে প্রকাশিত হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি রচিত “আদাবুল মুফাররাদ” কিতাব থেকে জন্ম দিবস উপলক্ষে দাওয়াত শীর্ষক পরিচ্ছদ সহ একটা হাদীছ শরীফই বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছে। উক্ত কিতাবে ৩৪৯ পৃষ্ঠায় ১২৫১, ১২৫২ নং হাদীছ শরীফ উনার পরই পরের পৃষ্ঠায় ৩৫০ পৃষ্ঠায় এক লাফে ১২৫৪ নং হাদীছ শরীফে চলে গেছে। মাঝখান থেকে ১২৫৩ নম্বর হাদীছ শরীফ গায়েব করে দিয়েছে। সেই হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্ট আছে এক জন বিশিষ্ট ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি নফল রোজা ভেঙ্গে অন্য একজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার আওলাদের পবিত্র মীলাদ অনুষ্ঠানে গিয়েছেন, খুশি প্রকাশ করেছেন, খাবার খেয়েছেন। জালিয়াত ওহাবীগুলো এই হাদীছ শরীফখানা বাদ দিয়ে দিয়েছে কিতাব থেকে। কারন এ হাদীছ শরীফ দ্বারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের মীলাদ শরীফ অনুষ্ঠান পালন করার দলীল পাওয়া যায়। মজার বিষয় হচ্ছে চোর চুরি করলে আলামত রেখে আসে, তারাও চুরি করে বাদ দিয়েছে বটে কিন্তু পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সিরিয়াল নম্বর ঠিক করতে পারে নাই। তাই ১২৫২ এর পর একলাফে ১২৫৪ দিয়ে দিয়েছে।

তাদের কুফরী মতবাদের বিরোধী হলেই সেটা কিতাব থেকে তারা বাদ দিয়ে দিচ্ছে, নিজেদের মনমত ইবারত ঢুকাচ্ছে। তাদের এই সব নিকৃষ্ট কর্মদ্বারাই প্রমাণ হয় তারা পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার অস্তিত্ব মানতে চাইছে না। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! এসকল বিদয়াতি ও নিকৃষ্ট ওহাবীরা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক মুছে দিতে চাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ। নাউযুবিল্লাহ। নাউযুবিল্লাহ। পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ বিরোধীরা যে ছদ্মবেশী ইহুদী তা আবারও প্রমাণ হলো। মহান আল্লাহ পাক এসকল দাজ্জাল থেকে আমাদের হিফাজত করুন। আমীন।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে