পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে যে দেশে, এলাকায় বা অঞ্চলে খুশি প্রকাশ করে পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করা হয়, খাদ্যের আয়োজন করা হয়; সে এলাকা খোদায়ী আযাব-গযব ও বালা-মুছীবত থেকে রক্ষা পায়


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে তামাম আলম ও মাখলুকাতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।” সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে যে দেশে, এলাকায় বা অঞ্চলে খুশি প্রকাশ করে পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করা হয়, খাদ্যের আয়োজন করা হয়; সে এলাকা খোদায়ী আযাব-গযব ও বালা-মুছীবত থেকে রক্ষা পায় এবং সে এলাকায় বিশেষ রহমত, বরকত, সাকীনা নাযিল হয়।’ সুবহানাল্লাহ!
তাই বাংলাদেশ সরকারসহ আম-খাছ সকলের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- খোদায়ী আযাব-গযব, বালা-মুছীবত তথা সর্বপ্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নিরাপদে থাকতে এবং রহমত, বরকত ও সাকীনা লাভ করতে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মহাসমারোহে পালন করা এবং সে লক্ষ্যে সারা দেশে ও ঘরে ঘরে পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার মাহফিল করা।

মুসলিম বিশ্বে যিনি সবচেয়ে বেশি কিতাব লিখেছেন, যিনি হিজরী দশম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ও ইমাম, সুলত্বানুল আরিফীন হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘আল ওসায়িল ফী শরহিশ্ শামায়িল’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে, “যখন কোনো মুসলমান নিজ বাড়িতে পবিত্র বিলাদত শরীফ উনার সম্মানার্থে খুশি প্রকাশ করে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করে, তখন সেই বাড়ির অধিবাসীদের উপর থেকে মহান আল্লাহ পাক তিনি অবশ্যই খাদ্যাভাব, মহামারি, অগ্নিকা-, ডুবে মরা, বালা-মুছীবত, হিংসা-বিদ্বেষ, কুদৃষ্টি, চুরি ইত্যাদি উঠিয়ে নেন। যখন উক্ত ব্যক্তি মারা যান তখন মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য মুনকার-নকীরের সুওয়াল-জাওয়াব সহজ করে দেন। আর উনার অবস্থান হয় মহান আল্লাহ পাক উনার সন্নিধানে ছিদকের মাক্বামে।” সুবহানাল্লাহ!

দেশ ও দেশের জনগণকে নিরাপদে রাখতে ৯৮ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশসহ বিশ্বের সমগ্র মুসলিম দেশ তো অবশ্যই; এমনকি কাফির-মুশরিকদের দেশেও যে সমস্ত মুসলমানগণ অবস্থান করেন তাদেরও দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো- পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার মধ্যে মহা জওক-শওক ও তা’যীম-তাকরীমের সাথে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান আগমন মুবারক উনার সম্মানার্থে খুশি প্রকাশার্থে সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা।

সারা দেশব্যাপী পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার আয়োজন করা ও খাদ্যের আয়োজন করা খাদ্যদ্রব্যসহ সমস্ত পণ্য সামগ্রীর মূল্যহ্রাস করাসহ বিনামূল্যে সরকারিভাবে বিতরণ করা এবং এ ব্যাপারে সরকারিভাবে সবচেয়ে বড় ধরনের বাজেট ও কর্মসূচি গ্রহণ করা অপরিহার্য। তবেই দেশ ও দেশের জনগণ যাবতীয় খাদ্যাভাব, মহামারি, অগ্নিকা-, পানীচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি বালা-মুছীবত থেকে পরিত্রাণ লাভ করে সুখে শান্তিতে ও নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। ইনশাআল্লাহ!

তাই ৯৮ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশের সরকারের অপরিহার্য কর্তব্য হলো- এবছর আসন্ন পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার শুরু থেকেই উপরোক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করে সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সারা মাস ও বছর ব্যাপী পালনের অনুভূতিকে ত্বরান্বিত করা, শানিত করা এবং জাগ্রত করা। পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার সর্বপ্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে