পবিত্র সামা’ শরীফ, ক্বাছীদা শরীফ উনার মাহফিল খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত


মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরআন মজীদ উনার পবিত্র সূরা শূয়ারা শরীফ উনার ২২৪নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বিভ্রান্ত, গুমরাহ কবি-সাহিত্যিকদের সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَالشُّعَرَ‌اءُ يَتَّبِعُهُمُ الْغَاوُونَ
অর্থ : “বিভ্রান্ত লোকেরাই (মিথ্যা, অশ্লীলতা, কুৎসা বর্ণনাকারী) কবিদের অনুসরণ করে।”
এ পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হওয়ার পর হযরত আব্দুল্লাহ বিন রাওহা রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু, হযরত কা’ব বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত হাসসান বিন সাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা ক্রন্দনরত অবস্থায় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র খিদমতে উপস্থিত হয়ে আরয করলেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা তো ক্বাছীদা, কবিতা রচনা করে থাকি। এখন আমাদের কি উপায়?” তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র আয়াত শরীফ উনার শেষাংশ পাঠ করুন।”
اِلَّا الَّذِينَ اٰمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِـحَاتِ وَذَكَرُ‌وا اللهَ كَثِيْرً‌ا
অর্থ : “তবে তাদের কথা ভিন্ন, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং মহান আল্লাহ পাক উনাকে খুব স্মরণ করে।” (পবিত্র সূরা শূয়ারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২২৭)
অর্থাৎ পবিত্র সূরা শূয়ারা শরীফ উনার ২২৪নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বেদ্বীনদের অনর্থক, ভ্রান্ত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, কুরুচিসম্পন্ন ও ইসলামী শরীয়তবিরোধী কবিতার সমালোচনা করা হয়েছে। আর ২২৭নং পবিত্র আয়াত শরীফ বা উক্ত পবিত্র সূরা শরীফ উনার শেষাংশ দ্বারা ঈমানদার ও নেককার কবিদের উত্তম, নছীহতমূলক রুচিসম্পন্ন কবিতা বা কাছীদাসমূহের প্রশংসা করা হয়েছে। অর্থাৎ ঈমানদার ও নেককার কবি ও উনাদের উত্তম রুচিসম্পন্ন ও ইসলামী শরীয়তসম্মত কবিতাসমূহ যে গ্রহণযোগ্য সেটাই এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে শেষাংশ দ্বারা বোঝানো হয়েছে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-
عَنْ حَضْرَتْ اُبَىَّ بْنَ كَعْبٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَخْبَرَهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اِنَّ مِنَ الشّعْرِ حِكْمَةً‏‏.
অর্থ : হযরত উবাই ইবনে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কোন কোন কবিতা বা ক্বাছীদা হিকমত পূর্ণ। (বুখারী শরীফ)

ক্বাছীদা শরীফ শোনা, লেখা, পাঠ করা, শোনার আয়োজন করা, উৎসাহ দিয়ে লিখানো সবই খাছ সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মসজিদে নববী শরীফ উনার মধ্যে একটি আলাদা মিম্বর শরীফ বানিয়ে দিয়েছিলেন যেখানে বসে বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত হাসসান বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ক্বাছীদা শরীফ পরিবেশন করতেন এবং পাশের মিম্বর শরীফ উনার মধ্যে বসে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তা শুনতেন এবং কখনো আওড়াতেন। সুবহানাল্লাহ!

মূলত, ক্বাছীদা বা সামা শরীফ শোনার আয়োজন করা ও শ্রবণ করা সম্পূর্ণ শরীয়তসম্মত এবং খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। আর সুন্নত মুবারক পালন করা যেহেতু ফরয সে হিসেবে উক্ত মাহফিল হাক্বীক্বতান ফরয উনার অন্তর্ভূক্ত। সুবহানাল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে