পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে নিয়ে ধর্ম ব্যবসায়ীদের অপপ্রচারের আরও একটি নমুনা ও তার জবাব


সালাফীরা কতটুকু ইসলামবিদ্বেষী সেটা তাদের লেখা পড়লে বা তাদের বক্তব্য শুনলে বোঝা যায়। একদিক থেকে ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক ও তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য পাওয়া যায় না। নাস্তিকরা যেমন বিভিন্নভাবে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে নিয়ে উপহাস করে সালাফীরাও সেপথে পদচারণা করেছে। এক সালাফী যার নাম হচ্ছে, আমানুল্লাহ বিন ইসমাঈল, সে তার এক আলোচনায়- “সুদূর চীন দেশে গিয়ে হলেও জ্ঞান আহরণ বা জ্ঞান অর্জন করো” এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলার পাশাপাশি এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে “মেড ইন চায়না” বলেও উপহাস করেছে। নাউযুবিল্লাহ!
অথচ পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن انس بن مالك قال قال رسول الله صلي الله عليه و سلم اطلبو العم ولو بالصين فان طلب العلم فريضة علي كل مسلم
অর্থ: হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার হতে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ইলিম অর্জনের জন্য সদূর চীন দেশ হলেও যাও, কেননা ইলম অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয।” (দলীল: আল জামিউছ ছগীর লিস সূয়ুুতি ১ম খন্ড ১৬৮ পৃষ্ঠা-হাদীছ শরীফ নং ১১১০, শুয়াবুল ঈমান লি বায়হাকী ২য় খন্ড ২৫৪ পৃষ্ঠা, হাদীছ শরীফ নং ১৬৬৩, তারিখে বাগদাদ ৭/৩৬৪, কানযুল উম্মাল ১০/১৩৮, ২৮৬৯৭)
উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ সম্পর্কে আল্লামা হযরত মানাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “উক্ত হাদীছ শরীফ উনার সনদ সহীহ নয়।” (ফয়যুল কাদির ১ম খন্ড ৫৪৩ পৃষ্ঠা)
জানার বিষয় হচ্ছে, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিষয়ে কোনো ইমামগণ যখন বলেন, “উহা ছহীহ নয়, তার মানে কিন্তু উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ মুওদ্বু অথবা বানোয়াট বুঝায় না, বরং উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ হাসান শ্রেণীর হওয়ার বিষয়টিই নির্দেশ করে।” (দলীল: আসসারুল মরফুয়া ১/৩৪৯ পৃষ্ঠা, তাযকিরাতুল মাওদ্বুয়াত ৭৫, কাশফুল খফা ১/২৫৬-হাদীছ ৯০৮, মাকাসিদুল হাসানা ১২১ পৃষ্ঠা)
কারণ ছহীহ স্তরের পর হাসান স্তর তারপর দ্বয়ীফ স্তর। সুতরাং ছহীহ না হলে পরবর্তী স্তর হাসানই হবে।
সুতরাং উছূল অনুযায়ী উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ সম্পর্কে ইমাম মানাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বক্তব্য দ্বারা বোঝা যায় পবিত্র হাদীছ শরীফ খানার সনদ হাসান ছহীহ, যা পবিত্র শরীয়ত উনার অকাট্য দলীল হিসেবে প্রযোজ্য। সুবহানাল্লাহ!
আর বিখ্যাত ইমাম হযরত বায়হাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ সম্পর্কে বলেন, সনদগতভাবে কিছুটা দুর্বল হলেও উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা মশহুর বা প্রসিদ্ধ। (শুয়াবুল ঈমান লি বায়হাকী ২য় খন্ড ২৫৪ পৃষ্ঠা)
“সুদূর চীন দেশে গিয়ে হলেও জ্ঞান আহরণ বা জ্ঞান অর্জন করো”- এই পবিত্র হাদীছ শরীফখানা একাধিক সূত্রে বর্ণিত রয়েছে। সে হিসেবে পবিত্র হাদীছ শরীফখানার সনদ একাধিক সনদ দ্বারা শক্তিশালী হয়েছে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার একটি সনদ হচ্ছে, হযরত ইমাম আদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সনদে হযরত হাসান বিন আতিয়াহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত নাযিহ আল কোরাইশি রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে তিনি হযরত আতিকা রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে তিনি হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন………..”। উক্ত সনদে সালাফীদের নেতা নাসির উদ্দীন আলবানী হযরত হাসান বিন আতিয়াহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে আপত্তি করেছে। অথচ বিখ্যাত পবিত্র হাদীছ শরীফ বিশারদ হযরত আবু হাতেম রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি সত্যবাদী ছিলেন। শুধু তাই নয়, হাদীস শরীফ উনার বিখ্যাত ইমাম, যাকে সালাফীরাও মান্য করে, বুখারী শরীফ উনার সম্মানিত মুছান্নিফ হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তারিখে কবীরে” হযরত হাসান বিন আতিয়াহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সনদে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। (মিযানুল ইতিদাল ১/৪৯৭)
এখন এই রাবীর কারণে যদি “সুদূর চীন দেশে গিয়ে হলেও জ্ঞান অর্জন করো” এই পবিত্র হাদীছ শরীফ ‘মেড ইন চায়না’ হয়ে যায়, তবে সালাফীদের কথা অনুযায়ী কি এটাই প্রমাণ হয় না যে, হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও ‘মেড ইন চায়না’ বর্ণনা করতেন? নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক!
“সুদূর চীন দেশে গিয়ে হলেও জ্ঞান অর্জন করো”- এই পবিত্র হাদীছ শরীফখানা বিখ্যাত মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত জালালুদ্দীন সূয়ুতি রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম বায়হাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের মতো যুগশ্রেষ্ঠ ইমামগণ বিশুদ্ধ মনে করেই উনাদের মশহুর কিতাবসমূহে বর্ণনা করেছেন। তাহলে শয়তানের ভৃত্য সালাফী আমানুল্লাহ বিন ইসমাঈল কি উক্ত ইমামদের বর্ণনাকে ‘মেড ইন চায়না’ বলার মতো ধৃষ্টতা দেখাবে?
আর যেহেতু “সুদূর চীন দেশে গিয়ে হলেও জ্ঞান আহরণ বা জ্ঞান অর্জন করো”- এই পবিত্র হাদীছ শরীফখানা হাসান ছহীহ হিসাবে প্রমাণিত সেহেতু এই হাদীছ শরীফ উনাকে ‘মেড ইন চায়না’ বলে উপহাস করে ওহাবী সালাফী আমানুল্লাহ বিন ইসমাঈল কুফরী করেছে। কারণ ইতিহাস সাক্ষী একমাত্র কাফির সম্প্রদায়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র কথা মুবারক নিয়ে উপহাস করতো।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে