পবিত্র ১৯ শাওওয়াল শরীফ বিশেষ নিয়ামত লাভের বিশেষ দিন ॥ সকল মু’মিন-মু’মিনা, সালিক-সালিকার স্মরণীয় দিন


খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وذكرهم بايام الله ان فى ذلك لايات لكل صبار شكور.
অর্থ: “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার দিনগুলির কথা স্মরণ করিয়ে দিন। নিশ্চয়ই উহার মধ্যে প্রত্যেক শোকর-গোজার, ধৈর্যশীলগণের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে।” (পবিত্র সূরা ইবরাহীম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)
ওলীআল্লাহগণ উনারা হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার বন্ধু। উনাদের পবিত্র বিলাদত শরীফ, পবিত্র বিছাল শরীফ এবং অন্যান্য মুবারক স্মৃতি বিজড়িত দিনগুলোও মহান আল্লাহ পাক উনার দিনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কাজেই ওলীআল্লাহগণ উনাদের স্মৃতি বিজড়িত দিনগুলোও বান্দা ও উম্মতগণের জন্য বিশেষ নিয়ামত লাভের দিন। সেই দিনগুলোও বিশেষভাবে স্মরণীয় এবং বরণীয়। বিশেষভাবে উদযাপনের দাবি রাখে। ১৯শে শাওওয়াল শরীফ সেই নিয়ামত লাভের বিশেষ দিনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সেই দিন সকল মু’মিন-মু’মিনা, সালিক-সালিকাগণের খাছ ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ লাভের দিন। যামানার মহান ইমাম ও মুজতাহিদ, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার এবং ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাদের পবিত্র নিসবাতুল আযীম মুবারক সংঘটনের দিন।
রহমত, বরকত, সাকীনা, ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ বুকে ধারণ করে আবার এই দিনটি উপস্থিত। প্রত্যেকে তার যোগ্যতানুযায়ী সেই দিনের কল্যাণ, সাকীনা লাভ করতে পারবে। অর্থাৎ যিনি যত আদব-ইহতিরাম, গুরুত্ব ও মুহব্বতের সাথে দিনটি উদযাপন করবেন, তিনি তত বেশি রহমত, বরকত, সাকিনা, ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ লাভ করতে পারবেন- এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।
এই দিনে যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাকিমুল হাদীছ, সুলত্বানুল ওয়ায়িজিন, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন, ছহিবাতুল মুকাররামাতু মুজাদ্দিদিল আ’যম, উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাদের পবিত্র জীবনী মুবারক আলোচনা করা, উনাদের ছানা-ছিফত করা, উনাদের মুবারক ছোহবত ইখতিয়ার করা, সাধ্যানুযায়ী হাদিয়া পেশ করা, মীলাদ শরীফ পাঠ করা, গরিব-দুঃখীদের খাদ্য দান ইত্যাদির মাধ্যমে দিনটিকে স্মরণ করা কর্তব্য।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
ان رحمت الله قريب من المحسنين
অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুহসিন তথা ওলীআল্লাহগণ উনাদের নিকটে।”
অর্থাৎ ওলীআল্লাহগণ উনাদের ছানা-ছিফত আলোচনা করলে, উনাদের খিদমত করলে মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত লাভ হয়। আর রহমত লাভ হলে সবকিছুই সহজ ও সম্ভব হয়।
এই বিষয়টিকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো স্পষ্ট ও সহজবোধ্য করে দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,
عند ذكر الصالحين تنزل الرحمة
অর্থ: “নিশ্চয়ই ছলিহীনগণ উনাদের আলোচনায় মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত নাযিল হয়।”
সর্বোপরি মু’মিনা, মু’মিনা, সালিক-সালিকাগণ এই দিন বিশেষ নিয়ামত তথা খাছ ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ লাভ করতে পারেন। যেহেতু সেদিন মহান মুজাদ্দিদে আ’যম এবং উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনারা ঐদিনের হক্ব আদায়কল্পে অত্যন্ত হাসি-খুশি থাকেন। আর ওলীআল্লাহগণ উনাদের হাসি-খুশির দিন, সময় হলো বান্দা-উম্মত, মু’মিন-মু’মিনা, সালিক-সালিকাগণের বিশেষ নিয়ামত লাভের মোক্ষম সময়। সুবর্ণ সুযোগ। আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি তাবুকের জিহাদের সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা পেশ করলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তখন অত্যন্ত খুশি হলেন। এবং বললেন, হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার জন্য এটা যথেষ্ট। আজকের পর কোনো আমলই উনার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। সুবহানাল্লাহ!
বাদশাহ জাহাঙ্গীর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবনেও এরূপ সুযোগ এসেছিলো একবার। উনার শায়েখ ইমামে রব্বানী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার কোনো এক কাজে খুশি হয়েছিলেন। সেই আনন্দঘন সময়ে তিনি বাদশাহ জাহাঙ্গীর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বলেছিলেন, “আমি যদি জান্নাতে যাই তাহলে আপনাকে অবশ্যই সাথে নিয়ে যাবো।” সুবহানাল্লাহ!
এরূপ আরো কত শত সৌভাগ্যবান ব্যক্তির জীবনে এরূপ সুবর্ণ সুযোগ এসেছিলো তা উল্লেখ করলে বিরাট আকারের কিতাব রচিত হবে। একালেও মহান আল্লাহ পাক তিনি সেই সিলসিলা অব্যাহত বা জারি রেখেছেন। আর সেই দিনের কথা স্মরণ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সবাইকে ১৯শে শাওওয়াল শরীফ দিনের রহমত, বরকত, সাকীনা, ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ লাভের তাওফীক দান করুন আমাদের সবাইকে। আমীন! আমীন!! আমীন!!!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে