সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

পবিত্র ২৯শে শা’বান মুবারক দিনটিও‘আইয়্যামিল্লাহ’ উনার অন্তর্ভুক্ত


ايام الله (আইয়্যামিল্লাহ) অর্থ- মহান আল্লাহ পাক উনার দিনসমূহ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সম্মানিত কালাম পাক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
وذكرهم بايام الله ان فى ذلك لايات لكل صبار شكور
অর্থ: “তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার দিনসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিন। নিশ্চয়ই এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল শোকর-গোজারকারীগণের জন্য অনেক নির্দশন মুবারক রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা ইবরাহীম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)
দিন-কাল, মাস, বছরসহ কায়িনাতের সবকিছুরই মালিক মহান আল্লাহ পাক তিনি। তিনি সকলেরই একচ্ছত্র অধিপতি, মালিক। তারপরেও কিছু দিন, কাল, স্থান, মাস, বছর এবং বিষয়কে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজের জন্য খাছ করেছেন। পবিত্র কা’বা শরীফ উনাকে بيت الله (বাইতুল্লাহ) মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর, পবিত্র রজব মাস উনাকে شهرالله (শাহরুল্লাহ) মহান আল্লাহ পাক উনার মাস, পবিত্র কুরআন শরীফ অধিক তিলাওয়াতকারীকে اهل الله (আহলুল্লাহ) মহান আল্লাহ পাক উনার আহাল বা পরিবার বলা হয়েছে। এমনিভাবে আরো অনেক বিষয় বা বস্তু আছে যেগুলোকে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহান শান মুবারক উনার সাথে নিসবত বা সম্পর্কযুক্ত করেছেন। তাছাড়া মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালাম পাক উনার অনেক জায়গায় কিছু স্থান, কাল, সময়, বিষয় ইত্যাদি নামে শপথ বা কসম করেছেন। অনুসরণীয় ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম তথা মুফাসসিরে কিরাম এবং মুহাদ্দিসসীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা সেই নিসবত বা সম্পর্ক এবং শপথের ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, মূলত মহান আল্লাহ পাক তিনি এর দ্বারা সেই বিষয়, স্থান, কাল, মাস, বছর ইত্যাদির মর্যাদা-মর্তবা, গুরুত্ব-তাৎপর্যের বিষয়টি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেছেন।
একইভাবে ايام الله (আইয়্যামিল্লাহ) মহান আল্লাহ পাক উনার দিনসমূহ বলে বিশেষ বিশেষ দিন তথা পূর্ববর্তী বা পরবর্তী লোকদের উপর উনার দেয়া নিয়ামত, রহমত, মাগফিরাত, দয়া, দান ইহসান নাযিলের দিনসমূহের কথা বলেছেন। সুবহানাল্লাহ! আবার পূর্বাপর সকল উম্মতের উপর আপতিত আযাব-গযব কিংবা ধ্বংসপ্রাপ্তির দিনগুলো সেই ايام الله (আইয়্যামিল্লাহ) উনার অন্তর্ভুক্ত।
মহান আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা হচ্ছেন ولى الله (ওলীউল্লাহ) মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী বা বন্ধু। উনারা উনার আহাল তথা পরিবারভুক্ত, সদস্য। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই ওলীআল্লাহ বা হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের সাথে নিসবত বা সম্পর্কযুক্ত কিংবা সংশ্লিষ্ট সকল দিন, কাল, সময়, স্থান ইত্যাদি বিষয়গুলোও যে ايام الله (আইয়ামুল্লাহ) বা মহান আল্লাহ পাক উনার দিনসমূহের অন্তর্ভুক্ত তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর সে ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ মুবারক দ্বারা এ কথা দিবালোকের ন্যায় পরিস্ফুটিত হয়েছে যে, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ, পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ এবং অন্যান্য বিশেষ ঘটনা বা স্মৃতি বিজড়িত দিনসমূহ স্মরণ করা বা করানো উচিত। কেননা সেই দিনগুলোতে ছবর ও শোকর ইখতিয়ারকারী তথা ধৈর্যশীল এবং চরম শোকর-গোজার বা অধিক পরিমাণে শোকরিয়া আদায়কারীগণের জন্য এতে অসংখ্য অগণিত নিয়ামতরাজি রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা এমনি এক মহান ব্যক্তিত্ব যে, উনাদেরকে দেখলে, উনাদের আলোচনা করলে, শুনলে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কথা স্মরণ হয়। মানুষ আল্লাহওয়ালা হওয়ার জযবা বা অনুপ্রেরণা লাভ করে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে,
الا انبئكم بخيار كم قالوا بلى يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال خيا ركم الذين اذا رأوا ذ كرالله تعالى
অর্থ: “আমি কী আপনাদেরকে জানিয়ে দিবো না যে, আপনাদের মধ্যে খিয়ার তথা ওলীআল্লাহ কে? হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা বললেন, অবশ্যই ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তখন তিনি বললেন, আপনাদের মধ্যে উনারাই খিয়ার তথা ওলীআল্লাহ যাদেরকে দেখলে মহান আল্লাহ পাক উনার কথা স্মরণ হয়।”
ايام الله (আইয়্যামুল্লাহ) অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার দিনসমূহ স্মরণ করা বা পালন করার আরো রহস্য ও তাৎপর্য হচ্ছে যে, সেই দিনগুলোতে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রহমত, বরকত এবং ইহসান অধিক পরিমাণে বা খাছভাবে নাযিল হয়। কুল-কায়িনাত বিশেষভাবে ও অতি সহজেই সেই রহমত, বরকত, দয়া, দান, ইহসান লাভ করতে পারে। অথচ সেই রহমত, বরকত, দয়া-দান, ইহসান ব্যতীত কারো পক্ষেই কামিয়াবী লাভ করা সম্ভব নয়। এমনকি কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। সেই অতীব গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রয়েছে মহান আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের সাথে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
ان رحمت الله قريب من المحسنين
অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত রয়েছে মুহসিন তথা ওলীআল্লাহগণ উনাদের নিকটে।”
আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উক্ত বিষয়টি আরো স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,
ان ذكر الصالحين تنزل الرحمة
অর্থ: “নিশ্চয়ই ছলেহীন তথা ওলীআল্লাহগণ উনাদের আলোচনায় রহমত নাযিল হয়।” সুবহানাল্লাহ!
কাজেই সুমহান ও পবিত্র ২৯ শা’বান শরীফ সেই রহমত, বরকত, সাকীনা, দয়া, দান, ইহসান নাযিলের বিশেষ দিন। সেই দিন মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুইজন মাহবুবা দুনিয়ায় মুবারক তাশরীফ এনেছেন। উনাদেরকে দুনিয়াবাসী সকলেই সাইয়্যিদাতাল উমাম ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম হিসেবে চিনে, জানে। মুজাদ্দিদে আ’যম, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন, উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাদের অতি আদরের নাওয়াসী বা নাতনীদ্বয়। নাক্বীবাতুল উমাম, ক্বায়িম-মক্বামে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, উম্মু আবিহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা আলাইহাস সালাম এবং শাফিউল উমাম, বাবুল ইলমি ওয়াল হিকাম, আসাদুল্লাহিল গালিব সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাদের অতি আদরের মেয়েদ্বয় আলাইহিমাস সালাম। উনারা দু’জনই আখাছছুল খাছ নিয়ামতপ্রাপ্তা মহান ওলীআল্লাহ। উনাদের বেমিছাল শান, মান, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক। এক্ষেত্রে উনাদের দৃষ্টান্ত উনারা নিজেই। সুবহানাল্লাহ!
সুমহান ও পবিত্র ২৯ শা’বান শরীফে উনাদের পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ হওয়ার অন্যতম হিকমত হচ্ছে- বান্দা-বান্দী, উম্মত সবাইকে বিশেষ রহমত, বরকত, সাকীনা, দয়া-মায়া, ইহসান দান করতঃ পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার নিয়ামত লাভের যোগ্যতাসম্পন্ন করা। কাজেই আসুন! সবাই মিলে অত্যন্ত আদব-ইহতিরামের সাথে সেই মহান দিনটি পালন করি এবং খালিছ বান্দা, উম্মত ও মুরীদ হওয়ার সর্বাত্মক কোশেশ করি।
হে মালিকে আ’যম আলাইহিস সালাম! আমাদের সবাইকে কবুল করুন। ইহসান করুন, গাইবী মদদ করুন। আমীন! আমীন!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে