পরকীয়ার পেছনের কথা…


WwvWv
অনেকদিন থেকেই লিখবো ভাবছিলাম…আজ সুযোগ হলো…
সব মানুষই সুখের অন্বেষণে থাকে।
কারো দুটো কথা আরেকজনের সাথে শেয়ার করার মধ্যেই সুখ,
কারো আরেকজনের সাথে দিন কাটাতে সুখ,
কারো গল্পে,আড্ডায় সুখ…
এই মানুষগুলা যখন স্বাভাবিক জীবনের নানামুখী ব্যস্ততায় বিভিন্ন ধরণের অসুখী কর্মকান্ডের সম্মুখীন হয়,তখন স্মৃতি ঘাটাঘাটি করে…
জীবনের সুখময়,আনন্দময় স্মৃতিগুলোকে খুঁজে…
আর সেই আনন্দময় ঘটনা সংশ্লিষ্ট মানুষের অভাব অনুভব করতে থাকে…
ভাবে “আজ আমার জীবনে ও না থেকে আমার যদি সেই পুরনো বন্ধুটিই থাকতো তবে এমন হতো না!”
কিন্তু দেখা যায়,তার সে বন্ধুও এরকমই ঘটনার মধ্যে দিয়েই দিনযাপন করছে…হয়তো কারণ বা ঘটনা একই না কিন্তু দুদিক থেকেই দুজন অসুখী।
জীবনসংগী নিয়ে তৃপ্ত না…ভাবে অন্য কেউ হলে জীবনটা এমন হতো না…
অথচ এসবক্ষেত্রে একটা কথা খুব খাটে তা হচ্ছে,”বেড়ার ওপাড়ে ঘাস সবুজ” এই তত্ত্বটি।
সবাই ঠিক এটা ভেবেই ভুল করে…
আর সবুজের সন্ধানে থাকে!
ঝামেলাটা এখানেই হয়…
আবার পাশের বাসার ভাবী যখন গর্ব করে নিজের আহালের কথা বলে ,সে খুব ভালো,বেড়াতে নিয়ে যায়,এটা এনে দেয় সেটা এনে দেয়, হেনতেন… তখন না পাওয়ার বেদনা মহিলাকে মুহূর্তে মর্মাহত করে…
আশা জাগে নানা রকমের…
উলটে যখন কোনো লোক তার আহলিয়ার (স্ত্রীর) রূপের প্রসংশা ,কর্মের প্রশংসা ইত্যাদি অন্য লোকের সামনে করে বেড়ায় তখন এসমস্ত গুণের অধিকারী না এমন মহিলার আহাল মনেমনে ব্যথিত হয়,অপরের আহলিয়াকে (স্ত্রীকে) দেখতে আগ্রহ বোধ করে…
অনেকসময় বর্ণনার মাধুর্যতা ব্যক্তিকে শ্রোতার কাছে যেমন না তার চাইতেও রূপবতী,গুণবতী করে তোলে…
কল্পনায় তো অনেক দূরই যাওয়া যায়…
আর দেখা সাক্ষাৎ হলে তো কথাই নাই…
এই যে বিষয়গুলো,প্রত্যেকটির পিছনে আর যা-ই কারণ থাকুক না কেন মূল কারণ যে বেপর্দা তা কি লক্ষ্য করা যাচ্ছে???
-ছেলেমেয়েগুলা যদি মিলেমিশে একাকার না হতো তবে কি সংসার জীবনে একজনের বিকল্প হিসেবে আরেকজনের চিন্তাটা আসতো???
-আহালগণ যদি তাদের আহলিয়ার বৈশিষ্ট্য আরেকজনের কাছে প্রকাশ না করে,আহলিয়াকে পর্দায় রাখে,তবে কোনো পুরুষ লোকের কি এ ধারণা হতো এর চাইতেও ভালো আছে,আমার আহলিয়া (স্ত্রী) অত গুণসম্পন্না না!বা অধিক রূপবতী বা গুণবতী মহিলা সম্পর্কে না জানলে,না দেখলে সে কি আরেকজনকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করতো!?
-মহিলাগণ কি আরেক পুরুষের চিন্তা করতে পারতো যদি নিজের স্বামীর চাইতেও কেউ স্ত্রীর প্রতি অধিক যত্নবান,সদালাপী অর্থাৎ সমূহবৈশিষ্ট্য সম্পর্কে না জানতো!বা অনুভব করতো কি???
আজ লোকজন এমন হারে কাপল ছবি আপলোড করে দেখলে যেকোনো অসুখী কাপল হা-হুতাশ করবে,অন্য জায়গায় সুখ খুঁজতে চাইবে।
এই যে তারা নিজেদের ছবিগুলা আপ্লোড করে তারা অবশ্যই দুঃখের মুহূর্তগুলা ফ্রেমাবদ্ধ করে না।যদিও তাদের দাম্পত্যজীবন খুব সুখময়ও না…
সংসারের টুকটাক ঝামেলা তো থাকেই…
এখন এই যে তারা নিজেদেরকে এভাবে জনসম্মুখে উন্মুক্ত করে এটা কি বেপর্দা হওয়া না???
আর ছবি তোলা তো হারামই।যা অসংখ্য হাদীস শরীফ দ্বারাই প্রমাণিত,যে,”প্রত্যেক ছবি তুলনেওয়ালা জাহান্নামী।”
“ক্বিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তির কঠিন শাস্তি হবে যে প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।”
যাইহোক,মূল যে বিষয়টা বলতে চাচ্ছিলাম,লোকজন যদি নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনযাপন ধারা,অবস্থা,এবং আহাল-আহলিয়া ( স্বামী-স্ত্রী) একে অপরের (হোক সত্যিই ) গুণ যদি পরনারী বা বেগানা লোকের কাছে না বলে বেড়ায়,না দেখিয়ে বেড়ায় এবং
ছোট অবস্থা থেকেই যদি পর্দার সাথেই বড় হয় তবে সাংসারিক জীবনে এমন দুর্ঘটনা থেকে সর্বোপরি হারাম-নাজায়িজ কাজ থেকে বেঁচে থাকতে পারবে এবং অবশ্যই জাহান্নামের আযাব থেকেও বাঁচবে…
কাজেই মহান আল্লাহ পাক যেন আমাদের সকলকেই এ বিষয়গুলো বুঝে সে অনুসারে আমল করার তৌফিক দান করেন,
সর্বাবস্থায় সর্বপ্রকার হারাম থেকে হেফাযত করেন।
আমীন।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে