পরম বিনয়ী, উসওয়াতুন হাসানাহ, খাছ ক্বায়িম মাক্বামে ইমামুল আউওয়াল ওয়া বাবুল ইলমি ওয়াল হিকাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম


নকশায়ে হায়দার, শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি উনার অতুলনীয় শান-মান, মর্যাদা ও মাক্বাম উনাদের সমন্বয়ে মুবারক স্বভাব-সঞ্জাত আপন স্বকীয়তায় অনন্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত এবং সবকিছুই ইমামুল আউয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সাথে একদম হুবহু মিল তথা ক্বায়িম মাক্বাম হিসেবে প্রতিয়মান।
পুরনো প্রবাদে রয়েছে: “নদী মরে গেলেও চিহ্ন থেকে যায়, অর্থাৎ নদী শুকিয়ে গেলেও নদীর চিহ্ন থেকে যায়।” এটি শুধু প্রবাদ নয়, একান্ত সত্য কথা। অভিজাত, সম্ভ্রান্ত, আল্লাহওয়ালা, বিশেষ করে সম্মানিত সাইয়্যিদ বংশের নেক সন্তানের চাল-চলন, রীতিনীতি, আচার-আচরণ, বাক্যালাপ, ব্যবহার, ব্যক্তিত্ব, মাহাত্ম্য ইত্যাদি সবকিছুই স্বাতন্ত্র- বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়ে থাকে। পবিত্র এ বিষয়গুলো আপন ‘জাত’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। মূলত রক্ত মুবারকের অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতায় এগুলো বুযূর্গ পূর্বপুরুষ উনাদের সঙ্গে অনিবার্য যোগসূত্রের সহজাত ফসল। সুবহানাল্লাহ!
প্রবাদে আরো রয়েছে
اَلنَّبِيُّ نَبِىٌّ وَلَوْ كَانَ صَبِىٌّ وَالْوَلِيُّ وَلِىٌّ وَلَوْ كَانَ صَبِىٌّ
তথা নবী তো নবীই যদিও তিনি শিশু হোন না কেন তেমনি ওলীতো ওলীই যদিও তিনি শিশু হোন না কেন?
ঠিক তেমনি শিশুকাল থেকেই আপন যোগ্যতায় গভীর আগ্রহে ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, নকশায়ে হায়দার, কুতুবুল আলম, বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম ওয়াল কাশফ ওয়াল কারামত, মুহইস্ সুন্নাহ, মাহীউল বিদয়াত, মিছদাক্বে কুরআন ওয়াল হাদীছ, মাহবুবে ইলাহী, সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম প্রতিক্ষেত্রে উনার বিনয়, শরাফত, গাম্ভীর্য, ধৈর্য, স্থৈর্য, আন্তরিকতা, সূক্ষ্মতা, তীক্ষ্মতা, তাক্বওয়া ইত্যাদি সকল বিষয়ই স্বাতন্ত্র্য-বৈশিষ্ট্যগুলো হাছিল করেন। উনার সবকিছুই সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসব নিয়ামতরাজি উনার বুযূর্গ সাইয়্যিদ পরিবারের সুমহান ঐতিহ্য, যা তিনি উনার আওলাদে রসূল সাইয়্যিদ পরিবারের বিশেষ শান মুবারক থেকে হাছিল করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
নকশায়ে হায়দার, বাবুল ইলমি ওয়াল হিকাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্রতম বিলাদত শরীফ ১৪ যিলক্বদ শরীফ। এই সুমহান পবিত্রতম বিলাদত শরীফ উনাতে খুশি প্রকাশ করা যমীনবাসীর নাজাত লাভের কারণও বটে।
যেহেতু মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,
ﻗُﻞْ ﺑِﻔَﻀْﻞِ ﺍﻟﻠﻪ ﻭَﺑِﺮَﺣْﻤَﺘِﻪِ ﻓَﺒِﺬَﻟِﻚَ ﻓَﻠْﻴَﻔْﺮَﺣُﻮﺍْ
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে ফযল মুবারক হিসেবে এবং রহমত মুবারক হিসেবে আমরা যা কিছুই লাভ করি তার জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করতে হবে।
পঞ্চদশ হিজরী শতকের সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রত্যেকটি আয়াত শরীফ উনাদের ‘নূযুল খাছ হুকুম আম।’
যদিও উপরোক্ত আয়াত শরীফ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে লক্ষ্য করে মহান আল্লাহ পাক তিনি নাযিল করেছেন। মূলত, আয়াত শরীফ উনার হুকুম আম। কাজেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আওলাদ আলাইহিমুস সালাম এবং ওয়ারাছাতুল আন্বিয়া ও নায়িব উনাদের অন্তর্ভুক্ত উনাদের পবিত্রতম সংশ্লিষ্ট দিবস পাওয়ার কারণে খুশি প্রকাশ করাও ফযীলতের কারণ।
প্রসঙ্গত: বর্তমান পঞ্চদশ হিজরী শতকে যিনি শ্রেষ্ঠ আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবুল্লাহ রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনারই লখতে জিগার হাবীবাতুল্লাহ, নূরে মদীনা, ত্বহিরা, তইয়্যিবা হযরত নাক্বিবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার যিনি সম্মানিত ছাহিব উনি হলেন ওলীয়ে মাদারযাদ, আওলাদে রসূল, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত হায়দার তথা নকশায়ে হায়দার, বাবুল ইলমি ওয়াল হিকাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম সুবহানাল্লাহ!
আর উনারই পবিত্রতম বিলাদত শরীফ পবিত্র সুমহান ১৪ যিলক্বদ শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করাও নাজাতের হিসসা।
অতএব, যমীনবাসী তথা আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- নকশায়ে হযরত হায়দার আলাইহিস সালাম, কুতুবুল আলম, বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম, হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্রতম বিলাদত শরীফ উনার মধ্যে খুশি প্রকাশ করে অত্যন্ত শান-শওকতের সাথে পবিত্র বিলাদত শরীফ পালন করতঃ রহমত, বরকত, সাকিনা হাছিল করা।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে