পহেলা বৈশাখের ব্যবচ্ছেদ



দেশের তথাকথিত বুদ্ধিবিহীন বুদ্ধিজীবী, মুর্খ সাহিত্যিক ও (অ)শিক্ষিত সমাজ বলে থাকে যে, পহেলা বৈশাখ বাঙালীর হাজার বছরের ঐতিহ্য। এই সকল বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, শিক্ষিত সমাজ প্রকৃতপক্ষে ইতিহাস,ভূগোল সহ সকল বিষয়ে নিরেট অজ্ঞ ও মূর্খ । প্রথমতঃ বাংলা সন বলে কোনো সনের অস্তিত্ব নেই। কারণ সম্রাট আকরব ৯৬৩ হিজরীর ২রা রবিউছ ছানী ইসলাম বিদ্বেষী হওয়ার কারণে হিজরী সন থেকে মুসলমানদেরকে সরিয়ে দেয়ার জন্য খাজনা আদায়ের সুবিধার্থের নামে হিজরী সনের পরিবর্তে ঋতুভিত্তিক সৌর সনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে তখনকার প্রচলিত হিজরী সনকে ‘ফসলী সন’ হিসেবে চালু করে। পরে একে বাংলা সন বলা হয়। দ্বিতীয়তঃ এটি কোন বাঙালী ঐতিহ্য নয় কারণ ফসলী সন (বাংলা সন) এর প্রবর্তক বাদশাহ আকবর এদেশীয় বাঙালী ছিলো না বা বাংলাভাষীও ছিলো না এমনকি বাংলাদেশীও ছিলো না । সে ছিলো সাম্রাজ্যবাদী ও মোগল বংশোদ্ভূত। তৃতীয়তঃ পহেলা বৈশাখ হাজার বছরের ঐতিহ্য নয় কারণ ফসলী সন তথা বাংলা সন গণনা শুরু হয় ৯৬৩ হিজরীতে। সে দিনকে ১লা বৈশাখ ৯৬৩ ফসলী সন ধরা হয়। সে হিসেবে মাত্র ৪৫৭ বছর হয়েছে। এখন উপলদ্ধির বিষয় হচ্ছে ভিনদেশী লোক দ্বারা প্রবর্তিত ইসলাম পরিপন্থী বিজাতীয়-বিধর্মীয় হারাম অনুষ্ঠান পালন করা কি মুসলামনদের ঈমানী পরিচয় তুলে ধরে?

 

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। সে প্রেক্ষিতে দেশে ইংরেজি ভাষাসহ বিভিন্ন উপজাতীয় ভাষার ঊর্ধ্বে যেমন রাষ্ট্রভাষা বাংলার মর্যাদা ও প্রাধান্য তেমনি সংবিধানের ২ নম্বর ধারায় বর্ণিত রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের কথা স্বীকারের প্রেক্ষিতে অন্যান্য ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীর উপরে ইসলাম ও মুসলমানের মর্যাদা ও প্রাধান্য স্বীকৃত হওয়া আবশ্যক এবং ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাও অনেক বেশি হওয়া কর্তব্য। যা মূলত প্রচলিত সংবিধানেরই ব্যাখ্যা। তাহলে সাংবিধানিক ভাবে রাষ্ট্রধর্ম  ইসলামকে অন্য ধর্মের উপর প্রাধান্যতা প্রয়োগে বিধর্মীদের যাবতীয় উৎসব পালন নিষিদ্ধ করতে হবে। কারণ ইসলামে যাবতীয় বিধর্মীদের অনুষ্ঠান হারাম। অন্যদিকে সরকার এ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সংবিধান লংঘনের দায়ে অভিযুক্ত হবেন। তাই সরকারের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে যাবতীয় বিধর্মীদের হারাম অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করা।

 

 ফসলী সন তথা বাংলা সনের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ মুলত বিজাতীয়-বিধর্মীদের উৎসব। পহেলা বৈশাখের  আগের দিন চৈত্র সংক্রান্তি পূজা আর পহেলা বৈশাখ হলো ঘট পূজা, গনেশ পূজার দিন। বৌদ্ধরা এই উল্কি পূজা করে। মজূশীদের (অগ্নি উপাসকদের) এই দিন নওরোজ উৎসব পালন করে।  উপজাতিদের বৈশাবী অনুষ্ঠান পালন করে থাকে। তাহলে দেখা যাচ্ছে পহেলা বৈশাখে মুসলমানদের কোন অংশ নেই। তাহলে মুসলমানরা কি করে  বিজাতীয়-বিধর্মীদের অনুষ্ঠান পালন করতে পারে? মুসলমানদের ঈমানী কুয়াত এতই কমে গেছে যে মুসলমানরা ইসলাম বিদ্বেষী কোন ঘটনায় প্রতিবাদ করা তো দুরের কথা বরং ইসলামী বিদ্বেষী বিধর্মীদের অনুষ্ঠানগুলো পালন করে যাচ্ছে। মুসলমানদের নিকট একটি প্রশ্ন রাখতে চাই, আজ পর্যন্ত কোন হিন্দু কিংবা বৌদ্ধ বা খৃষ্টানকে কি ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, শবে বরাত, শবে কদর উপলক্ষে মসজিদে আনতে পেরেছেন? উত্তর অবশ্যই না। তাহলে মুসলমানরা কি করে তাদের অনুষ্ঠানগুলোতে যেতে পারে?

 

 মুসলিম শরীফ-এর হাদীছ শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো অন্যায় বা হারাম কাজ সংঘটিত হতে দেখে সে যেনো তা হাত দ্বারা বাধা দেয়। যদি সে তা হাত দ্বারা বাধা দিতে না পারে তাহলে সে যেনো যবান দ্বারা বাধা দেয়। যদি যবানের দ্বারাও বাধা দিতে না পারে তাহলে যেনো অন্তরে তা ঘৃণা করে উক্ত অন্যায় বা হারাম কাজ থেকে দূরে সরে থাকে। আর এটা সবচেয়ে দুর্বল ঈমানের পরিচয়।” অন্য বর্ণনায় এসেছে, এরপর ঈমানের আর সরিষা পরিমাণ অংশও অবশিষ্ট থাকে না।” তাহলে  বর্তমান মুসলমানদের চিন্তা করা উচিত যে, তাদের ঈমান কোন স্তরে আছে। কারণ পহেলা বৈশাখ সহ বিজাতীয়-বিধর্মীদের যাবতীয় অনুষ্ঠান গুলোতে মুসলমানরা উৎসব পালন করে যাচ্ছে । অথচ মুসলমানদের উচিত ছিল প্রথমে হাতে বাধা দেয়া, না পারলে  মুখে বাধা দেয়া এবং সর্বশেষে অন্তরে খারাপ জেনে যারা দূরে থাকা। কিন্তু  মুসলমানরা তার কোনোটিই না করে সেই অনুষ্ঠানগুলো পালন করে যাচ্ছে। তাই মুসলমানদের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে সকল বিজাতীয়-বিধর্মীদের হারাম উৎসব পরিহার করে, তওবা করে ইসলামে পরিপূর্ণভাবে দাখিল হওয়া। মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে তৌফিক দান করুন (আমিন)

 

 ফসলী সন তথা বাংলা সনের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ মুলত বিজাতীয়-বিধর্মীদের উৎসব। পহেলা বৈশাখের  আগের দিন চৈত্র সংক্রান্তি পূজা আর পহেলা বৈশাখ হলো ঘট পূজা, গনেশ পূজার দিন। বৌদ্ধরা এই উল্কি পূজা করে। মজূশীদের(অগ্নি উপাসকদের) এই দিন নওরোজ উৎসব পালন করে।  উপজাতিদের বৈশাবী অনুষ্ঠান পালন করে থাকে। তাহলে দেখা যাচ্ছে পহেলা বৈশাখে মুসলমানদের কোন অংশ নেই। তাহলে মুসলমানরা কি করে  বিজাতীয়-বিধর্মীদের অনুষ্ঠান পালন করতে পারে? মুসলমানদের ঈমানী কুয়াত এত কমে গেছে যে মুসলমানরা ইসলাম বিদ্বেষী কোন ঘটনায় প্রতিবাদ করা তো দুরের কথা বরং ইসলামী বিদ্বেষী বিধর্মীদের অনুষ্ঠানগুলো পালন করে যাচ্ছে। এ প্রসংগে হযরত ইমাম আবু হাফস কবীর রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, নওরোজ বা নববর্ষ উপলক্ষে যদি কেউ একটা ডিমও দান করে তার ৫০ বৎসরের আমল থাকলে তা বরবাদ হয়ে যাবে। অর্থাৎ নওরোজ বা নববর্ষ পালনের কারণে তার জিন্দেগির সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যাবে। তাই মুসলমানদের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে সকল বিজাতীয়-বিধর্মীদের হারাম উৎসব পরিহার করে, তওবা করে ইসলামে পরিপূর্ণভাবে দাখিল হওয়া। মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে তৌফিক দান করুন (আমিন)

 

 মোগল সম্রাট বাদশাহ আকবর উলেমায়ে ‘ছু’দের ধোকায় “দ্বীন ইসলাম” বাদ দিয়ে কুফরী ধর্ম “দ্বীন-ই-ইলাহী” প্রবর্তন করে। সে ইসলাম বিদ্বেষী হওয়ার কারণে হিজরী সন থেকে মুসলমানদেরকে সরিয়ে দেয়ার জন্য খাজনা আদায়ের সুবিধার্থের নামে হিজরী সনের পরিবর্তে ঋতুভিত্তিক সৌর সনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে ৯৬৩ হিজরী ২রা রবীউছ ছানী, রোজ শুক্রবার, ইংরেজি ১৪ এপ্রিল ১৫৫৬ তারিখ থেকে পহেলা বৈশাখ গণনা শুরু করে। পরর্বতীতে হিন্দুরা এই দিনে পূজা পালনের মাধ্যমে পহেলা বৈশাখ পালন শুরু করে। বর্তমানে হিন্দু, বৌদ্ধ, মজুশী, উপজাতি সহ সকল বিধর্মীরা এই দিনে উৎসব করে থাকে। এখন ফিকিরের বিষয় হচ্ছে যে, ইসলাম হারাম ঘোষিত বিব্জাতীয়-বিধর্মীয় অনুষ্ঠান যদি কোন মুসলমান পালন করে তাহলে  সে কি “দ্বীন ইসলাম” চায় না “দ্বীন-ই-ইলাহী” চায়?

 

 ফসলী সন তথা বাংলা সনের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ মুলত বিজাতীয়-বিধর্মীদের উৎসব। পহেলা বৈশাখের  আগের দিন চৈত্র সংক্রান্তি পূজা আর পহেলা বৈশাখ হলো ঘট পূজা, গনেশ পূজার দিন। বৌদ্ধরা এই উল্কি পূজা করে। মজূশীদের(অগ্নি উপাসকদের) এই দিন নওরোজ উৎসব পালন করে।  উপজাতিদের বৈশাবী অনুষ্ঠান পালন করে থাকে। তাহলে দেখা যাচ্ছে পহেলা বৈশাখে মুসলমানদের কোন অংশ নেই। তাহলে মুসলমানরা কি করে  বিজাতীয়-বিধর্মীদের অনুষ্ঠান পালন করতে পারে? মুসলমানদের ঈমানী কুয়াত এত কমে গেছে যে মুসলমানরা ইসলাম বিদ্বেষী কোন ঘটনায় প্রতিবাদ করা তো দুরের কথা বরং ইসলামী বিদ্বেষী বিধর্মীদের অনুষ্ঠানগুলো পালন করে যাচ্ছে। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  সুনানে আহমদ, সুনানে আবূ দাঊদ শরীফ-এ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদের দলভুক্ত এবং তাদের হাশর-নশর তাদের সাথেই হবে।” তাহলে সে সকল মুসলমান পহেলা বৈশাখ পালন করে তাদের হাশর-নশর অবশ্যই  হিন্দু, বৌদ্ধ, মজুশীদের সাথে হবে। তাই মুসলমানদের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে সকল বিজাতীয়-বিধর্মীদের হারাম উৎসব পরিহার করে, তওবা করে ইসলামে পরিপূর্ণভাবে দাখিল হওয়া। মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে তৌফিক দান করুন (আমিন)

 

 বাংলাদেশ শতকরা ৯৭ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশ। এদেশের রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম। কিন্তু উলামায়ে ‘ছু’দের বিভ্রান্তি ও কুফরীমুলক বক্তব্য এবং সরকারের বৈষম্যমুলক আচরণের কারণে দেশের মানুষ ইসলামী অনুষ্ঠান পালন বাদ দিয়ে বিজাতীয়-বিধর্মীদের অনুষ্ঠান পালনে মশগুল হয়ে যাচ্ছে। দেশের ধর্ম ব্যবসায়ী উলামায়ে ‘ছু’রা পহেলা বৈশাখকে “নিয়ামত” বলে ফতওয়া দিচ্ছে। তাদের এই কুফরী ফতওয়া কারণে দেশের আপামর জনগণ পহেলা বৈশাখ পালনে উৎসাহিত হচ্ছে। মুসলমানরা আজ পহেলা বৈশাখের গান্ধা পান্তা ভাত খাচ্ছে, বেপর্দা-বেহায়া হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, গান-বাজনার অনুষ্ঠানে যাচ্ছে, মেলায় যাচ্ছে, আরো কত কি। কিন্তু ইসলাম কখনই এগুলোকে সমর্থন করে না। ইসলামের কোথাও কোনো বছর এমনকি হিজরী সনের প্রথম দিন পহেলা মহররমের দিন ভাল খাবার খাওয়ার ব্যাপার তাগিদ দেয়া হয়নি। বরং ১০ই মহররম তথা পবিত্র আশুরার দিন ভালো খাবার খাওয়ার ব্যাপারে নির্দেশ প্রদান করেছে। তাই সকল মুসলমানদের উচিত হবে সকল বিজাতীয়-বিধর্মীদের অনুষ্ঠান বাদ দিয়ে ইসলামী পর্বগুলো যথাযথ পালন করা এবং পবিত্র আশুরার দিন ভালো  খাবার খাওয়ার ব্যবস্থা করা।

 

বাংলাদেশ শতকরা ৯৭ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশ। তাই এই দেশে ইসলাম ধর্ম প্রাধান্য পাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবে তার বিপরীত দেখা যাচ্ছে। পহেলা বৈশাখ আসলেই সারাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ,খৃষ্টান সবাই একাকার হয়ে উৎসব পালন করে বেড়ায়। তখন দেখে বুঝবার উপায় থাকে না যে, এটা কি কোন মুসলমানদের দেশ না বিধর্মীদের দেশ? একদিকে দেশের ধর্মব্যবসায়ী উলামায়ে ‘ছু’রা পহেলা বৈশাখকে “নিয়ামত” বলে যাচ্ছে অন্যদিকে দেশের সরকার পহেলা বৈশাখ পালনের সব ধরণের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিকোণ এটি সম্পূর্ণ হারাম এবং সংবিধানের আলোকে পহেলা বৈশাখ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের কোন অনুষ্ঠান হতে পারে না। তাই সরকারকে অবিলম্বে পহেলা বৈশাখের সরকারী ছুটি বাতিল সহ এ অনুষ্ঠান পালনে সকল রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বাতিল করে মুসলমানদের ইসলাম পালনের সুষ্ঠ পরিবেশ তৈরী করে দিতে হবে।

!________________!__________________!

*সংশ্লিষ্ট পোস্ট:

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+