সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানের আড়ালে মুসলিম সংস্কৃতি নিধন-(০৮)


বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠান কি ধরণের অনুষ্ঠান?

নববর্ষ তথা পহেলা বৈশাখ পালনের নামে বেপর্দা, বেহায়াপনা, নোভেল, নাটক, নাচ-গান, বাজনা, উল্কি আঁকা, পূজা করা ইত্যাদি করা হয়। যা সম্পূর্ণরূপে বেদ্বীন-বদদ্বীনদের সংস্কৃতি। যা মূলত মুসলমানদের বিরোধিতা করতে গিয়ে প্রবর্তিত হয়।এতে তারা পান্তা খায়, গান-বাজনা করে, র‍্যালী করে, জীব-জানোয়ারের মুখোশ পরে, মিছিল করে, শরীরের নানা অঙ্গ-প্রতঙ্গে উল্কি আঁকে, ডুগডুগি বাজিয়ে নেচে নেচে হৈহুল্লোড় করে, পুরুষরা ধুতি ও কোণাকাটা পাঞ্জাবী যা হিন্দুদের জাতীয় পোশাক তা পরে, মেয়েরা লাল পেড়ে সাদা শাড়িসহ হাতে রাখি বাঁধে, শাঁখা পরে, কপালে লাল টিপ ও চন্দন এবং সিথিতে সিঁদুর দেয়, বেপর্দা, বেহায়া হয়- যা সম্মমানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম ও কুফরী।

পহেলা বৈশাখের অনর্থক কথা ও বানোয়াট গল্প-কাহিনী এবং গান-বাজনা মানুষকে জীবনের মূল লক্ষ্য থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য শয়তানের পুরোনো কূটচালের এটি একটি, আল্লাহ পাক এ কথা কুরআন শরীফে স্পষ্ট করে দিয়েছেন,

এবং তাদের মধ্যে যাদেরকে পার পর্যায়ক্রমে বোকা বানাও তোমার গলার স্বরের সাহায্যে, … ” [সূরা বনী ইসরাঈল :৬৪]

যে কোন আওয়াজ, যা আল্লাহ পাক উনার অবাধ্যতার দিকে আহবান জানায়, তার সবই এই আয়াত শরীফে বর্ণিত আওয়াজের অন্তর্ভুক্ত। [তফসীর ইবন কাসীর]

আর হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

আমার উম্মাতের মধ্যে কিছু লোক হবে যারা ব্যভিচার, রেশমী বস্ত্র, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল বলে জ্ঞান করবে।” [বুখারী শরীফ]

এছাড়াও এ ধরনের অনর্থক ও পাপপূর্ণ অনুষ্ঠান সম্পর্কে বহু সতর্কবাণী এসেছে কুরআন শরীফ উনার অন্যান্য আয়াত শরীফে এবং হাদীছ শরীফে। যে সকল মুসলিম উনাদের মধ্যে ঈমান এখনও অবশিষ্ট রয়েছে, তাদের উচিৎ এসবকিছুকে সর্বাত্মকভাবে পরিত্যাগ করা।

নববর্ষের অনুষ্ঠানাদির মধ্যে  আরও রয়েছে: পটকা ফুটিয়ে বা আতশবাজি পুড়িয়ে ভোর ছয়টায় হৈ হুল্লোড় করে বিধবার মত পোশাক পরে পরিবেশ ও প্রতিবেশের শান্তি বিনষ্ট করে নববর্ষকে স্বাগত জানানো, ব্যান্ড সঙ্গীত বা অন্যান্য গান-বাজনার ব্যবস্থা, সম্ভ্রান্ত পল্লীর বাড়ীতে বা ক্লাবে গান-বাজনা, মদ্যপান ও পান শেষে ব্যভিচারের আয়োজন, পান্তা-গান্ধা খাওয়া ইত্যাদি – এছাড়া রেডিও টিভিতে বিশেষ অনুষ্ঠান ও পত্রপত্রিকার বিশেষ ক্রোড়পত্র ও “রাশিফল” প্রকাশ।

ব্যভিচারের প্রতি আহবান জানানো শয়তানের ক্লাসিকাল ট্রিকগুলোর অপর একটি, যেটাকে কুরআন শরীফে “ফাহিশাহ” শব্দের আওতায় আলোচনা করা হয়েছে, শয়তানের এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেন,

হে মানুষ! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল পবিত্র বস্তু আছে তা থেকে তোমরা আহার কর আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে তো তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু সে তো তোমাদের নির্দেশ দেয় মন্দ অশ্লীল কাজ [ব্যভিচার, মদ্যপান, হত্যা ইত্যাদি] করতে এবং আল্লাহ পাক সম্বন্ধে এমন সব বিষয় বলতে যা তোমরা জান না।” [সূরা আল বাকারা :১৬৮-১৬৯]

ইসলাম উনার দৃষ্টিকোণ থেকে নববর্ষ সংক্রান্ত যাবতীয় অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এজন্য যে, এতে নিম্নোলিখিত চার শ্রেণীর হাজারো ইসলাম বিরোধী বিষয় রয়েছে:

১. শিরকপূর্ণ অনুষ্ঠানাদি, চিন্তাধারা সংগীত
২. নগ্নতা, অশ্লীলতা, ব্যভিচারপূর্ণ অনুষ্ঠান
৩. নাচ-গান বাদ্যপূর্ণ অনুষ্ঠান
৪. সময় ও টাকা অপচয়কারী অনর্থক বাজে কথা এবং কাজ

পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানের আড়ালে মুসলিম সংস্কৃতি নিধন-(০৭)

পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানের আড়ালে মুসলিম সংস্কৃতি নিধন-(০৬)

পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানের আড়ালে মুসলিম সংস্কৃতি নিধন-(০৫)

পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানের আড়ালে মুসলিম সংস্কৃতি নিধন-(০৪)….

পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানের আড়ালে মুসলিম সংস্কৃতি নিধন-(০৩)..

পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানের আড়ালে মুসলিম সংস্কৃতি নিধন-(০২)..

পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানের আড়ালে মুসলিম সংস্কৃতি নিধন-(০১)..

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. real_slasher says:

    আসলে মুসলিম সংস্কৃতি নিধন না সরাসরি মুসলিম নিধন। কারণ মালুদের সাথে মাখামাখি করলেই শুধুমাত্র মুসলমানরা পরবর্তিতে অর্থনৈতিক ও শারীরিক হামলার শিকার হয়।

  2. পরশ পরশ says:

    সুকরিয়া বিস্তারিত লিখার জন্য

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে