পহেলা বৈশাখ অমঙ্গল শোভাযাত্রা পালন করা কি করে মুসলমানদের জন্য জায়িয হতে পারে?


মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনের পর উনার প্রতি নাযিলকৃত পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনার হুকুম তথা আদেশ-নিষেধ বাদ দিয়ে অন্য কোনো দ্বীন-ধর্ম ও মতবাদের অনুসরণ অনুকরণ জায়িয নেই। বরং অনুসরণ করা কাট্টা হারাম ও কুফরী। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং ইরশাদ মুবারক করেন- যে ব্যক্তি দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম বা মতবাদের নিয়ম-নীতি গ্রহণ করবে সেটা তার থেকে কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং সে অবশ্যই পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থাৎ জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। নাউযুবিল্লাহ! (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮৫)

আর এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফও বর্ণিত রয়েছে। “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, একদিন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট তাওরাত শরীফ উনার একটি কপি এনে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এটি তাওরাত শরীফ-এর একটি কপি। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শুনে চুপ থাকলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি তা পড়তে আরম্ভ করলেন। আর এদিকে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুর রহমত মুবারক (চেহারা মুবারক) লাল হতে লাগলো অর্থাৎ অসন্তুষ্টির ভাব ফুটে উঠলো। এ অবস্থা দেখে হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম! আপনার জন্য আফসুস! আপনি কি দেখছেন না যে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুর রহমত মুবারক কিরূপ ধারণ করছেন। তখন হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুর রহমত মুবারক উনার দিকে তাকালেন এবং অসন্তুষ্টির ভাব লক্ষ্য করে বললেন, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার অসন্তুষ্টি থেকে এবং উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অসন্তুষ্টি থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পানাহ চাচ্ছি। আর আমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে রব হিসেবে, সম্মানিত ইসলাম উনাকে দ্বীন হিসেবে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নবী ও রসূল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট রয়েছি। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, সেই মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! যার অধিকারে আমার প্রাণ মুবারক রয়েছে, এখন যদি তোমাদের মাঝে হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস্ সালাম (যার উপর তাওরাত শরীফ নাযিল হয়েছে) যাহির বা প্রকাশ হতেন আর তোমরা আমাকে ছেড়ে উনার অনুসরণ করতে তথাপিও তোমরা সঠিক পথ অর্থাৎ হিদায়েত থেকে অবশ্যই বিচ্যুত হয়ে যেতে অর্থাৎ গুমরাহ হয়ে যেতে। এমনকি মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি যদি এখন হায়াত মুবারক-এ থাকতেন আর আমাকে পেতেন তাহলে তিনিও অবশ্যই আমার অনুসরণ করতেন।” সুবহানাল্লাহ! (দারিমী, মিশকাত, মিরকাত)

তাহলে বিধমীদের নিয়ম-নীতি, তর্জ-তরীক্বা পহেলা বৈশাখ অমঙ্গল শোভাযাত্রা পালন করা কি করে মুসলমানদের জন্য জায়িয হতে পারে?
অতএব, মুসলমান উনাদের জন্য ফরয-ওয়াজিব হলো, বেদ্বীন, বদদ্বীন অর্থাৎ কাফির-মুশরিকদের নিয়মনীতি, তর্জ-তরীক্বা, আদেশ-নিষেধ অনুসরণ না করে দ্বীন ইসলাম উনার উপর অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনার উপর সর্বাবস্থায় দৃঢ়চিত্ত বা ইস্তিকামত থাকা।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে