পাঠ্যপুস্তকে বিজাতীয় শিক্ষার অনুপ্রবেশ সংবিধান বহির্ভূত যা রাষ্ট্রীয় আইনের সীমালংঘন


গণতান্ত্রিক সংবিধানে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় বিষয়ে অনধিকার চর্চা, অন্যের ধর্মের উপর হস্তক্ষেপ, জোরপূর্বক ভিন্নধর্ম শিক্ষা দেয়া ইত্যাদি অপরাধ হিসেবে উল্লেখিত আছে। ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে সংবিধানের ৪১নং অনুচ্ছেদে। এর ১নং অনুচ্ছেদের উপ-অনুচ্ছেদ নং (২)-এ বলা হয়েছে, ‘কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগদানকারী কোনো ব্যক্তির নিজস্ব ধর্মসংক্রান্ত না হলে তাকে কোনো ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ কিংবা কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উপাসনালয়ে অংশগ্রহণ বা যোগদান করতে হবে না।’

অর্থাৎ আমাদের মূল দ-আইন ও দ-বিধিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিংবা পাঠ্যপুস্তকে ভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো পূজা অনুষ্ঠান আয়োজন করা ইত্যাদি দ-নীয় অপরাধ হিসেবে উল্লিখিত হয়েছে। দ-বিধিতে উল্লিখিত যেকোনো অপরাধ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কৃত অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। তাই দ-বিধিতে উল্লিখিত অপরাধের দায়ে কোনো ব্যক্তি অভিযুক্ত হলে তাকে বিচারের আওতায় এনে সাজার ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বলাবাহুল্য, ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত এদেশে এনসিটিবি’র প্রণীত সিলেবাসের প্রতিটি পাঠ্যপুস্তকে বিধর্মী-বিজাতীয় শিক্ষার অনুপ্রবেশ ঘটেছে।
এখানে সংবিধানে উল্লেখিত বিধি মোতাবেক প্রশ্ন উত্থাপিত হয় যে, ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত এদেশের পাঠ্যপুস্তকে বিধর্মী-বিজাতীয় লেখকদের লেখার আধিক্য, বিধর্মী-বিজাতীয় শব্দ-পরিভাষা সর্বোপরি বিধর্মী-বিজাতীয় শিক্ষার আধিক্য, নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসে অনুপ্রেরণা যোগায় এমন পাঠ সংযুক্ত করা সংবিধান অবমাননার অপররাধ নয় কি? খোদ সরকারি প্রতিষ্ঠান এনসিটিবি রাষ্ট্রীয় আইন লংঘন করলে এ অপরাধের শাস্তি কি হবে না? রাষ্ট্রীয় আইন লংঘন করে এসব পাঠ্য পুস্তক সংশোধন করা সরকারের দায়িত্ব নয় কি?

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে