পানি পান করা পবিত্র সুন্নত মুবারক; যা নিয়মিত ও পরিমিত পানে ৮০% রোগমুক্তিসহ অনেক উপকারীতার কারণ


পানি পান করাও পবিত্র সুন্নত মুবারক। যা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে। তবে পানি পান করার সুন্নতী তরতীব জেনে নেয়া একান্ত আবশ্যক। পানি পান করার সুন্নতী তরতীব হলো:-
* কাঠের পেয়ালাতে পানি পান করা।
* ডান হাতে পানি পান করা।
* ‘বিসমিল্লাহ’ বলে পানি পান শুরু করা।
* পানি পানের পূর্বে পানির পাত্রে ক্ষতিকারক কিছু আছে কিনা দেখে পান করা।
* তিন ঢোকে বা শ্বাসে পানি পান করা।
* বসে পানি পান করা।
* পানি পান শেষে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পাঠ করা।
পর্যাপ্ত পানি পানের সুফল: পানি সমস্ত রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো ওষুধ। তবে সে পানি হতে হবে বিশুদ্ধ। পানি আমাদের শরীর কে সতেজ রাখে এবং বিভিন্ন রোগ থেকে শরীরকে রক্ষা করে। পানি পান করলে তা দেহ থেকে টক্সিন (বিষ) তাড়ায়, চামড়ার আর্র্দ্রতা রক্ষা করে, হজম শক্তি বাড়ায়। এক কথায়, স্বাস্থ্যের প্রভূত উপকার করে। কিডনীর কার্যকারিতা সঠিক ভাবে পরিচালনা করার জন্য পানি অনেক সাহায্য করে। ত্বক ও শরীর হাইড্রেট রাখে ফলে ত্বক উজ্জ্বল দেখায়। শরীরের ক্ষতিকর বিষাক্ত উপাদান যেমন: ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন, ইত্যাদি দুর করে। পর্যাপ্ত পানি পানের উপকারিতা নিম্নরূপ-
* শরীরের কোষগুলোকে সবল ও স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
* শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে।
* কিডনি, যকৃৎ, হৃৎপি- ও মস্তিষ্ক ভালো থাকে।
* মাথার যন্ত্রণা, অম্বল, শরীরের ব্যথা এবং ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
* খাবার হজমে সহজ হয়।
* সবচেয়ে সহজে শরীরের ওজন কমানো যায়।
* শরীর থেকে সমস্ত বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন দূর করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
* পেশী ও হাড় সুস্থ থাকে।
* ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে সহায়ক ও ত্বকের শুষ্কতা রোধে উপকারী।
* শরীরে শক্তির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
* সুতরাং কাজের প্রয়োজনে বাহিরে যেতেই হয় এজন্য সাথে অবশ্যই পানির বোতল রাখার অভ্যাস করুন। নির্দিষ্ট মাপের বোতল থেকে পানি পান করুন এবং সুস্থ থাকুন।
কাজেই শত ব্যস্ততার মাঝেও দৈনিক ষোল (১৬) বাটি পানি পানের অভ্যাস ধরে রাখবেন। কেননা সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, নূরে মুকাররম, হাবীবুল্লাহ, মুহইউস সুন্নহ, যামানার লক্ষ্যস্থল আহলে বাইত ওলীআল্লাহ, যামানার শ্রেষ্ঠতম ইমাম ও মুজতাহিদ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন-
“কেউ যদি দৈনিক ১৬ বাটি পানি পান করে তাহলে তার শরীর ৮০ ভাগ রোগমুক্ত থাকবে।” সুবহানাল্লাহ!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে