পারিবারিক অশান্তির কারণ এবং উত্তোরনের কতিপয় দিক-১০


বোধশক্তিহীন স্বামীরা যখন জোর করে স্ত্রীকে দিয়ে সবার খেদমতে নিয়োজিত করে তখনই ফিৎনা সৃষ্টি হয়।

এখন বিয়ে করা মানে স্ত্রীকে দিয়ে কলুর বলদের মত কাজ করানো।আর না করলে স্ত্রী হয় খারাপ। আর স্বামী মানেই দুধে ধোয়া, সব অপরাধ মাফ। লজ্জা করা দরকার এসমস্ত স্বামী নামক নরপশুদের। অথচ নুরে মুজাসসাম হযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজে উম্মুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে ঘরের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করেছেন। এমনকি ঘর মুবারক ঝাড়ু পর্যন্ত দিয়েছেন।

 মূলত স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক দায়-দায়িত্ব, অধিকার, কর্তব্য ইত্যাদি বিষয়ে ইসলামে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা রয়েছে। স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে সম্পর্ক কেমন হবে, তা খুব চমৎকারভাবে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ননা রয়েছে।  মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন , ‘স্ত্রীরা হচ্ছে তোমাদের জন্য পোশাক স্বরূপ।’ (সূরা ২ বাকারা, আয়াত শরীফ-১৮৭} অর্থাৎ পোষাক যেমন মানুষের দেহকে আবৃত করে রাখে, তার নগ্নতা  ও কুশ্রীতা প্রকাশ হতে দেয় না এবং সব রকমের ক্ষতি-অপকারিতা থেকে বাঁচায়, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের জন্য ঠিক তেমনি। পোশাক যেমন দেহের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, তদ্রুপ স্বামী-স্ত্রীও পরস্পরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে সচেষ্ট থাকা উচিত। পোশাক যেমন দেহের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে লেগে থাকে, তদ্রুপ স্বামী-স্ত্রীও একে অপরের সুখে-দুখে অঙ্গাঙ্গিভাবে লেগে থাকা জরুরি।
মহান আল্লাহ পাক তিনি পারিবারিক জীবনের মধুময়তা প্রসঙ্গে ইরশাদ মুবারক করেন, ‘এবং আল্লাহর একটি বড় নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে সঙ্গীনি গ্রহণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, যেন তোমরা সে সঙ্গীনির কাছ থেকে পরম পরিতৃপ্তি লাভ করতে পার। আর তোমাদের মাঝে তিনি মুহব্বত-ভালবাসা, দয়া-ইহসান  সৃষ্টি করে দিয়েছেন। (সূরা রূম, আয়াত শরীফ-২১)

পোশাকের ঠিকমত যত্ন না নিলে যেমন নষ্ট হয়ে যায়, ঠিক স্বামী যদি স্ত্রীর সব দেখাশুনা তথা অধিকার আদায় না করে তাহলে সংসার নষ্ট হয়ে যাবে। ইসলাম উনার মধ্যে যতটুকু কাজের কথা স্ত্রীর বলা হয়েছে ততোটুকুই তাকে দিয়ে করাতে হবে। জোর করে পরিবারের অন্যকারও খেদমতে নিয়োজিত করা একজন স্বামীর ভদ্রতা না। স্ত্রীর ইচ্ছার উপরে ছেড়ে দেয়াই ভদ্র স্বামীর দায়িত্ব ও কর্তব্য। তবে কাজের খুব দরকার হলে স্ত্রীকে বুঝিয়ে বলতে হবে।স্ত্রী ঠিকই শুনবে। কিন্তু আমাদের সমাজের ননদ ও শাশুড়িরা খুবই নোংরা আচরণ করে থাকে। যার জন্য তার স্ত্রী স্বামী ছাড়া অন্য কারও কাজ করতে আগ্রহী হয় না।আর খারাপ আচরণ করলে কাজ করে দিবে না এটা খুবই স্বাভাবিক কথা। তারপরও আমাদের সমাজের নামধারী স্বামীগুলো বুঝে না। উল্টো স্ত্রীকে বকা দেয়। যা সভ্য স্বামীর কাজ নয়।

এখনকার পরিবার গুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় বেশির ভাগ মানুষই ইসলামীক পারিবারিক নিয়ম মানতে নারাজ। সুফী, দরবেশ, মাওলানা, মুফতিসহ আম জনতা তার স্ত্রীকে গরুর মত কাজ করায়। শশুড়ের খেদমত, শাশুড়ীর খেদমত, ননদের খেদমত, স্বামীর খেদমত ও সন্তানদের খেদমত একসাথে একজন স্ত্রী কিভাবে করতে পারে তা আমার বুঝে আসে না। তারপরও এখনকার সমাজে জোর করে করাচ্ছে। আর যদি তার স্ত্রী কোনও কারনে কাজ করতে না পারে তাহলে পরিবারের ননদ বা শাশুড়ীর মাধ্যমে মানসিক বা শারিরীকভাবে অপদস্তও হয়। যা একজন মুসলমান উনার কাছে আশা করা যায় না। উচিত ছিল সে কাজে সহযোগিতা করা কিন্তু তা করা হয় না, উল্টো জোর করে কাজগুলো আদায় করা হয়। ফলে পরিবারে ফিৎনা সৃষ্টি হয়। একসময় সংসার ভেঙে যায়। তারপরও আমাদের সমাজের পশুরুপী স্বামীগুলো স্ত্রীকে ইসলাম উনার আলোকে অধিকার দিতে রাজি না।

অথচ নুরে মুজাসসাম হযুযর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা অধীনস্থদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে এবং তাদেরকে কোন রকমের কষ্ট দেবে না। তোমরা কি জান না, তাদেরও তোমাদের মতো একটি হৃদয় আছে। ব্যথা দানে তারা দুঃখিত হয় এবং কষ্টবোধ করে। আরাম শান্তি প্রদান করলে সন্তুষ্ট হয়। তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা তাদের প্রতি আন্তরিকতা প্রদর্শন কর না।’ (বুখারী শরীফ)

পারিবারিক অশান্তির কারণ এবং উত্তোরনের কতিপয় দিক-০৯..

পারিবারিক অশান্তির কারণ এবং উত্তোরনের কতিপয় দিক-০৮..

পারিবারিক অশান্তির কারণ এবং উত্তোরনের কতিপয় দিক-০৭..

পারিবারিক অশান্তির কারণ এবং উত্তোরনের কতিপয় দিক-০৬..

পারিবারিক অশান্তির কারণ এবং উত্তোরনের কতিপয় দিক-০৫..

পারিবারিক অশান্তির কারণ এবং উত্তোরনের কতিপয় দিক-০৪..

পারিবারিক অশান্তির কারণ এবং উত্তোরনের কতিপয় দিক-০৩..

পারিবারিক অশান্তির কারণ এবং উত্তোরনের কতিপয় দিক-০২..

পারিবারিক অশান্তির কারণ এবং উত্তোরনের কতিপয় দিক-০১..

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+