পারিবারিক অশান্তির কারণ এবং উত্তোরনের কতিপয় দিক-০৩


পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইসলাম উনার দৃষ্টিতে বিশেষ একটি গুণ দ্বীনদারী বা পরহেজগারী যাচাই করে দেখা আবশ্যক

 বিবাহের একটি অন্যতম গুণ হচ্ছে, ‘বর-কনের দ্বীনদার ও ধার্মিক হওয়া’। এ সম্পর্কে নুরে মুজাসসাম হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘চারটি গুণের কারণে একটি মেয়েকে(বা ছেলেকে) বিবাহ করার কথা বিবেচনা করা হয়।  তার ধন-সম্পদ, তার বংশ গৌরব-সামাজিক মান-মর্যাদা, তার রূপ-সৌন্দর্য এবং দ্বীনদারী। কিন্তু তোমরা দ্বীনদার মেয়েকে(বা ছেলেকে) বিবাহ করে সফলতা অর্জন কর।’(বুখারী শরীফ)

উল্লেখিত হাদীস শরীফে চারটি গুণের মাঝে সর্বশেষ গুণটাই মূখ্য। প্রথম তিনটি গুণ বিদ্যমান থাকার পরেও যদি শেষের গুণ-দ্বীনদারী তথা পরহেজগারী না থাকে, তাহলে প্রথমোক্ত তিনটি গুণ মূল্যহীন হয়ে যাবে।  অর্থাৎ বর-কনের মধ্যে অবশ্যই দ্বীনদারী তথা পরহেজগারী থাকতে হবে। যদি বরের দ্বীনদারী না থাকে তাহলে পিতার কখনই ঠিক হবেনা মেয়ে দেয়া, আর যদি মেয়ের পরহেজগারী না থাকে তাহলে ছেলের উচিত হবেনা মেয়েকে গ্রহন করা। উভয় পরিবারকে মধুময় সুন্নতি সংসারের জন্য এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা লক্ষ রাখতে হবে। কোনও ভাবেই হালকা করে দেখার এতটুকু সুযোগ দেয়নি ইসলাম-এটা মনে রাখতে হবে।

 আরো হাদীস শরীফ উনার মধ্যে নুরে মুজাসসাম হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,- ‘তোমরা মেয়েদের (বা ছেলেদের) কেবল তাদের রূপ-সৌন্দর্য দেখেই বিয়ে করো না। কেননা, এ রূপ-সৌন্দর্য অনেক সময় তাদের ধ্বংসের কারণ হতে পারে। তাদের ধন-সম্পদের লোভে পড়েও বিয়ে করবে না। কেননা এ ধন-সম্পদ তাদের বিদ্রোহী ও অনমনীয় বানাতে পারে। বরং তাদের দ্বীনদারীর গুণ দেখেই তবে বিয়ে করবে। বস্ত্তত একজন দ্বীনদার  দাসীও(দাসও) অনেক ভাল। (ইবনে মাযাহ শরীফ)।

 পবিত্র কুরআন শরীফে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ‘তোমরা স্ত্রীদের সাথে খুব ভাল ব্যবহার(সুন্নতি আচরন) ও সৎভাবে তথা দ্বীনদারীর সাথে বসবাস করো। তোমরা যদি তাদের অপছন্দ কর, তাহলে হতে পারে যে, তোমরা একটা জিনিসকে অপছন্দ করছ, অথচ আল্লাহ পাক তার মধ্যে বিপুল কল্যাণ নিহিত রেখেছেন। (সূরা ৪ নিসা, আয়াত শরীফ-১৯)

এখানে বর-কনে উভায়কে দ্বীনদারী বা শরীয়ত সম্মত বিধিবদ্ধ জীবন-যাপনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। অর্থাৎ জান্নাতের ছোয়ায়  থাকতে চাইলে পৃথিবীতে  নিয়ম-মাফিক শরীয়ত সম্মত জীবন-যাপন করতে হবে। তবেই না বাধাহীন চির সুখের সুন্নতী মধূময় সংসার পাওয়া  যাবে। কিন্তু আমরা এখন বিবাহ দেয় টাকা-পয়সা বা রুপ দেখে। ফলে আজকের সংসারে সুন্নতের কোনও প্রতিফলন ঘটছে না। সঙ্গতকারনেই সেই সংসার গুলো ফিৎনায় পূর্ণ থাকছে । ছেলেমেয়ে কখনও নেক সন্তান হয়না। পিতা-মাতার কথা সন্তানরা ঠিকমত শুনেনা, যেমন পিতা-মাতা নিজেরাই এক অপরের কথাই আনুগত্য রাখেনা। আর একমাত্র দ্বীনদারী বা পরহেজগারী দ্বারাই সুখকর,জান্নাতি,মধুময়,শান্তির নীড় হবে নব দম্পত্তির সংসার। অন্যকোনও ভাবে কল্পনা করা যেতে পারে কিন্তু বাস্তবে সুখের হবেনা, হবে দু:খের নীড়।

অতএব বিয়ের আগে বর কনের দ্বীনদারী তথা পরহেজগারীতা দেখেই বিয়ে ঠিক করতে হবে। নইলে নই।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+