পারিবারিক অশান্তির কারণ এবং উত্তোরনের কতিপয় দিক-০৬


বিয়ের সময়  মেয়েকে নসীহত করতে হবে ।যেন ছেলের প্রতি আনুগত্যের খিলাফ করে সংসার না হারায়

আদরের নন্দিনী মেয়েকে চিরতরে একজনের কাছে তুলে দিতে একজন মায়ের কী কষ্ট লাগে, মমতাময়ী মায়ের তখন কী আবেগের ঢেউ খেলে যায়, উনার চোখে তখন কত আনন্দ-বেদনার ভাবনা ভীড় করে তা একমাত্র ওই মা জননীই জানেন। কিন্তু শুধু চোখের পানি ফেলে কলিজার টুকরা মেয়েকে শুধু বিদায় জানানোই নয়, তখন যদি তাকে এমন কিছু উপদেশ শুনিয়ে দেয়া যায় যা তার সারা জীবনের সম্বল হবে, যা তার আগামীর দিনগুলোকে উজ্জ্বল সুখময় করবে তবে তা বড্ড ভালো হয়। সে থেকেই নিচের এই অমূল্য রত্নতুল্য উপদেশগুলো সংগ্রহ করে তুলে ধরা হলো। আল্লাহ পাক আমাদের প্রতিটি বোনের এবং মেয়ের জীবনকে করুন বর্ণিল ও সুখময় সুন্নতি চাদরে ঢাকা একটি সংসারের রাজরানী।

হে আমার মেয়ে, তুমি তোমার বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছো। আরও ছেড়ে যাচ্ছো যেখানে তুমি জন্মেছিলে এবং যে বাসস্থানে তুমি প্রতিপালিত হয়েছো। যাচ্ছো এমন পরিবেশে যার সঙ্গে তুমি মোটেও পরিচিত নও। মিলিত হবে এমন সঙ্গীদের সঙ্গে যাদের তুমি চেনো না।

অতএব তুমি তার প্রতি নরম হয়ে যাও। সে তোমার প্রতি নরম হয়ে যাবে। আর তার জন্য তুমি ১০টি বৈশিষ্ট্য ধারণ করো, তবে সে তোমার জন্য সঞ্চিত ধন হয়ে যাবে।

প্রথমটি হলো:  কখনই সুন্নতের বাইরে স্বামীর কাছে কিছু আসা করবে না। সব সময় সুন্নতকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিয়ে মেনে চলবে। স্বমীকেও সুন্নত অনুযায়ী চলার গুরুত্ব বুঝাবে। সুন্নতের মধ্যেই প্রকৃত সুখী সংসার। তাছাড়া সব ভন্ডামী। আজীবন মনে রাখবে।

 দ্বিতীয়টি হলো :

স্বামীর সঙ্গে থাকবে অল্পে তুষ্টির সঙ্গে। এবং জীবনযাপন করবে আনুগত্য ও মান্যতার ভেতর দিয়ে।

তৃতীয় হলো:

স্বামীর নজরে পড়ার জায়গাগুলো দেখাশোনা করবে।তার দুই চোখ যেন তোমার কুৎসিত কিছুর প্রতি পতিত না হয়। সুপ্রসিদ্ধ সুন্দরের সর্বোত্তম হলো চোখের সুরমা।

চতুর্থটি হলো :  তোমার স্বামী  উনার নাকে লাগার স্থানগুলো খুঁজে ফিরবে।  আর সুবাস ছাড়া তোমার কাছে যেন কোনো গন্ধ না পায়।  আর পবিত্র সুবাসগুলোর আদি ও সেরা হলো সাবান ও পানি।

পঞ্চমটি হলো:

  স্বামীকে খাওয়াবার সুযোগ তালাশ করবে। কারণ ক্ষুধার তাপ মানুষকে তাতিয়ে দেয়।

 ষষ্ঠটি হলো :

তোমার স্বামীর নিদ্রার সময় নিরব থাকবে। কেননা ঘুম থেকে কেঁপে ওঠা তাকে ক্ষেপিয়ে দেয়।

সপ্তম অষ্টম হলো :

স্বামীর বাসা ও সম্পদের যত্ন নেবে। এবং উনার ও উনার পরিবারের প্রতি লক্ষ্য রাখবে। পরিপাটি যেন থাকে সবকিছু।

নবম দশম হলো :

স্বামীর কোনো নির্দেশ অমান্য করবে না। এবং তার কোনো দোষ খুঁজে বের করবে না। কারণ, তুমি তার নির্দেশের অবাধ্য হলে অর্থ তার মনটাকে চটিয়ে দিলে। যদি তার কোনো দোষ প্রকাশ করলে তো তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করায় অনিরাপদ হয়ে গেলে। বরং স্বামীর খারাপ কিছু দেখলে সুবিধা সময়ে বুঝিয়ে বলবে। রাগারাগি করবে না।

এরপর আরও মনে রাখবে, উনার বিষণ্নতার সময় আনন্দ প্রকাশ করবে না। আবার উনার আনন্দের সময় বিষণ্নতা প্রকাশ করবে না। কারণ প্রথমটি তার কাছে অবহেলা মনে হবে এবং দ্বিতীয়টি তাকে বিরক্ত করবে। তাকে সবচে মর্যাদা তুমি তখনই দেবে যখন উনাকে সবচে বেশি সম্মান করবে।

আর এ অবস্থায় তুমি ততোখন পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না, যতখন না তোমার পছন্দ বা অপছন্দের বিষয়ে তোমার  স্বামীর সন্তুষ্টিকে তোমার সন্তুষ্টির ওপর এবং উনার চাওয়াকে তোমার চাওয়ার ওপর অগ্রাধিকার না দাও। অবশেষে দুয়া করি, আল্লাহ পাক তোমার সার্বিক কল্যাণ করুন। তোমাদের দাম্পত্য জীবনকে সুখময় করুন। আমীন।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+