পার্বত্য এলাকায় সুবিধাভোগী উপজাতিরা, অবহেলিত বাঙালিরা


প্রাচীনকাল থেকে বাংলাদেশ রূপের ভান্ডার। আর এই রূপের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। এখানে আঁকাবাঁকা পথ দিয়ে যেখানেই যাবেন দেখবেন শুধু সবুজ আর সবুজ। পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে নিচের পানিধারার দিকে তাকাতেই চোখ জুড়িয়ে যাবে। পাহাড় বেয়ে স্বচ্ছ পানির ঝর্ণাধারার এতো সৌন্দর্য আর কোথাও পাবেন না। রাতের পার্বত্য চট্টগ্রাম আপনাকে নতুন একটি রূপের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে। রাতে পাহাড়ের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ছোট ছোট কুটির থেকে মিটিমিটি আলো দেখে আপনার মনে হবে আপনি সৌরজগতের হাজারো নক্ষত্রের মাঝে দাঁড়িয়ে আছেন। আপনারা অনেকেই জানেন পার্বত্য চট্টগ্রামের সৌন্দর্যের কথা। এই সৌন্দর্য পার্বত্য চট্টগ্রামের শুধুই বাহিকরূপ। এর অভ্যন্তরীণ রূপ সর্ম্পূণ বিপরীত।

উপজাতিদের তুলনায় বহুগুণ অবহেলিত ও মানবেতর জীবন যাপন করছে পার্বত্য বাঙ্গালীরা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত মৌলিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়িকসহ প্রায় সকল মৌলিক অধিকার বঞ্চিত মানুষগুলোই হল পার্বত্য বাঙ্গালী। বাংলাদেশ ডিজিটাল হতে চললেও এই মানুষগুলোর জীবনে ডিজিটালাইজেশনের একটুও ছোঁয়া নেই। মান্ধাতার আমলের জমিদারী প্রথা তথা কথিত সার্কেল চীফ কথিত রাজা প্রকৃতপক্ষে চৌকিদার। হেডম্যান, কারবারী, বাজার চৌধুরী ইত্যাদি প্রথার যাঁতাকলে পিষ্ঠ এ মানুষগুলোর জীবন আজ অতিষ্ঠ। তাছাড়া এখানে সরকারের প্রশ্রয়ে উপজাতিরা শুধু অত্যাচার করে, আর পার্বত্য বাঙ্গালীরা নির্বাক হয়ে সহ্য করে।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই উপজাতীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হত্যা করতে শুরু করে এসব অসহায় বাঙ্গালীদের। বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে রাতের আঁধারে ঘুমন্ত নিরীহ পার্বত্য বাঙ্গালীদের উপর হত্যাকা- চালাতে থাকে এরা। একটা সময় পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব হত্যাকা-ের খবর গণমাধ্যমেও প্রচার হতো না। তাই অনেকেই জানতেও পারলো না সেই সব নির্মম ও নৃসংশ ঘটনা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ১৯৮৯ সালে তৎকারীন সরকার পাহাড়িদের অযৌক্তিক দাবী মেনে নিয়ে উপজাতিদের অগ্রাধিকার দিয়ে ঘোষণা করল স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন। কিন্তু উপজাতি সন্ত্রাসীরা অত্যাচার অব্যাহতই রাখল। পর ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির জন্য সন্ত্রাসীদের সাথে বাংলাদেশের সরকার একটি চুক্তি সাক্ষর করে। চুক্তিটির নামকরণ করা হয় ‘শান্তি চুক্তি’। শান্তি চুক্তিটি ১৯৮৯ সালে ঘোষিত স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন থেকে অধিকতর মারাত্মক। ১৯৮৯ সালের স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন করে বাঙ্গালিদের প্রতি যে অবিচার করা হয়েছিল, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তিতে তা বহাল রাখা হয়েছে এবং শুধু তাই নয় আরো ভয়াবহ ও অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে এই চুক্তির জন্য পার্বত্য বাঙ্গালীরা হারালো তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়িকসহ প্রায় সকল প্রকার মৌলিক অধিকার।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে