সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

পাড়ার বখাটে ছেলে…..!


এখনো স্পষ্ট মনে আছে। আমি স্কুলে যাওয়া শুরু করার কয়েকদিন পর থেকেই আমার দাদা আমাকে প্রায়ই বিভিন্ন উপদেশ দিয়ে বলতো- দুষ্ট ছেলেদের থেকে দূরে থাকবে। দাদার এ কথা শুনে চিন্তা করতাম- দুষ্ট ছেলে কাকে বলে? এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে দাদা উত্তর দিলেন- যারা স্কুল ফাঁকি দেয়, মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করে ও অশোভন ভাষায় কথা বলে। ছোট বেলায় দুষ্ট ছেলেদের কাছ থেকে কতটুকু দূরে ছিলাম জানি না, তবে এখন খুব ভালোভাবেই বুঝি- দুষ্ট ছেলেদের পরিচয় জানার কারণেই আজ আমি অনেক ভালো আছি।

মূল প্রসঙ্গে আসি…। দাদা ইন্তেকাল করার পর নিয়মিত পবিত্র কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করতাম। কিছু কিছু পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের অর্থও পড়তে বা বুঝতে চেষ্টা করতাম। একদিন একটি পবিত্র আয়াত শরীফ দেখে বা পড়ে মনে মনে খুব ধাক্কা খেলাম। চিন্তা করতে থাকলাম- যা পড়লাম- এটা কি আসলেই এমন, নাকি অন্য কোনো ব্যাপার এখানে লুকিয়ে আছে। পবিত্র আয়াত শরীফখানার অর্থ বুঝতে একজন স্বনামধন্য আলেমের কাছে জিজ্ঞেস করলাম। উনার ব্যাখ্যা শুনে আরো হতচকিত হলাম। ভাবলাম, আমার অভিবাবকরা তথা আমার দাদা আমাকে এত এত উপদেশ দিলেন- কিন্তু এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার নিয়ে কেন কখনো কিছু বলেনি?

আমার অন্তরকে নাড়া দেয়া পবিত্র আয়াত শরীফখানার অর্থ হলো- “হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” (পবিত্র সূরা মায়িদা: আয়াত শরীফ নং-৫১)। পবিত্র আয়াত শরীফখানা যতবারই দেখি ততবারই চিন্তা করি- একটি বখাটে ছেলে আমার এই বস্তুগত জীবনের যতটুকু ক্ষতি করবে, তার চেয়ে তো লক্ষ কোটি গুণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমার যে ঈমান, আমার পরকাল, সেটাইতো নষ্ট করে দিবে ইহুদী, খ্রিস্টান, হিন্দু তথা সকল বিধর্মীরা। অথচ সকল বখাটেদের চেয়ে বড় বখাটে অর্থাৎ অমুসলিম, বিধমী কাফেরদের থেকে দূরে থাকতে বা দূরে রাখতে কখনো আমাদের আমাদের পিতা-মাতা, শিক্ষকরা শিক্ষা দেয়নি/দেয় না। নাউযুবিল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে