পায়ে শেকল বেঁধে খারিজী মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন


ধর্মব্যবসায়ী ‘খারি’দের মাদ্রাসায় শিশুদের একটি নমুনা। খবরটি পড়ুন:

শিশু নির্যাতন বন্ধে সরকার আইন করলেও তা মানা হচ্ছে না। শুধু নির্যাতন নয়; পায়ে শেকল বেঁধে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নির্যাতন করা হয়েছে ১০ বছরের শিশু আউয়ালকে। মাদ্রাসায় না আসার কারণে তাকে একটানা তিনদিন এ শাস্তি ভোগ করতে হয়।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুর নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটেছে। এভাবে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মাদ্রাসার প্রধান হাফেজ আনোয়ার জাহিদ ও নেছার উদ্দিন (১৫) নামের এক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পায়ে শেকল ও কাঁধে ২০ কেজি ওজনের গাছের গুড়ি বাঁধা শিশুটি মাদ্রাসার পুকুরে গোসল করছিল।

মহিপুর এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কলাপাড়া উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মনিরুজ্জামান খান শিশুটিকে ওই অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানান।

পরে মহিপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ওসমান শিশুটিকে মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার করেন।

নির্যাতিত শিশু আউয়াল মহিপুরের জেলে শ্রমিক বেল্লালের ছেলে। তার বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার নাচনাপাড়া গ্রামে। ৩ মাস আগে নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসায় তাকে ভর্তি করা হয়।

২৬ ফেব্রুয়ারি মাদ্রাসায় না আসার কারণে ৩দিন ধরে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়। ওই তিনদিন পায়ে শেকল ও গাছের গুড়ি কাঁধে নিয়েই খাওয়া-দাওয়া, ঘুমসহ সব কাজ করতে হয় তাকে।

মহিপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কাশেম জানান, বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থল থেকে শিশুটিকে উদ্ধার ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদ্রাসার প্রাধন হাফেজ আনোয়ার জাহিদ ও নেছারকে আটক করা হয়েছে।

মহিপুর নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান হাফেজ আনোয়ার জাহিদ বলেন, ছেলেটি নিয়মিত মাদ্রাসায় না আসার কারণে তার বাবা বেল্লাল তাকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখেন।

শিশুটির বাবা বেল্লাল গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যাওয়ায় মা ফাহিমা’র সঙ্গে আলাপ করলে তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা ফাঁকি দেওয়ায় আমরা শুধু শাসন করতে বলেছি। শেকল দিয়ে বেঁধে রাখতে বলিনি।’

একাধীক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসায় শুরু থেকেই এ কৌশলে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

খবর: বাংলা নিউজ ও আইএনবি

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+