পিতার খাদ্য সন্তান, দাদুর খাবার নাতি – এ কেমন দুর্ভিক্ষ?


উত্তর কোরিয়ায় নীরব দুর্ভিক্ষের ভয়াল থাবা মানুষকে হিংস করে তুলেছে। ক্ষুধার তাড়নায় দিশেহারা পিতা-মাতারা শেষ পর্যন্ত নিজ সন্তানকে খাদ্য হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। দেশটির উত্তর প্রদেশ এবং দক্ষিণ হাওয়ান গায়ে সবচেয়ে বিপজ্জনক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এক তথ্যে বলা হয়, খাবারের অভাবে নরমাংস ভক্ষণ করা প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুসন্ধানী এক খবরে বলা হচ্ছে, ক্ষুধা নিবারণে মোট ১০ হাজার মানুষকে বলি হতে হয়েছে। এদিকে কোরিয়া টাইমসের এক খবরে বলা হয়, খাবারের জন্য ক্ষুধার্ত এক ব্যক্তি তার দু’সমন্তানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, এ প্রদেশ দুটিতে ফসলের উৎপাদন ভয়াবহ মাত্রায় কমে যাওয়ার ফলে মানুষ এত হিংস হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করে, ভবিষ্যতে মানবিক বিপর্যয় এড়াতে সরকারকে দুটি বিষয় অবশ্য পালন করতে হবে। প্রথমত, কৃষিতে উৎপাদন কিভাবে বাড়ানো যায় সে বিষয়ে সরকারকে অধিক মনোযোগী হতে হবে। দ্বিতীয়ত, খাদ্যের অভাব রোধে সরকার চাইলে ক্রোক করা খাদ্যসামগ্রী ক্ষুধা-পীড়িতদের মাঝে বিলিয়ে দিতে পারে। হƒদয়বিদারক নানা ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। সানডে টাইমস্রে অপর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, একব্যক্তি একে একে তার ছেলে-মেয়েসহ স্ত্রীকে খুন করেছে। এমনকি মৃত মানুষের শবদেহ কবরস্থ করার পরও নিরাপদ নয়। এদিকে অপর এক ব্যক্তি তার নাতির শবদেহ কবর থেকে তুলে ক্ষুধা নিবারণ করেছে। বিস্ময়ের ব্যাপারটি হচ্ছে, দুর্ভিক্ষের এমন ভয়ংকর সব খবর দেশটির সরকারের নীতিতে কোন পরিবর্তন আনতে পারছে না। দেশটির অস্ত্র তৈরিতে সর্বাধিনায়ক কিম জং উন (৩০) প্রতিবছর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার দেদারসে খরচ করছে। সম্প্রতি ব্যয়বহুল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহনে সক্ষম দুটি রকেট পরীক্ষা চালিয়েছে পিয়ং ইয়ং। বার্তা সংস্থা এশিয়া প্রেসের বরাত দিয়ে জিরু ইশিমারু জানিয়েছে, নরমাংস ভক্ষণের এ নিষিদ্ধ সংস্কৃতির ভুরি ভুরি উদাহরণ তৈরি হয়েছে উ. কোরিয়ায়।

লিংক

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে