পুণ্যাহ’ এবং পয়লা বৈশাখ!


পুণ্যাহ মূলত সংস্কৃত শব্দ। অর্থ কথিত ভালো কাজের সুফল পাবার দিন। জমিদার প্রথার সময় বছরের সূচনার দিন অর্থাৎ পয়লা বৈশাখে অনুষ্ঠান করা হতো। অনুষ্ঠানটি ছিল রাজা-প্রজার দেখা হবার এবং কথা বলার দিন। আসলে পুণ্যাহ ছিল জমিদারদের দিক থেকে আর্থিক স্বার্থ উদ্ধারের কৌশল। ১৯২০ সাল পর্যন্ত জমিদার এবং বড় বড় তালুকদারদের কাচারিতে পুণ্যাহ অনুষ্ঠান হতো। সেদিন প্রজারা ভালো কাপড়-চোপড় পরে খাজনা দিতে আসতো এবং অতীতের বাকী থাকা খাজনা আদায় করতো। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে জমিদার শ্রেণী নামকরণ করেছিল পুণ্যাহের দিন।
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী এরকম কথিত বাংলা প্রকৃতপক্ষে ফসলী সনের প্রথম দিনে খাজনা আদায় কখনো পুণ্য হাছিলের দিন নয়। আর বর্তমানে অ-মঙ্গল কুফরী যাত্রা বের করে, বর্ষবরণের গান গেয়ে, পান্তা খেয়ে, হাজার বছরের ঐতিহ্য হিসেবে প্রচার করে কারা কি স্বার্থ হাছিল করার চেষ্টা করছে, নেপথ্যে আসলে কি রয়েছে, কারা রয়েছে, কেন রয়েছে- তা আমাদেরকে ভাবতে হবে। জমিদারদের ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে পালিত পুণ্যাহ অনুষ্ঠান পরে বেনিয়াদের হালখাতা অনুষ্ঠানে পরিবর্তিত হয়। আজ এক শ্রেণীর তথাকথিত বুদ্ধিজীবী প্রকৃতপক্ষে পরগাছা, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার চক্রান্তে ৯৭ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে এ সব অনুষ্ঠান পরিবর্তিত হয়েছে “বাঙালি সংস্কৃতি” নামে মুসলিম মানসিকতা ধ্বংসের এক কৌশল হিসেবে, যা পরিপূর্ণ বিধর্মী, বিজাতীয় সংস্কৃতির আদলে গড়া।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে