সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

পূর্ববর্তী ঘটনা পরবর্তীদের জন্য ইবরত নছীহতের……..


আমাদের সময়: নভেম্বর ১২, ২০১১

বিয়ে করতে প্রেমিক রেহানকে চাপ দেওয়ায় খুন হন আদৃতা:

মডেল কন্যা তাহিয়া তাবাসসুম আদৃতা বিয়ে করতে চেয়েছিল প্রেমিক রেহানকে। রেহান চেয়েছিল আদৃতাকে বিয়ে না করে যতদিন সম্ভব স্ত্রীর মতো ব্যবহার করতে। ব্যাপারটি আদৃতা বুঝতে পেরেই বিয়ের জন্য রেহানকে চাপ দিতে থাকে। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরেই আদৃতাকে খুন করে রেহান। রেহানকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা এ কথা বলেছেন। মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের একটি বাড়ির চিলেকোঠায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় আদৃতাকে। এরপর গণধর্ষণ হিসেবে দেখাতে তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলেছিল প্রেমিক রেহান।

গতকাল দুপুরে প্রেমিক রেহান সাংবাদিকদের জানান, মডেলিংয়ের মাধ্যমে পরিচয়ের পর ৫ মাস আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর থেকেই তারা বিভিন্ন সময় বন্ধুর বাসা ও আবাসিক হোটেলে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মাঝে মধ্যেই রাত্রিযাপন করত। খুনের ঘটনার তিন দিন আগে থেকেই সুমন নামে তার এক বন্ধুর বাসায় তারা দুজন একত্রে ছিলেন। ৩০ অক্টোবর দুপুরে আদৃতা রেহানের সঙ্গে দেখা করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেন। এরপর তারা রায়ের বাজার এলাকা থেকে ইয়াবা কিনে মোহাম্মদপুরের ১২/৬ তাজমহল রোডের বাড়িতে যান। এই বাড়িতে বিজ্ঞাপনী সংস্থা জেসেসিস ভিউ-এর প্রতিষ্ঠান। ওই বাড়ির চিলে কোঠা ইয়াবা সেবনের নিরাপদ স্পট হিসেবে ব্যবহƒত হত। সেখানেই দুজন একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করতে থাকে। সেবনের এক পর্যায়ে রেহান বলেছিল ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে যাবে। এতে বাধ সাদে আদৃতা। তার কথা তুমি ঈদে আমার সঙ্গে থাকবে। এ নিয়েই তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রেহান আদৃতাকে দেয়ালে ধাক্কা দিয়ে আহত করে সিঁড়ির ওপর ফেলে দেয়। আদৃতা তখন চিৎকার করতে থাকলে রেহান তার পিঠের ওপর বসে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ৩/৪ মিনিট ধরে রাখে। এসময় আদৃতা বাঁচার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু নিজেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়। কিছুক্ষণ পর আদৃতার দেহ নিস্তেজ হয়ে পড়লে ঘটনাটি গণধর্ষণ হিসেবে দেখানোর জন্য আদৃতার পোশাক ছিঁড়ে ফেলে রেহান। সিঁড়ির সঙ্গে আদৃতার মুখ ঘষে বিকৃত করে ফেলে। পরে আদৃতার ব্যবহƒত মোবাইল, পার্স ও ওড়না তাজমহল রোডের মাথায় একটি ডাস্টবিনে রেখে পালিয়ে যায়।

খুনের কারণ হিসেবে রেহান বলেন, তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের আগে আদৃতার একাধিক ছেলের সঙ্গে প্রেম ছিল। এসএসসি পাশ করার পর আদৃতা একটি ছেলেকে বিয়ে করে। কিন্তু এসব কথা গোপন করে আদৃতা তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। এখন আলাদা বাসা নিয়ে আদৃতা তার সঙ্গে একত্রে বসবাস করতে চাপ সৃষ্টি করে। গোয়েন্দা পুলিশের এসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আশিস কর্মকার ওরফে রেহান মডেলিংয়ের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে তার হিন্দু পরিচয় গোপন করে আদৃতার সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তোলে। সর্ম্পকের শুরু থেকেই তারা লিভটুগেদার করে আসছিলেন। রেহান চেয়েছিল তাকে স্ত্রীর মতো ব্যবহার করে বিয়ে না করতে। ঘটনার দিন এই বিষয় নিয়ে ঝগড়া হলে রেহান ঠাণ্ডা মাথা খুন করে পালিয়ে যায়।

তিনি জানান, খুনের পর রেহান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে যায়। রাতে আদৃতার কয়েকজন বন্ধু ও তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগও করে। জানতে চাই আদৃতা কোথায় আছে। তাকে যেন কোনওভাবেই সন্দেহ করা না হয় এজন্য আদৃতার মোবাইল ফোনে এসএমএস দেয় রেহান। এতে লেখা হয়, ‘ফোন বন্ধ করে কোথায় আছো জান, মেসেজ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কলব্যাক করবে।’ রাত জগন্নাথ হলে কাটিয়ে সকাল বেলা ঘনিষ্ঠ কয়েকজন উকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে এরকম ঘটনায় কী শাস্তি হতে পারে জানতেও চায় রেহান। তাছাড়া পুলিশ ধরলে কী বলতে হবে তাও ভালোভাবে বুঝে নেয়। পরে থানা পুলিশ তাকে আটক করলেও চতুর রেহান ছাড়া পেয়ে যায়। জেনেসিস ভিউয়ের মালিক বরুন ও তার কর্মচারীদের এ ঘটনায় কোনও সংশ্লিষ্টতা আছে কি-না জানতে চাইলে এসি তৌহিদ বলেন, এখন পযর্ন্ত তাদের কোনও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে যেহেতু ঘটনাটি তাদের ফ্লাটে ঘটেছে এবং আদৃতা তাদের বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজ করত, তাই ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. পর্দার গুরুত্ব বুঝবে কবে মানুষ……….

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে