পোলট্রি মুরগীর মতো মুসলমান !!!


আজ সকালে নিউজে দেখলাম – গত শনিবার রাতে আসামের তিনসুকিয়া জেলার ডুমডুমাতে ২ জন বাঙালী মুসলিমকে ( ইদ্রিস আলী ও শেখ মুহম্মদ) গলা কেটে খুন করেছে রাজু গোর নামে এক হিন্দু ( পদবী অনুযায়ী বোঝা যায় যে মারোয়াড়ী)। তাদের ২ জনকে বাঁচাতে গিয়ে আরও ২ জন বাঙালী মুসলিমের হাত কেটে নিয়েছে চপার দিয়ে সেই পাষণ্ড; ওনারা আশঙ্কাজনকভাবে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন । এনারা সবাই পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাশকুঁড়া থেকে আসামে গিয়েছিলেন কর্মসংস্থানের তাগিদে।

 

গত কয়েকবছর ধরে সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখা যায় যে কর্মসংস্থানের তাগিদে বাংলার বাইরে যাওয়া মুসলিমদের উপর নানাভাবে অত্যাচার করছে হিন্দুরা। অনেক ভিডিও দেখা গেছে যেখানে তাদেরকে মারধর করছে, মারধর করে ও জোর করে “জয় ছিঁড়ি আম” বলানোর চেষ্টা করছে হিন্দুরা। শুধু তাই নয়, শেখ আফরাজুল নামে একজন বাঙালী মুসলিমকে কুপিয়ে ও জ্বালিয়ে খুন করেছে হিন্দুরা।

 

শুধু বাংলার বাইরে নয়, এই বাংলাতেও দেখা গেছে ট্রেনে যাত্রা করার সময় একজন মুসলিমের উপরে দল বেঁধে অত্যাচার করছে হিন্দুরা, মেদিনীপুরে এক মুসলিম ছাত্রকে নির্মমভাবে খুন করেছে হিন্দুরা। এমন উদাহরণ ভুরি ভুরি। কিন্তু আফসোসের কথা হল, গোটা ভারতে হিন্দুদের দ্বারা অত্যাচারিত হওয়া সত্বেও মুসলিমরা তাদের শত্রুকে চিনতে নারাজ, যেমন ছোট্ট বাচ্চারা চোখ বন্ধ করে নিয়ে ভাবে যে তাকে কেউ দেখতে পায় না। মুসলিমরা তাদের শত্রুকে না চিনলেও, মুসলিমদের শত্রুরা মুসলিমদের উপরে কিন্তু অত্যাচার করা বন্ধ রাখে নি।

 

এই ঘটনাগুলি যখন ঘটে তখন কিছু সংখ্যক মুসলিমরা দায়সারাভাবে একটুখানি মৌখিক প্রতিবাদ করার চেষ্টা করে বটে, কিন্তু ভীষণভাবে খেয়াল রাখে যে তাদের পেয়ারের তথাকথিত “ভালো হিন্দু” দাদাদের হাগাবেগে যেন আঘাত না লাগে, তাহলে তারা “খারাপ হিন্দু” হয়ে যাবে। যদিও এই সমস্ত তথাকথিত “ভালো হিন্দু”রা মুসলিমরা মরলে কোন প্রতিক্রিয়া দেয় না। আসামে কয়েক যুগ ধরে বাঙালী মুসলিমদের উপরে আক্রমণ ও গণহত্যা চলছে [ যেমন নেলী গণহত্যা] , কিন্তু তথাকথিত “ভালো হিন্দু”রা কখনোই কোন প্রতিবাদ করে নি। কিন্তু যেই সম্প্রতি কিছুদিন আগে ৫ জন বাঙালী হিন্দু খুন হল উগ্র জাতীয়তবাদী অসমীয়া হিন্দুদের হাতে সেই তথাকথিত “ভালো হিন্দু” দাদাদের বাঙালীয়ানা জেগে উঠলো।

 

এখন এই সমস্ত বিষয়গুলি দেখায় পর যেটা মনে হয় – মুসলিমরা পরিণত হয়েছে পোলট্রি মুরগীর মতো। জবাই করার সময় যখন মুরগী ধরা হয় তখন সবগুলি মুরগী একসাথে একটুখানি ঝটপট করে, তারপর একটা মুরগীকে জবাই করা হয়ে গেলে আবার সব ভুলে গিয়ে খাবার খুঁটে খেতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আবার যখন আরেকটা মুরগীকে জবাই করা হয় তখন আবার সবগুলি মুরগী একসাথে একটুখানি ঝটপট করে; এই ভাবেই চলতে থাকে। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে কখন কার পালা চলে আসবে সেটা কিন্তু আগে থেকে বলা যায় না !!!

 

মুরগীর কাছে ভালো কসাই আর খারাপ কসাই বলে কিছু নেই কিন্তু !

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে