প্রখ্যাত ইতিহাসবিদদের দৃষ্টিতে পবিত্র হারামাইন শরীফে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের ইতিহাস


বাতিল ফিরকার লোকেরা বলে থাকে, পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ এই সেদিন থেকে প্রচলিত হয়েছে! নাউযুবিল্লাহ! হারামাইন শরীফে এ দিবস পালন হতনা! নাউযুবিল্লাহ! অথচ ইতিহাস সাক্ষী সম্মানিত ইসলাম উনার শুরু থেকেই হারামাইন শরীফে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন হতো। নিম্নে কয়েকজন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদদের লিখনীতে যার প্রমাণ দেয়া হলো।
১. সাইয়্যিদ মুহম্মদ সুলাইমান নদভী রহমতুল্লাহি আলাইহি “ সিরাতুন নবী “ জীবনী গ্রন্থে , ভলিউম ৩ উল্লেখ করেছেন “৩/৪ হিজরী শতকে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উদযাপন করা হতো।”
২. আল আযরাকী (৩য় শতাব্দী) উল্লেখ করেছেন যে, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের স্থানে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন হতো। যারা ইসলামিক স্কলার ছিলেন উনারা সে সম্মানিত স্থানে নামায আদায় করতেন এবং নিয়ামতের লক্ষ্যে তাবারুক এর ব্যবস্থা করতেন”। (আখবর মক্কা- ২/১৬০ )
৩. মুফাসসির আল নাকাশ ২৬৬-৩৫১ হিজরী উনার ‘শিফা আল ঘারাম ১/১৯৯, উল্লেখ করেন যে, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ স্থানে প্রতি ইছনাইনিল আযীম শরীফে দোয়া হত”।
৪. ইবনে জুবায়ের ৫৪০-৬৪০ হিজরী ‘কিতাব আর রিহাল’ এর ১১৪-১১৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন- “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ স্থানে রবীউল আউওয়াল মাসের প্রতি ইছনাইনিল আযীম পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা হতো”।
৫. ৭ম শতকের ইতিহাসবিদ শায়েখ আবু আল আব্বাস আল আযাফি এবং উনার ছেলে আবু আল কাসিম আল আযাফি (সার্জারির জনক) উনাদের কিতাব ‘আল দুরর আল মুনাজ্জাম’-এ লিখেন- পবিত্র মক্কা শরীফে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ দিন ধার্মিক উমরাহ হজ্জযাত্রী এবং পর্যটকেরা দেখতেন যে, সকল ধরনের কার্যক্রম (দুনিয়াবী) বন্ধ, এমনকি ক্রয় -বিক্রয় হত না, উনারা ব্যতিত যারা সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ স্থান দেখতেন এবং সেখানে জড় হয়ে দেখতেন । এ দিন পবিত্র কা’বা শরীফ সকলের জন্য উন্মুক্ত করা হতো।”
৬. ৮ম শতকের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ইবনে বতুতা উনার ‘রিহলা’ কিতাবের ভলিউম ১ , ৩০৯ এবং ৩৪৭ পৃষ্ঠায় লিখেন- “প্রতি জুমুয়া নামাযের পর এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের বানু শায়বা-এর প্রধান কর্তৃক পবিত্র কা’বা শরীফ উনার দরজা মুবারক খোলা হতো। পবিত্র মক্কা শরীফ উনার বিচারক নজম আল দীন মুহম্মদ ইবনে আল ইমাম মুহুয়ি আল দিন আল তাবারি তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশধর এবং সাধারণ জনগণের মাঝে খাবার বিতরণ করতেন।”
৭. ১০ম হিজরী শতকের ইতিহাসবিদ শায়েখ ইবনে যাহিরা উনার “জামি আল লতিফ ফি ফাদলি মক্কাতা ওয়া আহলিহা”, শায়েখ হাফিয ইবনে হাযার আল হায়তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার “আল মাওলিদ আল শরীফ আল মুনাজ্জাম” এবং ইতিহাসবিদ শায়েখ আল নাহরাওয়ালি উনার “আল ইমাম বি আলাম বায়েত আল্লাহ আল হারাম” পৃষ্ঠা ২০৫ এ বলেন- “প্রতি বছর ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফে বাদ মাগরীব সুন্নী মাযহাব আলিম, বিচারক, ফিক্বাহবিদ, শায়েখাইন, শিক্ষক, ছাত্র, ম্যাজিস্ট্রেট, বিজ্ঞজন এবং সাধারণ মুসলমানগণ মসজিদের বাহিরে আসতেন এবং তাছবীহ-তাহলীলের সাথে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ স্থান পরিদর্শন করতেন। বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ স্থানে যাওয়ার পথ আলোকসজ্জা করা হতো। সকলে উত্তম পোশাক পরিধান করতেন এবং উনাদের সন্তানদেরকে সাথে নিতেন। পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের স্থানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সময়কার বিভিন্ন বিষয়াদি বিশেষভাবে বর্ণনা করা হতো। তারপর অটোম্যান সাম্রাজ্যের জন্য সবাই দোয়া করতেন এবং বিনয়ের সাথে দোয়া করা হতো। পবিত্র ইশার নামাযের কিছুক্ষণ পুর্বে সকলে মসজিদে চলে আসতেন (যা থাকতো লোকে লোকারণ্য) এবং সারিবদ্ধভাবে মাক্বামে সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার সামনে বসতেন।”
যারা বিদয়াত বলে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে অস্বীকার করতে চায়, তারা কি সম্মানিত ইসলাম উনার ইতিহাসকে ভুল প্রমাণ করতে চায়?

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে