প্রতারক কোম্পানি বাংলালায়নের শাস্তি দাবি


বাংলালায়নকে প্রতারক কোম্পানি হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তি দাবি করেছে তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলনের কর্মীরা। বাংলালায়নসহ ইন্টারনেট সার্ভিস নিয়ে প্রতারণা ও বিটিআরসির নিস্ক্রিয়তার প্রতিবাদে তারা মানববন্ধনও করেছেন। আর বাংলালায়নের প্রতারণার শাস্তি দাবি করছে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা। বাংলালায়নের নেটওয়ার্ক সমস্যা, নিম্নমানের কাস্টমার সাপোর্ট, বারবার টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ।  বাংলালায়নের হয়রানির ওপর তৃতীয় ধারাবাহিক প্রতিবেদন। প্রকৌশলী সীমান্ত আরিফ নতুনখবরকে ফোনে রোববার সকালে জানিয়েছেন, গতকাল রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা অবধি বাংলালায়ন সংযোগ পাওয়া যাচ্ছিলো না। বাংলালায়নের হটলাইন নম্বর ০১১৯৮৯৮৯৮৯৮ ব্যস্ত করে রাখা ছিল। এরা মহাপ্রতারক কোম্পানি। প্রতিমাসে হয়রানির শিকার হচ্ছি।এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমি বিটিআরসিতে অভিযোগ করবো।প্রয়োজনে মামলা করবো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইমরান নতুনখবরকে বলেন, বাংলালায়ন কোন ধরনের অনুরোধ রাখেনা। সর্বশেষ প্রযুক্তি উৎসবেও এদের অংশগ্রহণ ছিলোনা। এরা শুধু টাকা বোঝে কিন্ত কোন সেবা বা দায়িত্ববোধের ধার ধারে না। এদের ব্যবসাটা এক ধরনের প্রতারণা। তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলনের আহবায়ক জুলিয়াস চৌধুরী বলেন, কোন সন্দেহ নেই বাংলালায়ন একটি প্রতারক কোম্পানি । এদের বিচার জরুরি। আমরা বাংলালায়নসহ অন্য প্রতারকদের শাস্তির দাবিতে ও বিটিআরসির নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে শনিবার মানববন্ধনও করেছি। প্রতারণা বন্ধ না করলে প্রয়োজনে আমরা বাংলালায়নের বিরুদ্ধে আরও আন্দোলন করবো। কয়েকটি কোম্পানি মানুষকে ঠকালেও বাংলালায়ন সবচেয়ে বড় প্রতারক কোম্পানী। তারা স্পেকট্যামের  টাকাও ঠিকভাবে পরিশোধ করছেনা। তিনি বলেন, গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা দেখেছি বাংলালায়ন নেটওয়ার্ক ঠিকভাবে দেয়না। সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দেয়না। ইন্টারনেটের কস্ট মডিউল নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইএসপিগুলো প্রতারণা করে। বাংলালায়ন প্রতারণায় একধাপ এগিয়ে। বাংলালায়ন প্রতারণার চেষ্টা করলে তাদেরকে আইনের আওতায়  এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। প্রতারণার মাধ্যমে বাংলালায়নের মতো কোম্পানিগুলো ডিজিটাল স্লোগানের বিরুদ্ধে কাজ করছে। তারা কোনভাবেই ডিজিটাল বাংলাদেশ চায় না। আর গ্রাহকদের সবসময় হয়রানি করে ও প্রতারণা করে চললেও বিটিআরসি কাদের স্বার্থে নিষ্ক্রিয় থাকছে তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম অনুসঙ্গ ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়া প্রয়োজন তাই অবিলম্বে প্রতিটি গ্রামে স্বল্পমূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট দিতে হবে।এসব কোম্পানি গ্রাহকদের ঠকানোর জন্য অসংখ্য প্যাকেজ বাজারে ছেড়েছে। তারা সময়মত ও সঠিকভাবে গ্রাহক সেবা দেয় না। কল সেন্টারে সেবার জন্য ফোন করা হলে সহজে হিউম্যান রেসপন্স করে না। ১ ঘণ্টা পর্যন্ত মিউজিক শুনিয়ে এবং অপেক্ষা করতে বলে চার্জ কেটে নেয়।
ইন্টারনেট সার্ভার ডাউন থাকলেও গ্রাহকদের জানার সুযোগ দেয় না উল্লেখ করে বলেন, বাংলালায়নসহ ওয়াইম্যাক্স কোম্পানি; ব্রডব্যান্ড ও টেলিকম আইএসপিগুলোর ৪/৫ দিন পর্যন্ত সার্ভিস বন্ধ থাকলেও মাসিক প্যাকেজ হিসেবে ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ওই সময়ের ডাটা বা তার মূল্য আত্মসাত করে। বাংলালায়ন চলতি মাসের ১৪ এবং ১৯ তারিখ টানা চব্বিশ ঘণ্টা করে তাদের সার্ভিস বন্ধ করে রেখে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করে। ওই সময় বাংলালায়ন তাদের কাস্টমার কেয়ারের নাম্বার ০১১৯৮৯৮৯৮৯৮ নাম্বারটিও অকেজো করে রাখে। তিনি বলেন, বিটিআরসি এসব জেনেও কাদের স্বার্থে নিষ্ক্রিয় থাকছে তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। কমমূল্যে ইন্টারনেট সেবা ও এসব প্রতারক কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর  বরাবর স্মারকলিপি দেবো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সুত্রঃ নতুনখবর.কম

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে