প্রতিদিন ৩২ বার…..!!


৫বার ১০বার নয়, প্রতিদিন ৩২বার আমাদেরকে পড়তে হয়। অথচ এরপরও আমরা এর অর্থ-মর্মার্থ নিয়ে চিন্তা করি না, বুঝি না। অথচ এর মধ্যেই রয়ে গেছে আমাদের জীবন-যাপনের মৌলিক সূত্র। আমরা শুধু কেবল এই সর্বাধিক পঠিত বিষয়টির আলোকে জীবনকে পরিচালিত করতে পারলেই এতদিনে একজন প্রকৃত মু’মিন, মুসলমান, ঈমানদার হিসেবে কামিয়াব হতে পারতাম।
আমাদের এই সর্বাধিক পঠিত বিষয়টি হলো ‘সূরা ফাতিহা শরীফ’। যার অপর নাম ‘উম্মুল কুরআন’। প্রতিদিন কমপক্ষে ১৭ রাকায়াত ফরয, ৩ রাকায়াত বিতর, ১২ রাকায়াত সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ মোট ৩২ রাকায়াতে আমরা সকলেই পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পড়ে থাকি। পবিত্র এই সূরাটি অনেক পরে নাযিল হলেও মহান আল্লাহ পাক তিনি লক্ষ-কোটি হিকমত থাকার কারণে এই পবিত্র সূরা শরীফকে কুরআন শরীফ উনার শুরুতে দিয়েছেন ও প্রতি রাকায়াত নামাযে পড়ার মুবারক আদেশ করেছেন।
এ থেকেই আমাদের বুঝা উচিত- পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ উনার মাঝে কত লক্ষ-কোটি শিক্ষণীয় বিষয় রয়ে গেছে। পবিত্র এই সূরা শরীফ উনার ৫ ও ৬ নং আয়াত শরীফ উনার দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই- সেখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছেন, তোমরা ঈমানদার মুসলমানগণ সঠিক সরল পথ পাবে উনাদের কাছে- যে সকল মহান ব্যক্তিত্বগণ উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিয়ামত, রহমত দান করেছেন; আর ৭নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, তাদের পথ থেকে দূরে থাকতে, পানাহ তলব করতে- যাদের প্রতি মহান আল্লাহপাক উনার অসন্তুষ্টি-গযব নাযিল হয়েছে ও যারা পথভ্রষ্ট, বিভ্রান্ত ও গুমরাহ।
আমরা যেমন আমাদের সন্তান, আমাদের ছোট-ভাই বোনদেরকে উপদেশ দিয়ে বলি- ভালো ছেলেদের সাথে চলবে, খারাপদের থেকে দূরে থাকবে। দেখা যাচ্ছে মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন তিনিও উনার বান্দাদেরকে বলে দিয়েছেন যে- তোমরা নবী-রসূল, ওলী-আউলিয়া উনাদের পথে চলবে আর কাফির-মুশরিক, বিধর্মীদের পথ থেকে দূরে থাকবে। এটাই তোমাদের সর্বপ্রথম শিক্ষা, প্রতিদিনের শিক্ষা, প্রতিটি সময়ের জন্য শিক্ষা। এ জন্যই তিনি এই পবিত্রতম সূরা শরীফকে প্রতিদিন এত বেশি বেশি পাঠ করার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ আরো গভীরভাবে উপলব্ধি করার তাওফীক দান করুন। আমীন!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে