প্রতি বছর গরু কুরবানী করতে নিষেধ করে নিজেদের খাঁটি হিন্দু হিসেবে প্রমাণ করে দেওবন্দীরা


প্রতি বছর ভারতের দেওবন্দ মাদরাসা থেকে মুসলমান উনাদেরকে গরু কুরবানী করতে নিষেধ করা হয়। (নাউযুবিল্লাহ)। বার্তা সংস্থা আইএনবি’র ‘ঈদে মুসলমানরা গরু কুরবানী দিও না : দারুল উলুম দেওবন্দ’ এ শিরোনামে (সূত্র: http://khabar.ibnlive.in.com/news/109892/13)
প্রকাশিত খবরে দেওবন্দ মাদরাসার মুখপাত্র মাওলানা আশরাফ উসমানি বলেছে, “দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসা সবসময় গরু কুরবানী বিপক্ষে এবং সময় সময় তারা গরু কুরবানী বিরুদ্ধে ফতওয়াও প্রদান করে আসছে। সর্বপ্রথম স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় গান্ধীর অনুরোধে এই ফতওয়া প্রদান করা হয়েছিল।” (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক)
দেওবন্দ মাদরাসার ভিসি মাওলানা আবুল কাসিম নোমানিও এক বক্তব্যে গরু কুরবানী করতে নিষেধ করেছে। (সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া: ১৬ অক্টোবর ২০১৩ ঈসায়ী)
উল্লেখ্য, এর আগেও দেওবন্দী ধর্মব্যবসায়ী মাওলানারা বারবার গরু কুরবানী করতে নিষেধ করেছে হিন্দুদের দেবতা অজুহাতে, ভারতীয় মুশরিক সরকারের নিষেধাজ্ঞার অজুহাতে ও হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার দোহাই দিয়ে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রশ্ন হলো- তাহলে কি মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতি বা সম্মান নেই দেওবন্দী কওমী খারিজীদের কাছে? গরু কুরবানী করতে নিষেধ করায় তো মুসলমানরা কষ্ট পায় ধর্ম পালন করতে না পারায়। আসলে দেওবন্দীরা মুসলমানদেরকে গরু কুরবানী করতে নিষেধ করে তারা তাদেরকে খাঁটি হিন্দু হিসেবে প্রমাণ করছে। নিষেধাজ্ঞা ফতওয়ার প্রমাণ: গত ২০১১ ঈসায়ী সালে দেওবন্দ মাদরাসার ভাইস চ্যান্সেলর মওলানা আবুল কাসিম নোমানি বলেছিল, “হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতির কথা বিবেচনা করে এ শিক্ষাকেন্দ্র (দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসা) ঈদুল আযহার দিন মুসলমানদের গরু কুরবানী পরিহার করার আহবান জানাচ্ছে”। (সূত্র: দ্যা হিন্দু ৬ নভেম্বর ২০১১ ঈসায়ী)
২০১০ ঈসায়ী সালে দেওবন্দ মাদরাসার ডেপুটি ভাইস চ্যান্সেলর মাওলানা আব্দুল খালিক হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতির কথা বিবেচনা করে মুসলমানদের গরু কুরবানী করতে নিষেধ করে। (সূত্র: জি নিউজ, ১৫ই নভেম্বর ২০১০ ঈসায়ী) ২০০৮ ঈসায়ী সালেও গরু কুরবানী করতে নিষেধ করে দেওবন্দীরা। তারা গরু কুরবানী করে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে নিষেধ করে। (সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া: ৫ই ডিসেম্বর ২০০৮ ঈসায়ী) এদিকে ২০০৭ ঈসায়ী সালেও হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতির কথা বিবেচনা করে দেওবন্দ মাদরাসা থেকে গরু কুরবানী করতে নিষেধ করা হয়। (সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ২১শে ডিসেম্বর ২০০৭ ঈসায়ী) ২০০৪ ঈসায়ী সালেও দেওবন্দ মাদরাসার ফতওয়া বিভাগের প্রধান মুফতে হাবীবুর রহমান বলে যে, “গরু কুরবানী নিষিদ্ধের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে মুসলমানদের তা করা থেকে বিরত থাকা উচিত।” দেওবন্দী ধর্মব্যবসায়ী মাওলানাদের সংগঠন ‘জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ’র প্রেসিডেন্ট মওলানা মাহমুদ মাদানী বলে যে, “মুসলমানদের অবশ্যই স্বেচ্ছায় গরু হত্যা বন্ধ করা উচিত।” (সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ২রা ফেব্রুয়ারি ২০০৪ ঈসায়ী) উল্লেখ্য, ২০০৮ ঈসায়ী সালে এক ফতওয়ায় দেওবন্দ মাদরাসার ফতওয়া বিভাগের প্রধান মুফতে হাবীবুর রহমান বলে যে, “ইসলামে গরু গোশত জায়িয হলেও যেহেতু এই দেশে গরু কুরবানী নিষিদ্ধ, তাই এখানে গরু কুবরানী নাজায়িয হবে।” (সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ২৭ এপ্রিল ২০০৮ ঈসায়ী)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে