প্রত্যেকটি পিতা-মাতা তার সন্তানের জন্য এভাবে দোয়া করে যে, আয় মহান আল্লাহ পাক! আমার সন্তান কে আমার চেয়ে বড় করে দিন


প্রত্যেকটি পিতা-মাতা তার সন্তানের জন্য এভাবে দোয়া করে যে, আয় মহান  আল্লাহ পাক! আমার সন্তান কে আমার চেয়ে বড় করে দিন। এটা সমস্ত পিতা-মাতার একটা আদত। পিতা-মাতা যে দোয়া করে থাকেন সন্তানের জন্য তা নির্ঘাত কবুলযোগ্য। উনারা যদি অন্তর থেকে দোয়া করেন অবশ্যই সেটা সন্তানের জন্য কামিয়াবীর কারণ। কেননা, কোন পিতা-মাতা চাননা যে, সন্তান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাক। হাক্বীক্বীভাবে সন্তানকে পিতা-মাতা  যে কতটুকু মুহব্বত করেন সেটা সন্তানের পক্ষে অনুধাবন করা কঠিন।

এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে কিতাবে। এক পিতা বৃদ্ধ হয়েছেন, জয়ীফ হয়েছেন। সারা জীবন কামাই রোজগার করেছেন। অনেক বিষয় সম্পত্তি পিতার ছিল এবং করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে সন্তান যারা রয়েছে তারা খুব সুখ শান্তিতে রয়েছে, ইতমিনা রয়েছে। একদিন কোন এক প্রসঙ্গে সেই বৃদ্ধ পিতা তার সন্তানের সাথে বসা ছিলেন। কথা প্রসঙ্গে সেই পিতা সন্তানকে জিজ্ঞাসা করলেন, একটা কাক কে দেখিয়ে পিতা জিজ্ঞাসা করলেন সন্তানকে যে, বাবা এটা কি? সন্তান বললো যে, বাবা এটা কাক। একবার, দু’বার, তিনবার, চারবার। পুনরায় পিতা জিজ্ঞাসা করলেন যে, বাবা এটা কি? যে এটা কাক। যখন চার পাঁচবার হয়ে গেল সন্তান খুব গোস্বা করে বললো যে, আপনাকে এতবার বলা হচ্ছে, আপনি কেন বুঝছেন না। এটা কাক, চিৎকার করেই সে বললো।  পিতা চুপ হয়ে গেলেন। চুপ হয়ে উনার বিছানার তল থেকে একটা কাগজ বের করলেন। কাগজ বের করে দেখালেন, বাবা দেখতো এটাতে কি লেখা রয়েছে? তোমার বয়স যখন চার থেকে পাঁচ ছিলো, তুমি একদিন আমাকে একশত বার জিজ্ঞাসা করেছিলে, বাবা এটা কি? আমি একশত বার ঠান্ডা মাথায় জাওয়াব দিয়েছিলাম, এটা কাক। আমি একবারও গোস্বা করিনি। বরং প্রতিবারই আমার কথাটা পূর্বের চাইতে নরম ছিল। (সুবহানাল্লাহ) ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়  সেটাই পিতা দেখিয়ে দিলেন যে, তোমাকে আমি চার থেকে পাঁচ বার বললাম, তুমি গোস্বা করলে! আর তুমি আমাকে একশত বার জিজ্ঞাসা করেছিলে, আমি প্রতিবারেই ঠান্ডা মেজাজে, নরম সূরে বলেছিলাম। বরং পূর্বের থেকে পরের বার আরো নরম ছিলো। সন্তান চুপ হয়ে গেল, লা-জাওয়াব হয়ে গেল। সে ক্ষমা প্রার্থনা করলো পিতার কাছে যে, আমার ভুল হয়েছে, আমি বুঝতে পারিনি। কাজেই সন্তানকে পিতা-মাতা যতটুকু মুহব্বত করেন, কিন্তু সন্তানের পক্ষে পিতা-মাতাকে ততটুকু মুহব্বত করা কঠিন। তবে অবশ্যই তার হক্ব আদায় করতেই হবে। আমরা প্রত্যেকে যেন আমাদের পিতা-মাতার হক্ব আদায় করতে পারি। আমন!

 

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে