প্রত্যেকেরই আলাদা আলাদা হক্ব রয়েছে


dgfgভার্সিটি পড়ুয়া একটা কিউট আপুকে তার বিয়ের পর জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো,“আপু আপনার শ্বাশুড়ী কেমন?” তার উত্তর ছিলো,“শ্বাশুড়ী আবার কেমন!শ্বাশুড়ী শ্বাশুড়ীর মতোই”

অর্থাৎ শ্বাশুড়ী কে সাধারণ মেয়ে হিসেবে নেয়া যাচ্ছে না।একজন বালিকা,বউ,মা এদের বৈশিষ্ট্য যেমন আলাদা,শ্বাশুড়ীও আলাদা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী!

আমারই এক ফ্রেন্ডের শ্বাশুড়ী বিষয়ে জানলাম, ফ্রেন্ড যতই সংসারের জন্য কষ্ট করুক,শ্বাশুড়ীর মন তো সে রক্ষা করতে পারছেই না,বরং যত পারে খেটেই যাচ্ছে সে!

আমি তাকে শাবানাই বলি!ভাবতাম,শুধুমাত্র ফিল্মেই বুঝি নায়িকা শাবানাই সংসারের জন্য এতো খাটাখাটি করে!(ছোটবেলা টিভিতে শাবানাকেই দেখতাম এরকম,এখন তো টিভি হারাম জানার পর আর কিছু দেখা হয় না,শাবানার মতো নতুন চরিত্র এখন থাকতেও পারে!) কিন্তু এই মেয়ের কথাই প্রথম জানলাম যে বিয়ের পরদিন থেকেই ঘর ঝাড়ু দিচ্ছে! বৌ মানুষ ঘরের কাজ করবে না কেনো,অবশ্যই করবে,আমিও বুঝি,কিন্তু তাই বলে কি তার হাতে বিয়ের পরদিনই ঝাড়ু তুলে দেয়া যায়!!!???

অনেকক্ষেত্রে  বৌ কতৃকও শ্বাশুড়ী নির্যাতিত হয়,তার নজীরও আছে।একজন আন্টিকেও চিনি,যে তার শ্বাশুড়ীর ঘাড় মটকে দেয়ার চেষ্টাও করেছে।ঘাড় না মটকাক চেহারা ধরে ঘুরিয়ে দিলেও তো সেটা অন্যায়ই এবং অবশ্যই নিন্দনীয়,জঘন্য!তবে এদের হার কম।তাই শ্বাশুড়ী প্রসংগেই আসি।

এখন কথা হচ্ছে শ্বাশুড়ীরা এমন কেনো হবে?আজকের বৌ-ই তো আগামীতে শ্বাশুড়ী।যদি বলেন বৌয়ের দোষেই শ্বাশুড়ীরা এমন হয়,তাহলে সেই ফ্রেন্ডের কথাই বলবো,তার যে ভাসুরের স্ত্রী অর্থাৎ তার যে জাল হয়,সে কিন্তু সেই একই শ্বাশুড়ীকে নাকে ছড়ি দিয়ে ঘুরায়!মুখের উপর বলে দেয়,আপনি আসলে খারাপ মহিলা,আমি এসব পারবো না!অথচ শ্বাশুড়ী এই বৌকেই আবার খাবার খাওয়ার জন্য ডাকাডাকি করে!আর যেই মেয়েটা মুখ বুজে কাজ করে যাচ্ছে সে যদিও রান্না করে,তবুও তার পছন্দ অনুযায়ী খাবার রান্না করে খাওয়ার মতো স্কোপ থাকে না!যাই হোক তার কাহিনী বিশালই,বললে বলতেই থাকতে হবে!

কিন্তু কথা হচ্ছে এই শ্বাশুড়ী এমন কেনো??

অনেক শ্বাশুড়ীই বৌ কে কথা শুনায়,কেউ গালমন্দ করে,কেউবা আবার ইনিয়ে বিনিয়ে বলে…কিন্তু বলতে হবে কেনো?এই মেয়েটাকেই কি বড় বৌয়ের সাথে তুলনা করে তার শ্বাশুড়ী একটু ভালোবাসতে পারতো না???একটা শ্বাশুড়ী শ্বাশুড়ী ভাব কি থাকা চাইই!?!

এই যে মেয়েটা তাকে ভোরে উঠেই রান্না করতে হচ্ছে (ক্লাস থাকলে),রাতে গরম খায় ,সকাল/দুপরেরটা রাতে হয় না,তাই রাতেও রান্না করতে হয়,একজন ভাত খায় ,আরেকজন রুটি খায়,ভিন্ন ভিন্ন মানুষের জন্য ভিন্ন আইটেম রান্না করতে হয়,কাপড় ধোয়া ,ঘর মুছা সব করতে হয়।ও, সে আবার বাসায় থাকলে বাসার কাজের লোক বিদায় করে দেয়া হয়,সে না থাকলে ইমিডিয়েটলি কাজের লোক আনা হয়!এরপরও তার মুখ থাকা যাবে না,কিছু বললেই বিপদ !

এই মেয়ে যদি দিনের পর দিন কিছু না বলে কোনোদিন কোনো কারণে কিছু বলেই ফেলে তখন দায়ভার কার???তখন কি এই মেয়েকে দোষ দেয়া যায়??

প্রবাদ আছে,“লাকড়ী বাড়ায় চুলার মুখ,শ্বাশুড়ী বাড়ায় বৌয়ের মুখ।”

একজন বৌও মানুষ,তারও ধৈর্যের সীমা আছে।যারা তাক্বওয়া,পরহেজগারী অর্জন করতে পেরেছে তাদের বিষয় আলাদা।তাদের সাথে আল্লাহ্‌ পাকের সম্পর্ক থাকার কারণে তারা হয়তো চরম ধৈর্যশীলা হতে পারে।কিন্তু যতক্ষন কেউ হতে পারছে না,ততক্ষণ কি তার ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে হবে??দেখতে হবে,কতটা সে সহ্য করে মুখ বুজে থাকতে পারে?কোন কথায় তার মুখ খুলে?

একবার যদি মুখ খুলে যায় সে কি থামবে??এই যে এই মেয়েরই জাল,সে তো পেয়ে বসেছে,সে সারা জীবনই তার খুশিমত চলতে পারবে।আর অন্যজন মুখ বুজে থাকার জন্য কি মিসবিহেভই পেতে থাকবে??

ভালত্বের কি এই দাম???সবাই কি এখন শ্বাশুড়ীর সাথে মিসবিহেভ শুরু করবে নিজেদের ভালোর জন্য?তাহলে পরিস্থিতি কি দাড়াবে?অরাজকতা তৈরি হবে না?যারা একটু ভালো হয়ে থাকতে চায় এ জাতীয় মেয়েদের স্বামীরা কি পরিস্থিতির সুন্দর সমাধান করতে পারে না?দুনিয়াতে হেন কোনো সমস্যা নাই যার কোনো সমাধান নাই!সমাধান অবশ্যই আছে,খুঁজার চেষ্টা করলেই হয়!

তাদের উচিত এমন ব্যবস্থা করা যেনো বৌ এর সাথে শ্বাশুড়ীর সম্পর্কও ,নিজের সম্পর্কও ঠিক থাকে,আবার মায়ের সাথে নিজের সম্পর্কও যেনো নষ্ট না হয়।

একটা মেয়ে বিয়ে করে ফ্যামিলি ছেড়ে আরেকজনের কথা বসে বসে শুনার জন্য আসে না,এজন্য তার ফ্যামিলিও তাকে পেলে পুষে বড় করে না।

সম্মানিত দ্বীন ইসলামের নীতিও এটা না।সাধারণভাবে মুসলমান হিসেবে মুসলমানের সাথে ভদ্র ব্যবহার করা মুসলমানের হক্ব।সেক্ষেত্রে বৌ তো এর বাইরে না।

আর নিজে ভদ্র ব্যবহার না করে আরেকজনের নিকট থেকে ভদ্র ব্যবহারও আশা করা যায় না!

তাই শ্বাশুড়ীদের নিজেদেরও যেমন শোধরানো উচিত,তেমনি বৌদেরও উচিত শ্বাশুড়ীর প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা বজায় রাখা। আর আহাল তথা স্বামী যারা,তাদেরও দায়িত্ব মায়ের হক্ব আদায়ের পাশাপাশি আহলিয়ার (স্ত্রীর)হক্ব আদায়েও সচেষ্ট থাকা।একজনের জন্য অপরজনের হক্ব কিছুতেই নষ্ট করা যাবে না।জানি এটা ছেলেদের জন্য একটা কঠিন পরীক্ষা,তবুও এটাই শরয়ী ফায়সালা।সম্মানিত শরীয়তে সবার হক্বই নির্দিষ্ট করা হয়েছে।যার হক্বই নষ্ট হোক জবাবদিহি করতে হবে।কেননা হাদীস শরীফ হচ্ছে,“প্রত্যেকেই রক্ষক,সে জিজ্ঞাসিত হবে তার রক্ষিত বিষয় সম্পর্কে।”

মহান আল্লাহ্‌ পাক যেনো প্রত্যেকের হক্ব আদায় করার তৌফিক আমাদের প্রত্যেককেই দান করেন।আমীন।

[বিঃ দ্রঃ অনেকেই বৌ আগে না,মা আগে এমন সব ফালতু কথা বলতে পারেন!তাদের বলছি,এখানে আগে পরের কোনো বিষয় নাই,হাক্বুল ইবাদ তথা বান্দার হক্ব আদায় করা সব বান্দার জন্যই অবশ্য কর্তব্য।পুরো পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ।]

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে