প্রসংগ – পহেলা বৈশাখ!!!


প্রসংগ – পহেলা বৈশাখ!!!
************************
পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
ولا تطع الكافرين والـمنافقين
অর্থ : কাফির ও মুনাফিকদের অনুসরণ কর না। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১)
 
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ليس منا من تشبه بغيرنا
অর্থ : হযরত আমর ইবনে শুয়াইব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার পিতা থেকে এবং তিনি উনার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ওই ব্যক্তি আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে বিজাতীয়দের সাথে সাদৃশ্য রাখে।” (মিশকাত শরীফ)
 
বর্তমানে প্রচলিত বাংলা সন প্রকৃতপক্ষে মোগল বাদশাহ আকবর কর্তৃক প্রবর্তিত এলাহী সন বা ফসলী সন। কারণ ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে- বাদশাহ আকবর নিজে বাঙালি বা বাংলাদেশী বা তার মাতৃভাষা বাংলা ছিলো না। তাহলে কি করে তার প্রবর্তিত এলাহী সন বা ফসলী সন, বাংলা সন ও বাঙালিদের সন হতে পারে?
এলাহী সন বা ফসলী সন গণনা শুরু হয় ৯৬৩ হিজরীতে। আর উদ্ভব ঘটে ৯৯৩ হিজরীতে। যা ৫০০ বছরও অতিবাহিত হয়নি। তাহলে তা কি করে হাজার বছরের ঐতিহ্য হতে পারে? পরবর্তীতে বিধর্মীরা তাদের মনগড়া বিধর্মী ধর্মের ধর্মীয় ভাবধারার সাথে পহেলা বৈশাখকে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত করে নেয়। অর্থাৎ বিধর্মীরা এলাহী সন বা ফসলী সনকে বিধর্মীয় সন হিসেবে গ্রহণ করে তাদের পূজাগুলোকে ফসলী সনের সাথে সংযুক্ত করে নেয়। একজন মুসলমান পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিকোণ থেকে শুধু পহেলা বৈশাখ কেন কোনো নববর্ষই পালন করতে পারে না। কারণ মুসলমানগণ উনাদের জন্য কাফির, মুশরিক, মজুসী, ইহুদী ও নাছারাদের অনুসরণ ও অনুকরণ করা কাট্টা হারাম ও শক্ত কুফরী।
 
ভারতবর্ষে মুঘল সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর সম্রাটরা হিজরী পঞ্জিকা অনুসারে কৃষি পণ্যের খাজনা আদায় করত। কিন্তু হিজরি সন চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা কৃষি ফলনের সাথে মিলত না। এতে অসময়ে কৃষকদেরকে খাজনা পরিশোধ করতে বাধ্য করতে হত। খাজনা আদায়ে সুষ্ঠুতা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করে।
 
সে মূলত প্রাচীন বর্ষপঞ্জিতে সংস্কার আনার আদেশ দেয়। সম্রাটের আদেশ মতে তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফতেহউল্লাহ সিরাজি সৌর সন এবং আরবি হিজরী সনের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিয়ম বিনির্মাণ করে। ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ই মার্চ বা ১১ই মার্চ থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। তবে এই গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয় আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় (৫ই নভেম্বর, ১৫৫৬) থেকে। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়।
সুত্রঃ উইকিপিডিয়া * * *
আকবরের শাসনামলে আকবর প্রাথমিক অবস্থায় একজন ধর্মপ্রান মুসলিম ছিলেন, কিন্তু কালক্রমে হারেমের অভ্যন্তরের রাজপুত এবং হিন্দু রানীদের প্ররোচনা এবং তৎকালিন হিন্দুদের আবেদনে ও সে এক বিকল্প সন খুঁজছিল। হিন্দুদের অভিযোগ ছিল, যেহেতু হিজরি সন অনুসারে রাস্ট্র পরিচালনা করা হচ্ছে সেহেতু তাদের পুজা অচ্চনায় সমস্যা হচ্ছে। আনন্দনাথ রায়ও ঠিক এমনটাই বলেছিল –
‘আকবর বাদশাহর রাজত্বকালে হিন্দু সম্প্রদায় বাদশাহের কাছে জ্ঞাপন করে, আমাদের ধর্মকর্ম সম্পর্কীয় অনুষ্ঠানে হিজরি সন ব্যবহার করতে ইচ্ছা করি না। আপনি আমাদের জন্য পৃথক সন নির্দিষ্ট করে দিন। আকবর হিন্দু প্রজার মনোরঞ্জনার্থে হিজরি সন থেকে দশ-এগার বছর কমিয়ে এলাহি সন নামে একটি সনের প্রচলন করে। যা আমাদের বঙ্গদেশের সন বলে চলে আসছে।’
সুত্রঃ বারভূঁইয়া, লিখক – আনন্দনাথ রায়
সুতরাং এখানে বোঝা যাচ্ছে হিন্দুদের পুজা এবং আকবরের আর্থিক উপকার তথা ব্যাবসায়িক চিন্তা ভাবনার জন্যই এই বাংলা সনের উৎপত্তি ।
সুতরাং এটা কিভাবে বাঙ্গালীর হাজার বছরের প্রানের উৎসব হয় ?
 
পহেলা বৈশাখ কেন হারাম জেনে নিন।।।পহেলা বৈশাখ বিধর্মীদের পূজার দিন।
পহেলা বৈশাখ মুসলমানদের কোন দিবস
নয়। মুসলমান পহেলা বৈশাখ পালন করতে
পারেনা।পহেলা বৈশাখে পূজা সমূহ:
—————————
১) হিন্দুদের ঘটপূজা
২) হিন্দুদের গণেশ পূজা
৩) হিন্দুদের সিদ্ধেশ্বরী পূজা
৪) হিন্দুদের ঘোড়ামেলা
৫) হিন্দুদের চৈত্রসংক্রান্তি পূজা-
অর্চনা
৬) হিন্দুদের চড়ক বা নীল পূজা বা শিবের
উপাসনা ও সংশ্লিষ্ট মেলা
৭) হিন্দুদের গম্ভীরা পূজা
৮) হিন্দুদের কুমীরের পূজা
৯) হিন্দুদের অগ্নিনৃত্য
১০) ত্রিপুরাদের বৈশুখ
১১) মারমাদের সাংগ্রাই ও পানি উৎসব
১২) চাকমাদের বিজু উৎসব
(ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমাদের পূজা
উৎসবগুলোর সম্মিলিত নাম বৈসাবি)
১৩) হিন্দু ও বৌদ্ধদের উল্কিপূজা
১৪) মজুসি তথা অগ্নি পূজকদের নওরোজ
১৫) হিন্দুদের বউমেলা
১৬) হিন্দুদের মঙ্গলযাত্রা
১৭) হিন্দুদের সূর্যপূজা
 
আমরা খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে বিধর্মীদের অনুসরন অনুকরন থেকে পানা চাই। আমিন।
Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে