প্রসঙ্গ: সীমান্তে সন্ত্রাসী বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী হত্যা 


ভারতের সীমান্ত বাহিনী হানাদার বিএসএফ বাংলাদেশ সীমান্তে অনেক দিন ধরে বাংলাদেশীদের উপর গুলি চালিয়ে আসছে; যাতে নিহত হয়েছেন বহু বাংলাদেশী। এমন কোনো দিন নেই যেদিন হানাদার বিএসএফ সীমান্তে বাংলাদেশীদের উপর নির্যাতন চালায় না। কিন্তু কি সরকার, কি জনগণ কেউ-ই প্রতিবাদ জানায় না। ।
ভারতের হানাদার বিএসএফ বহুদিন থেকেই বাংলাদেশীদের গুলি করে হত্যা করে আসছে। এ নিয়ে প্রথম থেকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মৃদু প্রতিবাদ করা হয়েছে অথবা বাংলাদেশ সরকারিভাবে নিশ্চুপ থেকেছে। উভয়পক্ষের মধ্যে এ নিয়ে বারংবার বৈঠক হয়েছে। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। হানাদার বিএসএফ বরাবরই আর হত্যা হবে না, কমিয়ে আনা হবে, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হবে না ইত্যাদি বলেছে, তবে তাদের কোনো প্রতিশ্রুতিই কখনো রক্ষিত হয়নি।
লক্ষ্যণীয় ব্যাপার যে, বাংলাদেশের কোনো সরকারই এ পর্যন্ত হানাদার বিএসএফের নির্বিচার বাংলদেশী হত্যার ব্যাপারে কখনো জোরালো কোনো প্রতিবাদ জানায়নি। হানাদার বিএসএফ যে শুধু গরু ব্যবসায়ীদেরই হত্যা করে তা নয়। তারা ক্ষেতে কর্মরত কৃষক, সীমান্ত এলাকায় চলাচলরত মানুষকেও হত্যা করেছে। আর এসব হত্যার বেশির ভাগই ঘটেছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। আবার তারা শুধু গুলি করেই মারেনি, অনেক বাংলাদেশীকে নির্মমভাবে পিটিয়েও মেরেছে। এমনকি নিহতদের সাথে অসভ্য আচরণও করেছে।
দেশের অভ্যন্তরে অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার যেমন কারো কাম্য নয়, তেমনি বাংলাদেশ বাইরের কোনো দেশের কাছ থেকে কোনো ধরনের চাপ বা ভীতির শিকার হবে তাও কাম্য নয়। বরং তা সর্বতোরূপে আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। আশ্চর্য যে অন্যদের কথা না হয় বাদই দিলাম। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক বলে নিজেদের দাবি করে তারা হানাদার বিএসএফের নির্বিচারে বাংলাদেশী হত্যার বিরুদ্ধে কখনই একটি কথাও উচ্চারণ করে না। এক্ষেত্রে তাদের নীরবতার কারণ কী তা তারাই ভালো বলতে পারবে।
স্বাধীন দেশে প্রত্যেক নাগরিকের জীবন হেফাজতের দায় সরকারের। কিন্তু কোনো সরকারই কোনোকালে ভারতের এ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেনি। জনগণকেই তীব্র প্রতিবাদে জেগে উঠতে হবে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে