ফিরে দেখা ইতিহাস।


ফিরে দেখা ইতিহাস
ঘাতক রাজাকার, আল-বাদর মওদুদী জামাতী, দেওবন্দী খারিজী, ওহাবী সালাফীদের দিনলিপি
২৮শে মার্চ, ১৯৭১ ঈসায়ী
আল ইহসান ডেস্ক:
এদিন ঢাকার রাস্তায়, অলিগলিতে পড়ে থাকে পাকী সেনাদের নির্মমতার শিকার শুধু লাশ আর লাশ। ঢাকা জজ কোর্টের দক্ষিণ দিকের প্রবেশ গলিটি ঘেঁষে যে পথ শাঁখারিবাজারের দিকে গেছে সেই গলির দু’ধারে ড্রেনের পাশে নারী-পুরুষ-শিশুর লাশ পঁচে বীভৎস হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। অনেকের ঘরে আগুন লাগিয়ে পাকী সৈনারা উল্লাসে ফেটে পড়ে। এদিন রেলওয়ে সুইপার কলোনির চুন্নু ডোম শাঁখারিবাজার থেকে তিনশ’ পঁচা লাশ ধলপুর ময়লার ডিপোতে ফেলে আসে। ঢাকা ও আশে-পাশের এলাকা নিজেদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার চেষ্টা চালায় পাকী সেনারা। কাউকে এতোটুকু সুযোগ দেয়া হয়নি এদিন। কিছু বুঝে উঠার আগেই ঝাঁঝরা হয়ে গেছে নিরীহ মানুষের শরীর।
এদিন কুয়েতের ‘ডেইলী নিউজ’ পত্রিকা পূর্ব-পাকিস্তানের পরিস্থিতির জন্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে দায়ী করে বেসামরিক শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রতি অভিনন্দন জানায়। পত্রিকাটি উল্লেখ করে যে, ‘প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া পাকিস্তানের ঐক্য ও সংহতি বিনষ্ট করতে পারে এমন কোনো কাজ করতে পারেন না। শেখ মুজিবের বৈরী মনোভাবের কারণেই পাকিস্তানের সংহতি হুমকির সম্মুখীন।’
পাকিস্তান মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্ট খান আব্দুল কাইউম বলে যে, আওয়ামী লীগের ৬ দফা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কর্মসূচি এবং এ কর্মসূচি স্পষ্ট দেশদ্রোহিতার নামান্তর। সে দেশ রক্ষায় গৃহীত ব্যবস্থাকে সঠিক, সময়োচিত এবং একান্ত ন্যায়সঙ্গত বলে উল্লেখ করে।
২৮ মার্চ ভোরে পাকী সেনারা বেপরোয়াভাবে আক্রমণ চালায় চট্টগ্রামের উপর। মুক্তিযোদ্ধাদের তৈরি সমস্ত প্রতিরোধ তছনছ করে দিয়ে চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। পাকী সেনারা এদিন তিন দিক থেকে চট্টগ্রামের উপর হামলা চালায়। যশোর, কুষ্টিয়া, পাবনাসহ অন্যান্য শহরেও পাকী সেনারা এ সময় অবস্থান করছিলো।
এই সময় ইন্দোনেশিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদম মালিক বলেন, পাকিস্তানের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি সচেতন রয়েছেন এবং তিনি মনে করেন এই অবস্থায় বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করবে।
এদিন এক ঘোষণার মাধ্যমে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক সমস্ত ব্যাংককে বেআইনি ঘোষিত আওয়ামী লীগের তহবিল সংক্রান্ত সব আদান প্রদান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। ১৮নং সামরিক আদেশ বলে ২৬ মার্চ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সমস্ত আদান প্রদানের বিস্তারিত হিসাব ৩০ দিনের মধ্যে রাওয়ালপিন্ডিস্থ প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দফতরে পেশ করার নির্দেশ দেয়। (তথ্যসূত্র- উইটনেস টু সারেন্ডার; বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলীলপত্র, দৈনিক পাকিস্তান- ১ এপ্রিল ১৯৭১ ঈসায়ী।)
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে