ফোরাত নদীসহ সমস্ত কায়িনাতের যিনি মালিক, যিনি সৃষ্টির মূল অথচ উনার সেই মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ উনাদেরকে কুখ্যাত ইয়াযীদ কাফির গোষ্ঠিরা ফোরাত নদীর এক ফোঁটা পানিও পান করতে দেয়নি।


পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- عن حضرة علي عليه السلام قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أهل بيتي أمان لأمتي অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার পবিত্র আহলি বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারাই হচ্ছেন- আমার উম্মতের একমাত্র নিরাপত্তাদানকারী তথা একমাত্র নাজাতদানকারী। সুবহানাল্লাহ! (কানযুল উম্মাল) উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে সুস্পষ্ট যে পবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন কুল-কায়িনাতবাসীর নিরাপত্তাদানকারী, রহমতদানকারী, নাজাতদানকারী তথা সমস্ত কিছুর মালিক উনারাই। সুবহানাল্লাহ! অথচ আহলে বাইত উনাদের মধ্যমণি, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কলিজা মুবারক উনার টুকরা মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উনার পূত-পবিত্র নবী পরিবার উনাদের সাথে কিরূপ নিষ্ঠুর-নির্মম আচরণ করা হয়েছিল; তা নিম্নে বর্ণনা করা হলো- সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি যখন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির বাহিনীকে সরাসরি জানিয়ে দিলেন যে, “তোমাদের পক্ষ থেকে যে ব্যবস্থাই তোমরা নাও না কেন, আমি কিছুতেই ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবো না এবং করতে পারি না” কেননা সে আমার নানাজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ মুবারক থেকে দূরে সরে গিয়েছে; এমনকি মদ্যপানসহ সমস্ত হারাম কাজে সে লিপ্ত হয়েছে, তখন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি বাহিনীর মনোভাব এত জঘন্য রূপ ধারণ করলো যে, তারা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তথা নবী পরিবার আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য ফোরাত নদীর পানি বন্ধ করে দিলো। নাঊযুবিল্লাহ! সেদিন ছিল ৭ই মুহররমুল হারাম ৬১ হিজরী। ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি বাহিনী প্রায় চার হাজার সৈন্য ফোরাত নদীর তীরে নিয়োজিত করলো। এদের মধ্যে দুই হাজার ছিল ‘পদাতিক বাহিনী’ আর দুই হাজার ছিল ‘অশ্বারোহী’। তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, উনাদেরকে যেন এক ফোঁটা পানিও নিতে দেয়া না হয়। সে নির্দেশ অনুযায়ী উনাদের জন্য তারা পানি বন্ধ করে দিলো। নাঊযুবিল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরাশিজন সঙ্গী-সাথী উনাদের মধ্যে দুগ্ধপোষ্য শিশু আওলাদ আলাইহিমুস সালামও ছিলেন এবং পর্দানশীন সম্মানিত মহিলা উনারাও ছিলেন। তিনি শুনে আরো আশ্চর্য হয়ে গেলেন যে, উনাদের মোকাবিলা করার জন্য বাইশ হাজার সৈন্য এসেছে। কী আশ্চর্য! বিরাশিজনের মোকাবিলায় বাইশ হাজার সৈন্য! আবার এই বিরাশিজনের মধ্যে শিশু ও মহিলা উনারা রয়েছেন। অথচ উনাদের মোকাবিলায় যে বাইশ হাজার সৈন্য তারা সবাই যুবক এবং তারা সর্ব প্রকারের অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে এসেছে। এরপরও তারা পানি বন্ধ করে দিলো। কারণ তাদের ধারণা হলো যে, উনারা যদি পানি পান করে জিহাদ করেন, তাহলে তারা ২২ হাজার হয়েও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তাই পানি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এটা সীমাহীন যুলুমের উপর পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন যুলুম ছিল। আফসুস! ওই সব যালিম ও কুখ্যাত কাফির ইয়াযীদ বাহিনীর জন্য, যারা এমন এক সুমহান ব্যক্তি এবং উনার সম্মানিত নবী পরিবার আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্যে পানি বন্ধ করে দিলো, যিনি হচ্ছেন সাকিয়ে কাওছার, শাফিয়ে মাহশার, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অত্যন্ত আদরের নাতী সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ওই কুখ্যাত ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি বাহিনীর প্রধান কুখ্যাত ইবনে যিয়াদ এই কাট্টা কাফিরটা তার কুখ্যাত বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিল যে, “মানুষ, জীব-জন্তু, গরু-ছাগল, পশু-পাখি, বিধর্মী সবাই এই ফোরাত নদীর পানি পান করবে, তোমরা বাধা দিও না। কিন্তু সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার এই মুবারক আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পানি পান করতে দিয়ো না।” নাঊযুবিল্লাহ! যেই ফোরাত নদীর পানি সবারই পান করতে জীব-জন্তু, পশু-পাখি কারো জন্য বাধা ছিল না। কিন্তু সাকিয়ে কাওছার, শাফিয়ে মাহশার, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অতিপ্রিয় নাতি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সেই ‘ফোরাত নদীর’ পানি পান করতে বাধা দিলো। এমনকি নবী পরিবার উনার নূরানী দুগ্ধপোষ্য শিশু আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আলী আছগর আলাইহিস সালাম উনার মুবারক প্রাণবায়ু মুবারক পানির জন্য ছটফট করতেছিলেন, সে সময় সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শুধুমাত্র উনার দুগ্ধপোষ্য আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার জন্য পানির আবেদন করলে কাফিররা পানির পরিবর্তে শিশু আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আছগর আলাইহিস সালাম উনাকে নির্দয়, নির্মমভাবে শহীদ করে। নাঊযুবিল্লাহ! যা ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিষ্ঠুর, নির্মম ও পশুর চেয়েও জঘন্যতম, নজীরবিহীন, সর্বনিকৃষ্ট বর্বর ঘটনা। এজন্য ক্বিয়ামত পর্যন্ত সমস্ত কায়িনাতবাসীর পক্ষ থেকে কাফির ইয়াযীদ ও তার কুখ্যাত গোষ্ঠীর উপর চির লা’নত ও ধিক্কার। আমীন!
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে