ফ্রান্সে মুসলমান উনাদের ওপর বর্ণবাদী হামলা বেড়েই চলেছে


ফ্রান্সে মুসলমান উনাদের উপর মৌখিক ও শারীরিক হামলা অব্যাহতভাবে বেড়েই চলছে। ফ্রান্সের সমাজে ইসলামকে একটি সমস্যা হিসেবে বর্ণিত করার জন্য মূলত দেশটির মিডিয়া ও রাজনীতিবিদরাই দায়ী । তাদের ইসলাম বিদ্বেষী ভূমিকার কারণেই মুসলমানদের উপর হামলার ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সিসিআইএফ’র এক বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মুসলিমদের উপর হামলার ঘটনা অত্যাধিক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে  ।

বিশেষ করে নারীদের উপর এ হামলা বেশি পরিচালিত হচ্ছে, এছাড়া দোকান, গোরস্তান, মসজিদ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে ।

২০১১ সালের তুলনায় ২০১২ সালে মসজিদে হামলার ঘটনা প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত মাসে প্যারিসের উপ-শহর আর্জেন্টিউইলে দুই শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তির হামলায় এক গর্ভবতী মুসলিম মহিলার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। হিজাব পরিধান করার জন্য ঐ দুই ব্যক্তি তার উপর হামলা চালিয়েছিলো ।

এই হামলার কিছুদিন পূর্বে আর্জেন্টিউইলেই অপর এক নারী একই কারণে হামলার শিকার হয়েছিলেন ।

ফ্রান্সে বসবাসরত প্রায় ৬০ লাখ মুসলিম বহুদিন ধরেই তাদের উপর অব্যাহত এ সব হামলার ব্যপারে অভিযোগ জানিয়ে আসছে ।

সম্প্রতি আইএফওপি পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক ফ্রান্সবাসী মুসলমানদেরকে তাদের দেশের জন্য হুমকি স্বরূপ মনে করে।

ফ্রান্সের সুশীল সমাজকে ইসলামভীতির অন্যতম প্ররোচক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সিসিআইএফ ।

তারা জানায়, মুসলিম নারীদের অন্যায়ভাবে হিজাব পরিধান থেকে বিরত রাখতে বেসামরিক আমলারা প্রায়ই সরকারী ধর্মনিরপেক্ষ নীতির অপব্যাখ্যা দিয়ে থাকে ।

২০০৪ সালে ফ্রান্স জনসম্মুখে হিজাব পরিধান নিষিদ্ধ করে ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কিছু কর্মকর্তা বিয়ের মত সামাজিক অনিষ্ঠান পালনেও বাধা দিয়ে থাকে, যদি কনে তার মাথা হিজাব দিয়ে ঢেকে রাখে ।

মুসলমানদের রাস্তায় নামাজ আদায়কে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রান্সে নাৎসীদের দখলদারিত্বের সাথে তুলনা করায় আদালতে বর্ণবাদী আচরণের দায়ে অভিযুক্ত চরম ডানপন্থী নেতা মেরিন লি পেনকে যে আইনি অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল তা তুলে নেয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সিসিআইএফ ।

দেবাহ বলেন, সিসিআইএফ আশা করছে নামাজ নিয়ে কটাক্ষ করায় লি পেনকে তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে ।

কিছুদিন পূর্বে একটি ছোট মসজিদে মুসল্লীর সংখ্যা বেশী হওয়ায় কিছু লোককে মসজিদের বাইরেও দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে হয়েছিলো, মিডিয়ায় তা প্রকাশিত হওয়ার পর লি পেন ঐ মন্তব্য করে ।

প্রাত্যহিক নামাজ আদায়ে ভবনগুলোতে স্থান স্বল্পতার বিষয়ে বহুদিন ধরেই অভিযোগ জানিয়ে আসছে মুসলমানরা ।

দেশটির সরকারও মুসলিমদের রাস্তায় নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করেছে ।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+