বংলার ভিতরে অবহেলিত এক বাংলা


বাংলাদেশের ভিতরে ভারত তার ভিতরে আরেক বাংলাদেশ-এই হছে চদ্রখানা ইউনিয়ন। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা মৌজায় অবস্থিত ভারতীয় ছিটমহল দাশিয়ার ছড়া। ভারতীয় এই ছিটমহলের ভেতর বাংলাদেশি ছিটমহল ছিট চন্দ্রখানা। লোকসংখ্যা মাত্র ৮০০ জন। ভারতের ভেতর অবস্থিত বলে এখানকার অধিবাসীরা সবধরনের নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত। আইনি জটিলতার দোহাই দিয়ে এখানে কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয় না। ফলে এখানকার মানুষের দুর্ভোগের সীমা নেই। কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্তবর্তী ফুলবাড়ি উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে ভারতীয় ছিটমহল দাশিয়ার ছড়া। এক হাজার ৯৪০ একর জমির এই ভারতীয় ছিটমহলটি বাংলাদেশের ভূখণ্ড দ্বারা বেষ্টিত। এই ভারতীয় ছিটমহলের ভেতর মাত্র ১৮০ বিঘা জমি আয়তনবিশিষ্ট বাংলাদেশি ছিটমহল ছিট চন্দ্রখানা। এই ছিটমহলের অধিকাংশ মানুষ দিনমজুর। জমি আছে মাত্র কয়েকজনের। এলাকায় অধিকাংশ সময় কাজ থাকে না বলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এরা অবৈধপথে ভারতে যায় কাজের সন্ধানে। ছিটমহলে কোনো হাটবাজার নেই। এমনকি যোগাযোগের জন্য কাঁচা রাস্তা পর্যন্ত নেই। আলপথে চলাচল করতে হয়। ফলে উৎপাদিত পণ্য নিয়ে কৃষকদের ভোগান্তির শেষ নেই। ভারতীয় ভূখণ্ড অতিক্রম করে বাংলাদেশের গঙ্গাহাট বা ফুলবাড়ি বাজারে আসতে ৫-৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। আন্তরাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ছাড়া সড়ক নির্মাণ সম্ভব নয় বলে চেয়ারম্যান-মেম্বাররাও এ ব্যাপারে নীরব। মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের আজোয়াটারিতে বিদ্যুতের ঝলক দেখা গেলেও ভারতীয় ছিটমহলের ভেতর থাকে বলে বিদ্যুৎ পাওয়ার কোনো আশা নেই, তাই কুপি বাতিতেই তাদের ভরসা। ছিট চন্দ্রখানায় কোনো সরকারি স্কুল নেই। 

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+