বঙ্গবন্ধুর ইমেজকে পুঁজি করে আ’লীগের সুবিধাবাদী ভারতপন্থীরা নিজেদের রাজনীতি চালিয়ে নিতে চাইলেও কট্টর ভারতপন্থীরা এখন বঙ্গবন্ধুর সমালোচনায় উদ্যত


কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একটি বই নিয়ে যথেষ্ট অস্বস্তি প্রকাশ করছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধের উপ-প্রধান সেনাপতি এ. কে. খন্দকারের লেখা ‘১৯৭১: ভেতরে বাহিরে’ নামক একটি বই নিয়ে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টরাই তাকে ‘কুলাঙ্গার’ বলে ডাকতে দ্বিধা করছে না। এ. কে. খন্দকারের অপরাধ, সে তার বইতে দাবি করেছে যে, বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণের সময় ‘জয় পাকিস্তান’ বলে স্লোগান দিয়েছিল।
এই এ. কে. খন্দকারই সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম গঠন করে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ উনার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছিল কয়েকদিন আগেও। প্রধানমন্ত্রী যখন সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে দ্বীন ইসলাম বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তখন যে দু’জন মন্ত্রী তার তীব্র বিরোধিতা করেছিল তাদের একজন হলো এই এ. কে. খন্দকার (আরেকজন হলো অনর্থমন্ত্রী মাল মুহিত)। সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ রাখা হলে হরতাল ডাকারও হুমকি দিয়েছিল এই এ. কে. খন্দকার।
অথচ আজ ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ ও ‘ভারতপন্থী’ তাবৎ আওয়ামী নেতারাই এই এ. কে. খন্দকারের বিরুদ্ধে। বিষয়টি এমন নয় যে, এ. কে. খন্দকার তার ইসলামবিরোধী ও ভারতপন্থী মনোভাব ত্যাগ করেছে। কারণ তার বইতে বঙ্গবন্ধুর ‘জয় পাকিস্তান’ বলার সমালোচনা করা হয়েছে, প্রশংসা করা হয়নি।
এ. কে. খন্দকার তার বইতে লিখেছে, “বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণেই (৭ই মার্চের ভাষণ) যে মুক্তিযুদ্ধ আরম্ভ হয়েছিল, তা আমি মনে করি না। এই ভাষণের শেষ শব্দ ছিল ‘জয় পাকিস্তান’। তিনি যুদ্ধের ডাক দিয়ে বললেন, ‘জয় পাকিস্তান’!”
এখন বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ‘জয় পাকিস্তান’ বলাটা কিন্তু অস্বাভাবিক কিছু নয়। শেখ সাহেবের কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে বঙ্গবন্ধুর যেই আত্মজীবনী বের হয়েছে, তার শুরু থেকেই বিধর্মীদের প্রতি তীব্র বিষেদগার রয়েছে। বঙ্গবন্ধু তার আত্মজীবনীতে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, “পাকিস্তান না হলে ভারতবর্ষের মুসলমানরা বাঁচবে না।” শেখ সাহেব মুসলিম ছাত্রলীগের হয়ে সাতচল্লিশের পাকিস্তান আন্দোলনেও যোগদান করেছিলেন। সে তুলনায় ‘জয় পাকিস্তান’ বলাটা নিতান্তই মামুলি বিষয়।
একাত্তর সম্পর্কিত বহু প্রামাণ্য দলিল রয়েছে, যেখানে স্পষ্ট প্রমাণ দাখিল করা হয়েছে যে- বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের বিভক্তি চাননি। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর বর্তমান বিধর্মীঘেঁষা ও ভারতপন্থী আওয়ামী লীগের আদর্শ সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। তবে সুবিধাবাদী ও ভারতপন্থী আওয়ামী লীগ নেতারা বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত আদর্শকে চেপে রেখে ফায়দা হাছিল করতে ইচ্ছুক। কিন্তু আওয়ামী লীগ মন্ত্রিসভায় এ. কে. খন্দকারের মতো কট্টর ইসলামবিদ্বেষী ও ভারতপন্থীরা কোনোপ্রকার আপসে প্রস্তুত নয়, বঙ্গবন্ধুর ইসলামপন্থী মনোভাবের কারণে তারা তার সমালোচনার পথই বেছে নিয়েছে। ফলশ্রুতিতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও ভারতপন্থী আদর্শ, এই বিপরীতমুখী দুই নৌকায় পা দিয়ে চলা আওয়ামী সুবিধাবাদী নেতারা এখন বিপাকে পড়েছে।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণ চাইলে আওয়ামী লীগ নেতাদেরকে সুবিধাবাদী মনোভাব পরিহার করতে হবে। যেহেতু তারা ৯৭ শতাংশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালনরত, সেহেতু তারা চাইলেও ভারতকে সবকিছু উজাড় করে দিতে পারবে না (যদিও তারা ক্ষমতায় আসার পর যা দিয়েছে তার পরিমাণ নেহায়েত কম নয়)। স্থায়ী সমাধান হিসেবে তাদেরকে অবশ্যই ভারতের লেজুড়বৃত্তি বর্জন করতে হবে এবং এ. কে. খন্দকার, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মহসিন আলীর মতো বিধর্মীঘেঁষা কট্টর ইসলামবিদ্বেষীদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে। বঙ্গবন্ধু আদর্শ ও বিধর্মীঘেঁষা ভারতপন্থী অপ-আদর্শ কখনোই হাত ধরাধরি করে চলতে পারে না, এটি আওয়ামী লীগ নেতাদের বোঝা উচিত।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে