বছরের পহেলা তারিখ নয়; ১০ই মুহররম তথা আশুরার দিনই বিশেষ খাবার গ্রহণের দিন


ছোটবেলা থেকে একটা বিষয় দেখে আসছি, আমাদের দেশসহ অন্যান্য দেশে নববর্ষ উপলক্ষে বছরের পহেলা দিন যেমন- পহেলা মুহররম, পহেলা বৈশাখ, পহেলা জানুয়ারি বিশেষ করে আমাদের দেশে পহেলা বৈশাখের দিন ভালো বা বিশেষ খাবার গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। এবং এমন ধারণাও প্রচলিত রয়েছে যে, উক্ত দিবসে ভালো খাবার গ্রহণ করলে সারা বছর ভালো খাবার গ্রহণ করা যাবে অর্থাৎ সচ্ছল থাকা যাবে। অথচ কোনো পহেলা তারিখেই ভালো খাবারের ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্যে আলাদা কোনো ফযীলত বা বরকত মুবারক নিহিত নেই এবং এদিন ভাল খাবার গ্রহণ করলে সারাবছর সচ্ছল থাকা যাবে- কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনাদের  মধ্যে এ কথারও কোনো ভিত্তি নেই। আর এ দিন মুসলমান উনাদের জন্য কোনো আনন্দ বা খুশি প্রকাশেরও দিন নয়। বরং যারা মজুসী বা অগ্নি উপাসক কেবল তারাই নওরোজ বা নববর্ষ পালন করে থাকে অর্থাৎ বছরের পহেলা দিন উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে। মূলত হাদীছ শরীফ  উনার  মধ্যে  ১০ই মুহররম উনার সম্পর্কে আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি তার পরিবারবর্গকে আশূরা উনার দিন অর্থাৎ ১০ই মুহররম তারিখে ভালো খাদ্য খাওয়াবে, আল্লাহ পাক তিনি তাকে এক বৎসরের জন্য সচ্ছলতা দান করবেন।” (তবারানী শরীফ, মা ছাবাতা বিস্ সুন্নাহ) উল্লেখ্য, নববর্ষ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করা যেহেতু মজুসীদের রসম-রেওয়াজ তাই মুসলমান উনাদের জন্য এ দিনে আলাদাভাবে কোনো খুশি প্রকাশ করা এবং আলাদাভাবে কোনো ভালো বা বিশেষ খাবারের আয়োজন করা জায়িয নেই। আল্লাহ পাক ও নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রেরিত মহান মুজাদ্দিদ রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার উছীলায় সারাবিশ্বের মুসলমানগণকে আবাদুল আবাদ বিশুদ্ধ আক্বীদার উপর ইস্তিকামত থেকে সুন্নত অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। (আমীন)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে