বন্ধুত্বের খোলস ধারণ করলেও বিধর্মীরা কখনই মুসলমানের বন্ধু নয়…….এটা মুসলমানদের বুঝতে হবে


গত ২০শে মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাজক জঙ্গি টেরি জোনস কর্তৃক পবিত্র কুরআন শরীফ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা -বিধর্মীরা যে কখনই মুসলমানের বন্ধু নয় এর জ্বলন্ত উদাহরণ।
তার এ চরম ন্যক্কারজনক কাজের পরিণতিতে আফগানিস্তানে জাতিসংঘ অফিসে হামলা করেছে বিক্ষুব্ধ মুসলিম জনতা। যাতে নরওয়ে, রোমানিয়া, সুইডেন, নেপালসহ কয়েকটি দেশের কমপক্ষে ২০ জন শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক।
কিন্তু তারপরও টেরি নির্বিকার। অনুশোচনার লেশমাত্র নেই তার মধ্যে। আরো ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করে সবাইকে হতবাক করে দিয়েছে সে। সে বলেছে, ইসলামের বিরুদ্ধে তার প্রচার অব্যাহত থাকবে। এমনকি সে পরবর্তী ‘বিচারের দিনে’ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিচার করার চিন্তা-ভাবনা করছে! নাঊযুবিল্লাহ!
প্রসঙ্গত সদ্য গত ‘এপ্রিল ফুল’-এর ঘটনাপ্রবাহও এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।
ইতিহাস পাঠে জানা যায়, বিশ্বসভ্যতার তদানীন্তন কেন্দ্রস্থল মুসলিম স্পেন পুনরায় নিজেদের দখলে নেবার প্রয়াসে খ্রিস্টানরা অত্যন্ত সন্তর্পণে রিকনকয়েস্টা অর্থাৎ পুনর্জয় বা পুনর্দখল আন্দোলন চালাতে থাকে। ক্রমান্বয়ে তারা ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে, এমনকি তারা শাহী মহলেও বিরোধিতার ও বিদ্রোহের আগুন প্রজ্বলিত করতে সমর্থ হয়।
খ্রিস্টান ফার্ডিনান্ড ক্ষমতা পেয়েই জনগণের বিক্ষোভের তোয়াক্কা না করে আল-হামরা প্রাসাদে রাণী ইসাবেলাসহ প্রবেশ করে এবং আল-হামরা প্রাসাদ চূড়ায় উড়ানো ইসলামী পতাকা নামিয়ে সেখানে খ্রীস্টানদের ক্রুস স্থাপন করে। এরপর নেমে আসে অত্যাচার আর নির্যাতন মুসলিম অধিবাসীগণের উপর। হাজার হাজার মুসলিমকে বন্দী করে প্রহসনমূলক বিচার করে মৃত্যুদ- দিয়ে তাদের ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলানো হয় এবং লাখ লাখ মুসলমানকে প্রতারিত করে ১লা এপ্রিল আগুনে পুড়িয়ে শহীদ করা হয়।
সেই শোকের স্মৃতি বয়ে চলেছে পয়লা এপ্রিল। আর এটা খ্রিস্টানরা বোকা বানিয়ে তামাশা করার দিন হিসেবে চিহ্নিত করেছে যা মানবতার জন্য খুবই লজ্জাকর। এই বোকা দিবসের আনুষ্ঠানিক প্রবর্তক ফ্রান্সের নবম চার্লস। ১৫৬৪ খ্রিস্টাবে এটা প্রবর্তিত হয়। সে ১৫৬৪ খ্রিস্টাব্দে ক্যালেন্ডার সংস্কারকালে পয়লা এপ্রিলকে এপ্রিল ফুল ডে হিসেবে চিহ্নিত করে। এটা ইংল্যান্ডে বিস্মৃত হয় ১৬০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। ফ্রান্সে এই বোকা বানাবার তামাশার যে শিকার হয় তাকে বলা হয় এপ্রিল ফিশ, স্কটল্যান্ডে বলা হয় এপ্রিল গাউক।
প্রতিভাত হচ্ছে খ্রিস্টানসহ সব বিধর্মীরাই ইসলামের বিস্তারে মুসলমানদের প্রতি জন্মলগ্ন এবং স্বভাবগতভাবে প্রতিহিংসাপরায়ণ।এটা যেমন অতীতে তেমনি আজকেও। এটা যেমন স্পেনের ক্ষেত্রে, তেমনি আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া সবার ক্ষেত্রে।বিশ্বসভ্যতার সহযাত্রী অথবা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সবই এখানে মিথ্যা, ছলনা, প্রতারণা, প্রবঞ্চনা ও শঠতার সবকিছু। বরং তারও ঊর্ধ্বে।
সঙ্গতকারণেই কুরআন শরীফ পোড়ানোর এ মর্মান্তিক ঘটনায় দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের উচিত অবিলম্বে সরকারিভাবে তীব্র ও চরম প্রতিবাদ করা। বাংলাদেশীসহ মুসলিম বিশ্বের সবার চরম-পরম সংক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+