বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পিতা-মাতাই বাল্যবিয়ে করেছিলেন


সরকার কথায় কথায় বলে থাকে- তারা বঙ্গবন্ধু শেখ সাহেবের সকল স্বপ্ন পূরণ করবে যা তিনি করে যেতে পারেননি। শেখ সাহেবের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হবে। কিন্তু সরকার সে স্বপ্ন পূরণ আর আদর্শ বাস্তবায়ন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। মুখে বললেও সরকার করছে তার বিপরীত।
যার অন্যতম উদাহরণ বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন। বর্তমান সরকার এই আইন করে মুসলমানের দ্বীনি বিষয়ে আঘাত হেনেছে। অথচ সরকারপ্রধানের পিতা-মাতার বিয়ে হয় বাল্য বয়সে; যা স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা।
শেখ সাহেবের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইয়ের ৭ পৃষ্ঠায় লিখা- “রেণুর (ফজিলাতুন্নেছা) বাবা মারা যাওয়ার পর ওর দাদা আমার আব্বাকে ডেকে বললেন, ‘তোমার বড় ছেলের সঙ্গে আমার এই নাতনির বিবাহ দিতে হবে।’ রেণুর দাদা আমার আব্বার চাচা; মুরব্বির হুকুম মানার জন্য রেণুর সঙ্গে আমার বিবাহ রেজিস্ট্রি করে ফেলা হলো। আমি শুনলাম আমার বিবাহ হয়েছে। রেণু তখন কিছু বুঝত না, কেননা তার বয়স তখন বোধ হয় তিন বছর হবে।”
যা খোদ প্রধানমন্ত্রীর লিখিত বইয়ে পাওয়া যায়- “আব্বার যখন দশ (১০) বছর তখন তাঁর বিয়ে হয়। আমার মায়ের বয়স ছিল মাত্র তিন (৩) বছর। আমার মা পিতৃহারা হবার পর তাঁর দাদা এই বিয়ে দিয়ে সমস্ত সম্পত্তি মা ও খালার নামে লিখে দেন।” (সূত্র: শেখ হাসিনা লিখিত- ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’, পৃ-২৭)
সরকারপ্রধানের অনুমোদনে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন’-এর আওতায় অভিযুক্ত করে যদি উনার পিতা-মাতার বাল্য বয়সের বিয়েকে ধরা হয়, তাহলে সরকারপ্রধান কি এ অভিযোগের দরুন সম্মানিত হবেন এবং মনে কষ্ট পাবেন না? অথবা সরকারপ্রধান কি এটাই বলতে চান, উনার পিতা অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু যা করেছেন, যেভাবে বাল্যবিয়ে করেছেন সেটা সঠিক করেননি। নাউযুবিল্লাহ! মেয়ে হয়ে পিতার বিরুদ্ধে কি এই অভিযোগ করতে পারবে?

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে