বর্তমান প্রেক্ষাপটে অসাধারন একটি কবিতা! না পড়লে অবশ্যই মিস করবেন! আবদুল হাই শিকদারের কবিতা ‘প্রভু ..তাদের দুই হাতকে ধ্বংস কর আবু লাহাবের মতো’


বর্তমান প্রেক্ষাপটে অসাধারন একটি কবিতা! না পড়লে অবশ্যই মিস করবেন!
আবদুল হাই শিকদারের কবিতা ‘প্রভু ..তাদের দুই হাতকে ধ্বংস কর আবু লাহাবের মতো’

ইবাদতগুলি প্রার্থনাগুলি
আমাদের শুকিয়ে যাওয়া নদীর শুষ্ক বালুর মতো প্রাণহীন,
সম্মিলিত ও ব্যক্তিগত, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ইবাদতগুলিকে বলেছি,
বলেছি নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত এবং কালেমাকে।
বলেছি ফজর, যোহর, আছর, মাগরিব এশা ও তাহাজ্জুদকে।
বলেছি দোয়া কুনুত, আয়াতুল কুরসি, খতমে বুখারি, ইসমে আজমকে,
বলেছি নানাবিধ তরিকা, জেকের আসকার ও দোয়া কালামকে,
বলেছি খুচরা খাচরা যেখানে যা আছে সবাইকে—

দয়া করে ব্যক্তিগত লোভ ও লালসা পরিত্যাগ করুন।
সওয়াবগুলিকে গুদামজাত করে লাভের আশায় না পচিয়ে
এদের গায়ে গতরে আলো-বাতাস লাগতে দিন।
মাখতে দিন বারুদ ও গোলাপের গন্ধ।
এদের রৌদ্রে শুকিয়ে শক্ত সমর্থ করুন।
কোথাও কোনো ফরমালিনের মিশ্রণ থাকলে,
তা পরিশুদ্ধ করে মানুষের আহার উপযোগী করে তুলুন।

তারপর বিনয় ও দাহের মিলিত কেমিক্যাল
ক্ষত-বিক্ষত হৃিপণ্ডের মধ্যে বসিয়ে,
রক্তাক্ত হাত দু’টিকে প্রসারিত করেছি পরমলোকে—
প্রভু, এই হাত এখন আর হাত নেই,
বিশ্বাসের নিশানকে উড্ডীন রাখার সর্বশেষ প্রয়াস,
আর চোখের বদলে রহমতের যে কাঙালকে দেখছো,
তার নাম অশ্রু নয়, এ হলো এক ধরনের গোঙরানি।
তারপরও বিধ্বস্ত ভিটামাটির শেষ খুঁটিটিকে আঁকড়ে ধরে বলছি—

প্রভু, আমাদের ইবাদতগুলিকে তুমি বেহেশতের লোভ থেকে মুক্তি দাও।
আমাদের গভীর ও নিবিড়তাকে দোজখের ভয় থেকে মুক্তি দাও।
আর এই লোভী ও ভীতদের মধ্যে সঞ্চার কর বদরের বৈভব।
তারপর আমাদের প্রতিটি ইবাদত হয়ে উঠুক এক একটি যুদ্ধ ঘোষণা।
এই যুদ্ধ অন্যায় এবং অসুন্দরের বিরুদ্ধে,
এই যুদ্ধ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে,
এই যুদ্ধ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে,
এই যুদ্ধ বিমানবিকতার বিরুদ্ধে,
বাতিল হয়ে যাওয়া গলিত পুঁজের বিরুদ্ধে।

আমাদের প্রতিটি কালেমা এখন এক একটি স্লোগান।
আমাদের প্রতিটি নামাজ এখন এক একটি মানববন্ধন।
আমাদের প্রতিটি রোজা এখন এক একটি অনশন ধর্মঘট।
আমাদের জেকেরগুলি এখন এক একটি গনগনে মিছিল।
আর জাকাতগুলি মৃত্তিকার উপর খাড়া করে রাখে ঝাঁঝালো ব্যানার।
আর আমাদের হজ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম প্রতিবাদ সমাবেশ।

প্রভু, যারা আমাদের জমিনকে করেছে ধ্বস্ত-বিধ্বস্ত,
যারা আমাদের শান্তির ঘরে লাগিয়েছে বিভেদ ও হানাহানির আগুন,
যারা আমাদের সীমানা প্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে করেছে অরক্ষিত,
যারা আমাদের বোনদের লুণ্ঠিত ইজ্জতের ওপর স্থাপন করেছে সেঞ্চুরি টাওয়ার,
যারা আমাদের ভাইদের নির্বিচারে হত্যা করে
তাদের গলিত মথিত লাশের উপর করেছে পৈশাচিক নৃত্য—

যারা তোমার আসমানী কিতাবকে ভস্মীভূত করেছে লেলিহান অগ্নিতে,
যারা তোমার প্রিয়তম হাবিবকে করেছে অপমান,
যারা তোমার পবিত্র নাম নিয়ে খেলেছে টেবিল টেনিস,
—তাদের বিরুদ্ধে আমাদের জায়নামাজের প্রতিটি তন্তুতে এখন ঘৃণা;
আর আমাদের মসজিদগুলি পরিণত হয়েছে এক একটি দুর্ভেদ্য বাঁশের কেল্লায়,
পুঞ্জীভূত ক্রোধ এখন সীমার বাঁধন অতিক্রম করে,
হিংস্র টর্নেডোর মতো ঝাঁপিয়ে পড়তে চায়
মানুষ এবং মানবতার শত্রুদের বিরুদ্ধে,
সত্য ও কল্যাণের শত্রুদের বিরুদ্ধে।

প্রভু আমার, আমরা এখন দাঁড়িয়ে আছি নীল নদের কিনারে,
পিছনে ধাবমান সভ্যতার শত্রুরা;
আর তোমার সামনে বিস্তীর্ণ কারবালার প্রান্তর,
তুমি জান হোসেন ও ইয়াজিদের মধ্যে কোনো মীমাংসা হয় না,
তোমার সিদ্ধান্তের তরবারিই এখন একমাত্র ফয়সালা—

প্রভু, তুমি আমাদের প্রতিটি মুনাজাতকে সংহারক মিসাইলে পরিণত কর,
আমাদের প্রতিটি নামাজ হয়ে উঠুক এক একটি ভয়ঙ্কর ডিনামাইট,
আমাদের লাবণ্য মাখা রোজাকে তুমি পরিণত কর বজ্রে,
তারপর তাদের নিক্ষেপ কর দম্ভ ও হিংস্রতার উপর।
আমাদের হজের মহামিছিলের পদতলে পিষ্ট কর সত্যের প্রতিপক্ষকে।

আমাদের কালেমাকে তুমি পরিণত কর কার্পেট বোমায়,
তারপর তা বিষাক্ত বৃষ্টির মতো ছড়িয়ে দাও
অমঙ্গলের মানচিত্রের উপর।

আমাদের জায়নামাজকে অপবিত্র করেছে মীরজাফর,
তার উপর পতিত হোক তোমার বীভত্স গজব।
আমাদের ঈমানের ওপর আঘাত করেছে ঘষেটি বেগমরা,
প্রভু, তাদের তুমি ফেরাউনের মতো ডুবিয়ে মার পদ্মায়।
আমাদের শাসনতন্ত্র থেকে যারা তোমাকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে,
প্রভু, তাদের তুমি নির্বাসিত কর নিদ্রা থেকে,
আর তাদের দুই হাতকে ধ্বংস কর আবু লাহাবের মতো।

প্রভু, ভণ্ড এবং প্রতারকরা বিশ্বাসীদের উচ্ছেদ করছে
চৌদ্দ পুরুষের ভিটামাটি থেকে,
হিন্দার নৃশংস দাঁত এখন বিশ্বাসীদের হৃিপণ্ড
চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে,
তোমার মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডার
কোনায় কোনায় এখন রক্ত,
এই রক্ত শুধু তাদের যারা তোমাকে বিশ্বাস করেছিল,
ভালোবেসেছিল তোমার হাবিবকে,
যারা তোমার বাণীর তেলাওয়াতে আবাদযোগ্য করেছিল মানবজমিনকে।

প্রভু, প্রস্ফুটিত পদ্মের অন্তরভরা সৌন্দর্যের দোহাই,
কল্লোলিনী সুরমার কিনারে দণ্ডায়মান শাহজালালের মিনারের দোহাই,
এই নব্য আদ ও সামুদদের বিরুদ্ধে
আমাদের লোভ ও ভীতিমুক্ত ইবাদতগুলিকে তুমি প্রতিরোধের মশালে পরিণত কর,
—আর মজলুমদের বিজয়ী কর জালেমের বিরুদ্ধে।

প্রভু, আমরা কাতারবন্দি আছি কাদিসিয়ার রণাঙ্গনে।
আমরা রক্ত ঝরাচ্ছি ইয়ারমুকে।
অথচ হিন্দা ও উবাইরা আমাদের নিয়ে যেতে চায় পলাশীতে।
প্রভু, তুমি আমাদের জন্য উন্মুক্ত কর পানিপথের ময়দান,
আরেকটা নতুন একাত্তর।

আর পাপমুক্তির মাধ্যমে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি
এগিয়ে যাক ইনসাফের দিকে।

সংগ্রহ: দৈনিক আমার দেশ ৩০.০৮.২০১৩

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. কবিতা সুন্দর হয়েছে। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনাকে আপনি সম্বোধন করা উচিত। আর মন্দির, গীর্জার কথা কেন আসল বুঝলাম না!

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে