বর্তমান যামানার একমাত্র কান্ডারী মহান খলীফা আস সাফফাহ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার ছোহবত ব্যতিত হক্বের উপর থাকা অসম্ভব


WhatsApp Image 2016-07-30 at 11.42.47 AM

হযরত শেখ সা’দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “নেককারের ছোহবতে নেককার হয়, আর বদকারের ছোহবতে বদকার হয়।” হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার পুত্র কেনান- সে নবীপুত্র হওয়া সত্ত্বেও কাফির-মুশরিকদের ছোহবতে থাকার কারণে কাফির-মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। আর আসহাবে কাহাফ উনাদের কুকুরটি হযরত আউলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের ছোহবত মুবারকে থাকার কারণে কুকুর হওয়া সত্ত্বেও পরকালে বনী ইসরাইলের মালউন-মরদুদ দরবেশ বালআম বিন বাউরার ছুরতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

অতএব, এই উদাহরণের মাধ্যমেই পরিষ্কারভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, ছোহবতের গুরুত্ব কতটুকু; অর্থাৎ একজন মানুষের জন্য ছোহবতের (সৎসঙ্গ) প্রয়োজন কতটুকু। নেককার উনাদের ছোহবত মুবারকের অভাবে কি বিপর্যয় ঘটে, আর নেককার উনাদের ছোহবত মুবারকের পরশে কতটুকু কল্যাণ লাভ করা সম্ভব!

আমরা মুসলমানরা গভীরভাবে একটু চিন্তা করি, বিবেককে একটু শানিত করি, বিবেকের জবাব শুনি- সে কি বলে? বিবেক এটাই বলে যে, আমাদের চারপাশে শুধু হারাম কাজে ভরপুর। কি ঘরে? কি বাইরে? কি রাস্তায়? কি মাঠে? কি বাজারে? কি শিক্ষাঙ্গনে? কি বাণিজ্যে? কি তথাকথিত রাজনীতিতে?

বর্তমানে সব জায়গায় ব্যাপক পরিসরে হারাম কাজ চলছে। আমরা মুসলমানরা যে পোশাক পরিধান করি, তা বিজাতীয়। আমাদের ঘরের পরিবেশও ইসলামী পরিবেশ নয়। আমাদের ঘরে রয়েছে টিভি, ডিভিডি, ভিসিআরসহ বিভিন্ন রকমের বাদ্যযন্ত্র। আমরা রাস্তায় বের হলে দেখি শত শত হারাম কাজ। বেপর্দা-বেহায়া, অশ্লীল-অশালীনতায় রাস্তা-ঘাট টইটম্বুর। বিভিন্ন খারাপ অশ্লীল ছবিতে চারপাশ একাকার। সিনেমা হলগুলো যেন পাপকু-।

আমরা শিক্ষাঙ্গনে লেখাপড়া করতে যাই, সেখানেও রয়েছে বিভিন্ন হারাম ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে নেই কোনো পর্দার ব্যবস্থা। নেই শিক্ষক, শিক্ষিকাদের মধ্যেও। কলেজ ইউনিভার্সিটিগুলোতে তো আরো খারাপ পরিবেশ। এমন কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলোতে প্রায় নগ্ন পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করে ছাত্রীরা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়।

ব্যবসা-বাণিজ্য করতে গেলে, সেখানে শুধু সুদ-ঘুষ, মিথ্যা কপটতা ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর নেই। তথাকথিত ইসলামী রাজনীতির অবস্থা তো এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তারপরেও আমরা সাধারণ মুসলমানরা যদি ইসলামী মন-মানসিকতা নিয়ে কোনো তথাকথিত মাওলানা মুফতী মুহাদ্দিস মুফাসসিরদের দ্বারপ্রান্তে হাজির হই, তবে দেখতে পাই- তারা হারাম কাজে আমজনতাকে হার মানিয়েছে। কি বেহাল অবস্থা আমাদের? কি বেহাল আমাদের দেশের? কি বেহাল আমাদের পৃথিবীর? কিভাবে আমরা হক্বে থাকবো?

মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার অসংখ্য শুকরিয়া এবং অগণিত দুরূদ ও সালাম আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরে। উনারা দয়া করে ইহসান করে আমাদের উপহার দিয়েছেন পঞ্চদশ হিজরী শতকের মহান মুজাদ্দিদ, আল-মুজাদ্দিদুল আ’যম, জামিউল আউলিয়া, আওলাদে রসূল, রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে।

তিনি এই কঠিন পরিস্থিতিতেও পরিপূর্ণ সুন্নতের পাবন্দ। সুন্নতের খিলাফ কোনো আমল করেন না। পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও পবিত্র ক্বিয়াস সম্মত উনার সমস্ত আমল-আখলাক, কথা-বার্তা।

তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গুণে গুণান্বিত। এই কঠিন ফিতনা-ফাসাদের যুগেও তিনি পরিপূর্ণ হক্বের উপর ইস্তিকামত। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের অনুযায়ী আমল-আখলাক মুবারকে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়। এর থেকে তিনি এক চুলও বিচ্যুত হন না। উনার মুবারক ছোহবতে যারা আসে তাদের মাঝেও সেই পবিত্র সুন্নত উনার আমল পরিলক্ষিত হয়। তারা নবী প্রেমে এ পবিত্র সুন্নত উনাকে দৃঢ়তার সাথে আঁকড়ে ধরেন। হক্বের পথে তারা পরিচালিত হন। কাজেই এ ফিতনা বেষ্টিত সমাজে আল মুজাদ্দিদুল আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক ছোহবত পেলেই, উনার রূহানী ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক পেলেই আমরা হক্ব পথে হক্ব মতে দৃঢ় থাকতে পারবো সহজে। অন্যথায় তা অত্যন্ত কঠিন।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে