বস্তুবাদী জীবনদর্শন, ভোগবাদী চিন্তা-চেতনা, স্বার্থবাদী মন-মানসিকতা এবং আত্মসর্বস্ব ধ্যান-ধারণা আজ মানবতাকে অক্টোপাসের ন্যায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে … !


বস্তুবাদী জীবনদর্শন, ভোগবাদী চিন্তা-চেতনা, স্বার্থবাদী মন-মানসিকতা এবং আত্মসর্বস্ব ধ্যান-ধারণা আজ মানবতাকে অক্টোপাসের ন্যায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে … ! তা মানব সমাজের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে, শিরায়- উপশিরায় মহামারীর জীবাণুরূপে অনুপ্রবেশ করছে … ! মানুষের আচার-আচরণ, চাল-চলন, বিচার-বিশ্লেষণ, কাজ-কর্ম, কথা-বার্তা, পারস্পরিক সম্পর্ক, সর্বোপরি সবকিছুতেই ক্ষুদ্র জীবাণুর প্রলয়ংকরী আভাস সতত সুস্পষ্টরূপে প্রতিভাত হচ্ছে ! ফলশ্রুতিতে ভাল-মন্দ, মান-অপমান, সম্মান-অসম্মান, মর্যাদা-অমর্যাদা, ভদ্রতা-ইতরতা, শ্রেষ্ঠতা-নীচতা, ধনাঢ্যতা-দীনতা, যোগ্যতা-অযোগ্যতা, সফলতা-ব্যর্থতা এবং পূর্ণতা-অপূর্ণতার মূল্যায়নও হচ্ছে বস্তুবাদী তুলাদন্ডের ঝোঁক – প্রবণতার উপর ভিত্তি করে ! বাহ্যিক অবয়ব, দৈহিক সৌন্দর্য, সাজ-সজ্জার সৌকর্য, পোশাকের সু্নিপুণ কারুকার্য, বংশীয় কৌলিন্য, গোত্রীয় আভিজাত্য, জন্মভূমির শ্রেষ্ঠত্ব, সম্পদের প্রাচুর্য, শক্তির আধিক্য, ভাষার অলংকারিত্য, পেশার উন্নতি, দেশের সমৃদ্ধি, যাতায়াত মাধ্যমের বিলাসিতা, বাসস্থানের আধুনিকতা, পানাহারের বৈচিত্র্য এসবই হচ্ছে পার্থিব মান-সম্মান, শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার বস্তুবাদী মানদন্ড।

পক্ষান্তরে, যেই মহান সত্ত্বার সম্মান-মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব-বড়ত্ব, ব্যাপ্তী ও বিশালতার পূর্ণতা, উচ্চতার সর্বোচ্চ সোপানে উপনীত, সেই মহান আল্লাহ্‌- সুব্-হানাহু তা’য়ালার কাছে সম্মান ও মর্যাদার মানদন্ড মাত্র একটি; শুধুমাত্র একটিই- যার নাম ‘তাকওয়া’; যার আধার হলো ক্বলব বা অন্তর, যার অন্তর্নিহিত অবস্থা ও নিগুঢ়ার্থ একমাত্র তিনিই অবগত। আর এ মহাসত্যটি সুস্পষ্টরূপে প্রতিভাত হয়েছে পবিত্র কুরআ’ন ও হাদীসের একাধিক স্থানে।

একজন সরুকায়, কৃষ্ণকায়, বিকলাঙ্গ, টেরা, কানা, খোঁড়া, পঙ্গু, স্থুলকায়, শরীরের কোন অঙ্গের বা অংশের ত্রুটি-বিচ্যুতি, তথা শারীরিক প্রতিবন্ধীর সাথে কথা বলতে, বসবাস করতে, দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ হতে, স্বাভাবিক আচরণ করতে, এমনকি পরিচিত হতেও আমরা দ্বিধা করে থাকি! কারণ, প্রচলিত সমাজ – ব্যবস্থা তাকে এতটুকু ত্রুটি / ঘাটতির (যেখানে তার নিজস্ব কোন হস্তক্ষেপ নেই) কারণে, একজন মানুষ হিসেবে, সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে – তার মানবীয়, নৈতিক এবং চারিত্রিক গুণাবলীর সর্বোত্তম উণ্মেষ ঘটা সত্ত্বেও তাকে তার ন্যায্য, ন্যায়সঙ্গত, প্রাপ্য সামাজিক অধিকার ও মর্যাদা দিতে কুন্ঠাবোধ করছে ! তার দিকে আড়চোখে, কটু চোখে তাকিয়ে নাক সিটকাচ্ছে, হাসি-তামাসা করছে, ঠাট্টা বিদ্রূপ করছে… ! যারাও মহানুভবতার পরিচয় দিয়ে কদাচিৎ সুনজরে তাকাচ্ছে তাদের সে দৃষ্টিও করুণা, দয়া ও অনুকম্পার পর্দা বেধ করতে সক্ষম হয় না ! আর এ অন্যায়, অমানবিক ও অশুভ আচরণের বিষ বৃক্ষটি সমূলে উৎপাটন করে তদস্থলে মানবিক মুল্যবোধের সবুজ সতেজ বৃক্ষ প্রোথিত করে সমাজ ব্যবস্থাকে নব রঙ্গে রাঙ্গাতে, নতুন সাজে সাজাতে নবীজি আমাদেরকে দিয়ে গেছেন নতুন মানদন্ড ; যা আমাদেরকে অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে