বাংলাদেশকে না জানিয়ে ভারতের সমীক্ষা


বাংলাদেশকে না জানিয়ে নারায়ণগঞ্জে একটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের সমীক্ষা চালাতে দরপত্র আহ্বান করেছে ভারত। ওই সমীক্ষায় কনটেইনার টার্মিনালের কারিগরি ও বাণিজ্যিক দিক খতিয়ে দেখা হবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, কনটেইনার টার্মিনালের সমীক্ষা নিয়ে ১০ মে এক দরপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। ওই দরপত্রে বলা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল লিমিটেডের ৪৬ একর জায়গার ওপর ওই সমীক্ষা চালানো হবে। দরপত্র জমা দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা ৭ জুন বেলা তিনটা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সমীক্ষার দরপত্র সম্পর্কে মন্ত্রণালয় আগে জানত না। তাই এ বিষয়ে জানতে চেয়ে গত সোমবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন ও দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তবে জানতে চাইলে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা গতকাল সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদককে বলেন, এ সমীক্ষা বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য নেওয়া একটি পদক্ষেপ। এতে দুই সরকারের কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই। কাজেই এ সমীক্ষার ব্যাপারে বাংলাদেশকে জানানোর বাধ্যবাধকতা নেই।
এদিকে দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো গতকাল জানিয়েছে, দুই প্রতিবেশীর সম্পর্কের সমন্বয়কারী সংস্থা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা-মালদ্বীপ বিভাগ এ সমীক্ষার বিষয়ে জানে না। বিষয়টির তত্ত্বাবধান করছে মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অংশীদারিবিষয়ক প্রশাসন (ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন—ডিপিএ)। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এ ধরনের একটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখতে এ সমীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
দিল্লির সূত্রগুলো জানিয়েছে, মূলত কুমুদিনীর সঙ্গে ভারতের কনটেইনার করপোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেডের (কনকর) আলোচনার প্রেক্ষাপটে এ সমীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ, বিদেশের এ ধরনের বাণিজ্যিক প্রকল্পে সমীক্ষা চালানো হলে রাষ্ট্রীয় সংস্থা কনকরের পরিচালনা পর্ষদ এটি মেনে নেবে না। এই পরিস্থিতিতে এ ধরনের সমীক্ষা ভারতের বাণিজ্য কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চালানো ছাড়া সমাধানের কোনো পথ ছিল না। শেষ পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সমীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
ভারতের একটি কূটনৈতিক সূত্র দাবি করছে, প্রস্তাবিত কনটেইনার টার্মিনালটি একটি যৌথ বিনিয়োগকারী প্রকল্প। এটি আশুগঞ্জ কনটেইনার টার্মিনালের মতো ভারতীয় অনুদানে হচ্ছে না। কাজেই আশুগঞ্জের সমীক্ষায় দুই দেশের সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে যুক্ত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও নারায়ণগঞ্জের কনটেইনার টার্মিনালের ক্ষেত্রে তার প্রয়োজন নেই।
জানতে চাইলে ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্বপন সাহা বলেন, ‘শীতলক্ষ্যার পাড়ের জায়গাটিতে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়ে ভারত, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আর প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যাপারে কেউ যদি নিজ উদ্যোগে সমীক্ষা চালায়, এটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।’
শুরুটা যেভাবে: ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০১১ সালে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল লিমিটেডের ৪৬ একর জমিতে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের প্রথম প্রস্তাবটি কনকরকে দেওয়া হয়। কুমুদিনীর প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, তাদের পক্ষ থেকে জমি দেওয়া হবে। আর অবকাঠামো তৈরি করবে কনকর। তবে এ আলোচনা প্রায় দেড় বছর থমকে থাকার পর ২০১২ সালে জুনে গতি পায়।
দরপত্রে যা বলা হয়েছে: ভারতীয় ওয়েবসাইটে দেওয়া সমীক্ষার দরপত্রে বলা হয়েছে, কুমুদিনী তাদের জমিতে ভারতের অংশীদারকে নিয়ে একটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কারিগরি ও আর্থিক সংশ্লিষ্টতার সম্ভাব্যতা নিয়ে সমীক্ষা পরিচালনা করতে চায়। কনটেইনার আনা-নেওয়ার হার, এর আর্থিক সংশ্লিষ্টতা এবং অবকাঠামো নির্মাণের খরচ নিয়ে এ সমীক্ষা হবে। দরপত্র চূড়ান্ত হওয়ার ১৪ সপ্তাহের মধ্যে এ সমীক্ষা শেষ করতে হবে।

link

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+