বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা! হাসিনার প্রতি চাপ সৃষ্টি


বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল হতে একের পর এক ধারাবাহিক একতরফা লাভবান হওয়ার পর দিল্লীতে ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা এখন নতুন পরবর্তী বিষয়ে অগ্রসর হওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে তা এই শেখ হাসিনার সরকারের উপর চাপে রেখে এই দেশে ভারতীয় সামরিক বাহিনীকে ঢুকার অনুমতি দেওয়া। যাতে তারা যৌথ ভাবে জঙ্গী, সন্ত্রাসী, বিদ্রোহী এবং অন্য অপরাধ তৎপড়তার বিরুদ্ধে। ভারতের এই গোপন এজেন্ডা বা অভিপ্রায় প্রকাশিত হয় যখন সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর বিশেষ দূত সাতিন্দার কে লাম্বা বলেছে “বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাংলাদেশ হতে সন্ত্রাসী ও বিদ্রোহীদের কার্যকলাপ দমন করা যাচ্ছে না”।

অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত চতূর্থ ভারত-বাংলাদেশ সামরিক আলোচনায় লাম্বা বলেছে “বর্তমান পর্যায়ে আমাদের মাটি হতে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও বিদ্রোহী পক্ষকে নির্মূলের জন্য যৌথ ভাবে কাজ করার প্রয়োজন আছে”।

লাম্বা আরও বলেছে, এটা সবার জানা যে সন্ত্রাসী, বিদ্রোহী, জঙ্গিদের এবং অপরাধমূলক আচরণে কোন বেসামরিক আইন এবং রাষ্ট্রীয় সীমাকে সম্মান করে না।

সে আরও বলে “এই নেটওয়ার্ক এবং এদের যুক্ত দল গুলোর কিছু তাদের গোপন আস্থানা এবং জাল ভারতীয় মূদ্রার নোট বাংলাদেশে চালিয়ে যাচ্ছে”।

সে আরও জানায় যে ভারত অপরাধী শক্তি গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার জন্য বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। ইতিমধ্যে যে তিন বিষয়ে চুক্তি দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে তাতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছুই নেই, সে আশা করে যে দ্রুতই দুই দেশের মধ্যে অপরাধী বিনিময় চুক্তি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে যা দুই দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাঠামোকে একটি জায়গায় নিয়ে যাবে।

লাম্বা বলে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় আন্তসীমান্ত অপরাধী তৎপড়তা, যাতে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক ব্যাবসা, জাল মুদ্রা, মাদক এবং নারী-শিশু পাচার হচ্ছে।

এই সমস্যা গুলো উভয় দেশের অর্থনৈতিক কল্যাণের জন্য একটি হুমকি!

RAB এর একটি টিম বাংলাদেশে ১ কোটি রুপি মূল্যমান ভারতীয় জাল নোট ধরার পর ভারতীয় র বলছে যে পাকিস্তানের আই.এস.আই নেপালে হতে তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। এটা ঠিক সে রকম যে বাংলাদেশ ও দুবাইয়ের প্রচলিত রুটের বদলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়শিয়াকে ব্যাবহার করা হচ্ছে।

এটা পাকিস্তানের কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে ব্যাবহার করে তারা ভারতের দৃষ্টি এড়াতে পারে। বরাবরের মতই ভারতের অর্থনীতির সাব-ভার্সন তার মুম্বাই শহড়েরর আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

গত ৪ঠা এপ্রিল ২০১২তে নেপালের ত্রিভূবন বিমানবন্দরে যে ৯৮ লক্ষ জাল ভারতীয় রুপি আটক হয় তাতে ভারতের দেওয়া তথ্য ছিল। ভারতীয় র দাবী করে এই জাল রুপি গুলো এমন ভাবে তরল বোতলে সাজানো ছিল যা ভিয়েতনামে পাকিস্তানীরা সেট করেছিল।

অভিযুক্ত মহিলার নাম গোপন রেখে তদন্ত চলছে, এমন ভাবে নোট গুলো সাজানো হয়েছিল এবং কর প্রদান করে ব্যাবস্থা করা হয়েছিল যেন কাষ্টমস এগুলো যাচাই না করে।

ভারতীয় গোয়েন্দা সুত্র বলছে মহিলা ব্যাংকক হয়ে ভিয়েতনাম হতে কাঠমন্ডু আসে। তাকে গ্রেফতার শুধু জাল নোটই নয় বরং নতুন রুট সমন্ধেও জানা যায়(পাকিস্তান-ভিয়েতনাম-নেপাল)।

ভারতীয় সুত্র গুলো বলছে বাংলাদেশ ও আমিরাত তাদের কঠোর নজরে থাকায় এখন ভিয়েতনামের রুট ব্যাবহৃত হচ্ছে। যাত্রীদের সিংহভাগ অংশই এখানে আসে বাংলাদেশ ও দুবাই হতে। তাই ভিয়েতনাম হতে কেউ এলে তাকে সন্দেহ করা হবে না এমনই ভাবা হয়েছিল বলে ভারতীয় গোয়েন্দা জানায়।

ভারতীয় গোয়েন্দা সুত্র গুলো জানায় যে আগে মুম্বাইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে পাকিস্তান যে জাল নোট সরবারাহ করত হতে পারে যে সে গুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি দাউদ ইব্রাহিমেরও থাইল্যান্ড, মালয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক আছে। দাউদ ইব্রাহিম করাচীতে বসেই মার্কিন মূল্যমানের ২৫ লক্ষ ডলারের সমপরিমাণ ভারতীয় মুদ্রা ভারতে নিয়ন্ত্রণ করে।

ভারতীয় গোয়েন্দা সুত্র বলছে যে এই জাল নোট গুলো খুবই উচু মানের যা আগের পাকিস্তান হতে আসা গুলোর সাথে মিল আছে।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

Comments are closed.