বাংলাদেশের কথিত ‘জাতীয় সংগীতের’ আড়াল করা কালো ইতিহাস!!


বাংলাদেশের কথিত ‘জাতীয় সংগীতের’ আড়াল করা কালো ইতিহাস!!

‘আমার সোনার বাংলা . . . . . .’ রচিত হয় অবিভক্ত বাংলার বন্দনায় এবং বঙ্গভঙ্গ বাতিলের দাবিতে স্বদেশী আন্দোলনকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যে।
ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে, বাংলাকে অবিভক্ত রাখার বিধর্মীদের সেই স্বদেশী আন্দোলনের লক্ষ্য ছিলো পশ্চিম বাংলা ও কলকাতার পশ্চাৎভূমি হিসেবে পূর্ব বাংলার সামগ্রিক উন্নয়নের সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করা। রবীন্দ্র এই বন্দনা গীত ১৯০৫ সনের ৭ই আগস্ট দুই বাংলা পুনঃএকত্রিকরণের দাবিতে কলকাতা টাউন হলে আয়োজিত গণসমাবেশে প্রথম গেয়েছিলো (এম, এ, আজিজ, ক্যান দেয়ার বি ডিউরেবল পীস ইন দি সাব-কন্টিনেন্ট, ডাহুক পাবলিকেশন্স, ঢাকা, ১৯৭৮ পৃঃ ১৩) এবং পরবর্তীতে স্বদেশী আন্দোলনের ৩ হাজারেরও বেশি সমাবেশে এই বন্দনা গীত গাওয়া হয়।
বাঙ্গালী অমুসলিম জাতীয়তাবাদের নামে বঙ্গভঙ্গ রদ তথা অবিভক্ত বাংলার সে আন্দোলনের আর একটি লক্ষ্য ছিলো, হিন্দুত্ববাদীতার পুণরুজ্জীবন, যার মধ্যে জাতীয় স্বাধীনতার কোনো ব্যাপার ছিলো না।
এই স¤পর্কে লেখক ও ঐতিহাসিক নিরোদ চন্দ্র লিখেছে, রবীন্দ্রের জাতীয়তাবোধ ছিল হিন্দুত্ববাদ থেকে উৎসারিত (নিরোদ সি, চৌধুরী, আভাতী রবীন্দ্রনাথঃ আঘাতী বাঙ্গালী, দ্বিতীয় খন্ড, মিত্র এন্ড ঘোষ পাবলিশার্স (প্রাইভেট) লিঃ, কলকাতা, ১৯৯২, পৃঃ ১০১)।
বাঙ্গালী বিধর্মীদের জাতীয় অনুভূতির লক্ষ্যই ছিলো, মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণার সৃষ্টি করা। রবীন্দ্রের নিজ ভাষ্য – ‘হিন্দুতে যতটা না শ্রদ্ধা তার (রবীন্দ্র) ছিল তার চাইতে অনেক বেশি ছিল মুসলিমবিদ্বেষ অর্থাৎ হিন্দুরা যতটা না তাদের নিজ ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তার চাইতে বেশি তাদের ঘৃণাবোধ রয়েছে মুসলমানদের প্রতি। নাউযুবিল্লাহ!
নিরোদ চৌধুরী প্রকৃত ব্যাপারটি উম্মোচন করতে গিয়ে তার নিজ ভাষ্যে আরো বলেছে, বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের মধ্যে বাঙ্গালীর নবহিন্দুত্বের সর্বাত্মক প্রকাশ ঘটেছিলো’ এবং ১৯০৫ সালে রবীন্দ্রের রচিত বন্দনা গীতটির প্রতিপাদ্য ছিল ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে তদানীন্তন পূর্ব বাংলা প্রদেশ তথা আজকের বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের স্বাধীন ও সার্বভৌম সত্ত্বা, পরিচয়, মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের স¤পূর্ণ পরিপন্থী। শতবর্ষ পূর্বে দুই বাংলাকে এক ও অবিভক্ত রাখার লক্ষ্যে রচিত রবীন্দ্রের সে বন্দনা গীত এর মর্মবাণীর উপর বিধর্মী নেতারা তথা ভারতীয় কংগ্রেস পার্টি ও হিন্দু মহাসভার নেতারাই পদাঘাত করে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোর বাইরে রেখে দুই বাংলার সমন্বয়ে একটি স্বাধীন বৃহত্তর বাংলা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে- যেটা এদেশের মুসলমানরা চেয়েছিলো।
বাংলার মুসলমানদের স্বাধীনতা ও উন্নয়নের বিরোধিতা করা ছিলো যে রবীন্দ্রের জন্মগত, প্রকৃতিগত ও মজ্জাগত বিষয়, তারই রচিত বন্দনা গীতটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করা হলো- এটা করে কি এদেশের প্রায় বাংলাদেশের মুসলমানদের অসম্মান করা হলো না?
তাই ‘আমার সোনার বাংলা’ এর পরিবর্তে শতকরা ৯৮ ভাগ লোক মুসলমানদের দেশে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম কর্তৃক নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে লিখিত সুমহান না’ত শরীফ সারাদেশের জাতীয় পাঠ হিসেবে গ্রহণ করা হোক। যার মাধ্যম দিয়ে এই দেশ অবারিত রহমত, সাকীনা, বরকত, দয়া, দান, ইহসান হাছিল করা সম্ভব। সুবহানাল্লাহ।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে